সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারভিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন গত দুই মাসে সরকার প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। কিন্তু কোন খাতে এই টাকা ব্যয় হবে সে ব্যাপারে কোন পরিষ্কার ব্যাখ্যা তিনি দেননি। দেশে চলমান হাম মহামারী, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তথ্য উপদেষ্টা শুধু আশ্বস্ত করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন। কিন্তু জনগণের টাকা কোথায় ব্যয় হবে, কি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে জানার অধিকার জনগণের আছে।
রাষ্ট্রের ব্যয় মূলত আসে রাজস্ব আয় থেকে। কিন্তু ইউনুসের আমল থেকে দেশের রাজস্ব আহরনের মাত্রা তলানীতে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের ঘাটতি ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশে রেকর্ড। এই ঘাটতি পূরণ করতেই দেদারসে ঋণ নিচ্ছে বিএনপি সরকার। এতে করে বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি, বাড়ছে সরকারী ঋণের বোঝা, ব্যাংকে দেখা যাচ্ছে তারল্য সংকট।
এই বিরাট রাজস্ব ঘাটতির মূল কারণ হলো অবৈধ ইউনুস সরকারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা এবং ব্যবসাবাণিজ্য ধ্বংস করা। আমদানি শুল্ক আদায়েই ঘাটতি আছে ২২ হাজার কোটি টাকা, যার মূলে আছে ২০২৪ এর আগস্টের পর থেকে দেশে আমদানী কমানোর নীতি। জ্বালানি সংকটও এই ঘাটতির পেছনে একটি কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অথচ জ্বালানী তেলের জন্য দেশজুড়ে হাহাকারকে সরকারের তথ্য উপদেষ্টা অযাচিত ভীতি বলে উল্লেখ করে তিনি জানান দেশে জ্বালানী তেলের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। এর আগে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন তেলের রেকর্ড মজুদ আছে। অথচ ব্ল্যাক মার্কেটে তেল বিক্রি তারা বন্ধ করতে পারছেন না, পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের যথেষ্ট সরবরাহও নিশ্চিত করতে পারছেন না।
এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে সরকার নিজেই চায়না জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হোক, দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসুক। তারা চান বাংলাদেশের পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাক। বিএনপি সরকার মূলত ইউনুস সরকারের অসৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে, আওয়ামী লীগ-বিহীন নির্বাচনের নামে প্রহসনমুলক আসন ভাগাভাগি করে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে বিএনপি-জামাত-ইউনুস-এনসিপি।

