জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কৃষকেরা ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। হাতে কৃষি কার্ড, মনে একটাই আশা, অন্তত কয়েক লিটার ডিজেল পাবেন। কিন্তু সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। মাঠে ধানের চারা লাল হয়ে মরছে, মাটিতে ফাটল ধরছে, আর কৃষক বুকে পাথর নিয়ে ঘরে ঢুকছেন।
এই অবস্থার জন্য দায় কার? যে সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বয়কট উপেক্ষা করে, নিজেরা নিজেরা একটা পাতানো ভোটের নাটক মঞ্চস্থ করে ক্ষমতায় বসেছে, সেই বিএনপি এবং তার তথাকথিত মন্ত্রিসভার কাছে এই প্রশ্নটা এখন সরাসরি করা দরকার।
বিএনপি একটি দল যার জন্ম সেনানিবাসের ভেতরে, জিয়াউর রহমানের হাতে। গণতন্ত্রের সঙ্গে এই দলের সম্পর্ক সবসময়ই লোক দেখানো। ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের যে ইতিহাস এই দল রেখে গেছে, সেটা এই দেশের মানুষ ভোলেনি। আর এবার ক্ষমতায় এসেছে জনরায় ছাড়া, তাই জবাবদিহিতার বালাই তো আরও কম।
কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই কার্ড দেখালে ডিজেল মিলবে। কিন্তু ডিজেলই যদি না থাকে, তাহলে কার্ড দিয়ে কী হবে? কার্ড জমিতে পুঁতলে কি পানি উঠবে? গাছের গোড়ায় ছোঁয়ালে কি সেচ হবে? এই যে ফাঁকা প্রতিশ্রুতির রাজনীতি, এটাই বিএনপির চিরচেনা কায়দা। মানুষকে একটা কাগজ দাও, বলো সমাধান হয়ে গেছে, আর পেছনে বসে তালি দাও।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, “আশা করি সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে।” এই “আশা করি” শুনতে শুনতে কৃষকের ধান মরে যাচ্ছে। আশার কথা শুনিয়ে পেট ভরে না, জমিতে পানি পড়ে না। ফুয়েল কার্ডের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে, দুইশো জন করেছেনও, কিন্তু ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত না করে এই কার্ডব্যবস্থা আসলে একটা লোক দেখানো ব্যবস্থাপনার নাটক ছাড়া আর কিছু না।
শুধু কৃষক না, বাস যাত্রীরাও ভুগছেন। যাত্রা বাতিল হচ্ছে, মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। একটা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এতটা ভেঙে পড়ে আছে যে ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল মিলছে না, এটা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি না। এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা।
যে সরকার বৈধভাবে ক্ষমতায় আসেনি, যাদের পেছনে জনগণের সমর্থন নেই, তারা দেশ চালাবে কীভাবে? ক্ষমতা দখল করা আর দেশ পরিচালনা করা এক জিনিস না। সরিষাবাড়ীর কৃষকের শুকনো মাঠ আর লাল হয়ে যাওয়া ধানের চারা এই সরকারের অযোগ্যতার সবচেয়ে সৎ সাক্ষী।

