জ্বালানি নেই, ট্রাক নেই, আর ভোমরার ব্যবসায়ীদের কপালে শুধু লোকসান

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের একজন আমদানিকারক রিপন হোসেন বললেন, উত্তরবঙ্গে পাঠানো অর্ধেক ট্রাক মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে। তেল নেই। কাঁচামরিচ, আদা, ফল রাস্তায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। যেটুকু গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে, সেটার জন্যও কেজিতে পাঁচ-ছয় টাকা কেটে নিচ্ছে ক্রেতারা। ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বললেন, ঢাকায় এক ট্রাক মাল পাঠাতে আগে লাগত পঁচিশ-ছাব্বিশ হাজার টাকা, এখন লাগছে ত্রিশ থেকে সাঁইত্রিশ হাজার। ট্রাকচালক সুমন হোসেনের কথাটা আরও বেশি মাটিতে নামিয়ে দেয়, আগে দুই দিনে একটা ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন সপ্তাহেও একটা হয় না।

এই হলো ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের একটা সীমান্ত বন্দরের ছবি। আর এই দেশ চালাচ্ছে বিএনপি, যারা গত ফেব্রুয়ারির বারো তারিখে একটা নির্বাচন করেছে যেটাকে নির্বাচন বলতে গেলে শব্দটার প্রতিই অবিচার করা হয়। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভোটে ছিল না। মানুষ বয়কট করেছিল। নিজেরা মাঠ খালি রেখে নিজেরাই ভোট দিয়ে নিজেরাই জিতে এখন মন্ত্রিত্ব করছে। এই সরকারের বৈধতার প্রশ্ন তোলার আগেই তারা দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিচ্ছে, শাসন মানে কী।

জ্বালানি সংকট একটা দেশ পরিচালনার সবচেয়ে প্রাথমিক ব্যর্থতার জায়গা। ডিজেল না থাকলে ট্রাক চলে না, ট্রাক না চললে পণ্য পৌঁছায় না, পণ্য না পৌঁছালে ব্যবসা ডোবে, ব্যবসা ডুবলে মানুষের জীবিকা যায়। এই সহজ শৃঙ্খলটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হওয়া লাগে না। কিন্তু বিএনপির মন্ত্রী পরিষদ দেখে মনে হচ্ছে তাদের কাছে এটাও বোধের বাইরে। সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইলে তেল নেই, মানুষ পাম্পে রাত থেকে লাইন দিয়ে দুপুর পর্যন্ত বসে আছে, আর রাজধানীতে তাদের মনোনীত মন্ত্রীরা কী নিয়ে ব্যস্ত সেটা জানা নেই।

২০০১ থেকে ২০০৬, সেই বিএনপি আমলের কথা যারা মনে রেখেছেন তারা এখন একটা অদ্ভুত পরিচিত অনুভূতির মধ্যে আছেন। সেই একই গল্প ফিরে এসেছে। জ্বালানি সংকট, পণ্য সরবরাহে বিশৃঙ্খলা, ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস, আর সরকারের তরফ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। পার্থক্য একটাই, তখন অন্তত একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে জেতার একটা দাবি ছিল। এখন সেটুকুও নেই।

বিএনপির জন্মটাই একটা সেনানিবাসের ছায়ায়, জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া একটি দল যার রাজনীতির ভিত্তিপ্রস্তর গণতন্ত্রে নয়, ক্ষমতা দখলে। সেই মানসিকতার দল এখন একটা ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়া নির্বাচনের পর ক্ষমতায় বসে আছে। ভোমরার ব্যবসায়ীরা যে লোকসানের কথা বলছেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ না, এটা একটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার সরাসরি প্রতিফলন।

ভোমরা স্থলবন্দর এখন পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজ হয়েছে, এই সম্ভাবনার কথা বলতে বলতেই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা থেমে যান এবং বলেন, জ্বালানি সংকট এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। কথাটা ছোট্ট কিন্তু ভেতরে অনেক কষ্ট আছে। একটা বন্দর বড় হওয়ার মুহূর্তে তাকে থামিয়ে দিচ্ছে একটা সরকারের অব্যবস্থাপনা।

ট্রাকচালক আশিকুর রহমান বললেন, আগে চট্টগ্রাম ঘুরে আসতে একশো আশি লিটার লাগত, এখন থেমে থেমে তেল নিতে নিতে দুইশো দশ লিটার লাগছে। অর্থাৎ বাড়তি খরচ, বাড়তি সময়, বাড়তি কষ্ট। খাওয়া নেই, ঘুম নেই, লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দিন পার। এই মানুষগুলোর কথা কি একবারও ভাবার সময় হয়েছে সরকারের?

বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬-এর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, হাওয়া ভবনের ছায়া আর ব্যবসায়ী নির্যাতনের সেই অধ্যায় দেশ ভুলে যায়নি। এবার পার্থক্য হলো, তারা জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই ফিরেছে। মানুষ ভোট দেয়নি, বড় দলগুলো মাঠে ছিল না, তবু তারা চেয়ারে বসে আছে। আর ভোমরার রাস্তায় তেলশূন্য ট্রাক দাঁড়িয়ে, কাঁচামাল পচছে, ব্যবসায়ীরা হিসাব মেলাতে পারছেন না।

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের একজন আমদানিকারক রিপন হোসেন বললেন, উত্তরবঙ্গে পাঠানো অর্ধেক ট্রাক মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে। তেল নেই। কাঁচামরিচ, আদা, ফল রাস্তায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। যেটুকু গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে, সেটার জন্যও কেজিতে পাঁচ-ছয় টাকা কেটে নিচ্ছে ক্রেতারা। ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বললেন, ঢাকায় এক ট্রাক মাল পাঠাতে আগে লাগত পঁচিশ-ছাব্বিশ হাজার টাকা, এখন লাগছে ত্রিশ থেকে সাঁইত্রিশ হাজার। ট্রাকচালক সুমন হোসেনের কথাটা আরও বেশি মাটিতে নামিয়ে দেয়, আগে দুই দিনে একটা ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন সপ্তাহেও একটা হয় না।

এই হলো ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের একটা সীমান্ত বন্দরের ছবি। আর এই দেশ চালাচ্ছে বিএনপি, যারা গত ফেব্রুয়ারির বারো তারিখে একটা নির্বাচন করেছে যেটাকে নির্বাচন বলতে গেলে শব্দটার প্রতিই অবিচার করা হয়। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভোটে ছিল না। মানুষ বয়কট করেছিল। নিজেরা মাঠ খালি রেখে নিজেরাই ভোট দিয়ে নিজেরাই জিতে এখন মন্ত্রিত্ব করছে। এই সরকারের বৈধতার প্রশ্ন তোলার আগেই তারা দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিচ্ছে, শাসন মানে কী।

জ্বালানি সংকট একটা দেশ পরিচালনার সবচেয়ে প্রাথমিক ব্যর্থতার জায়গা। ডিজেল না থাকলে ট্রাক চলে না, ট্রাক না চললে পণ্য পৌঁছায় না, পণ্য না পৌঁছালে ব্যবসা ডোবে, ব্যবসা ডুবলে মানুষের জীবিকা যায়। এই সহজ শৃঙ্খলটা বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ হওয়া লাগে না। কিন্তু বিএনপির মন্ত্রী পরিষদ দেখে মনে হচ্ছে তাদের কাছে এটাও বোধের বাইরে। সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইলে তেল নেই, মানুষ পাম্পে রাত থেকে লাইন দিয়ে দুপুর পর্যন্ত বসে আছে, আর রাজধানীতে তাদের মনোনীত মন্ত্রীরা কী নিয়ে ব্যস্ত সেটা জানা নেই।

২০০১ থেকে ২০০৬, সেই বিএনপি আমলের কথা যারা মনে রেখেছেন তারা এখন একটা অদ্ভুত পরিচিত অনুভূতির মধ্যে আছেন। সেই একই গল্প ফিরে এসেছে। জ্বালানি সংকট, পণ্য সরবরাহে বিশৃঙ্খলা, ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস, আর সরকারের তরফ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। পার্থক্য একটাই, তখন অন্তত একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে জেতার একটা দাবি ছিল। এখন সেটুকুও নেই।

বিএনপির জন্মটাই একটা সেনানিবাসের ছায়ায়, জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া একটি দল যার রাজনীতির ভিত্তিপ্রস্তর গণতন্ত্রে নয়, ক্ষমতা দখলে। সেই মানসিকতার দল এখন একটা ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়া নির্বাচনের পর ক্ষমতায় বসে আছে। ভোমরার ব্যবসায়ীরা যে লোকসানের কথা বলছেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ না, এটা একটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার সরাসরি প্রতিফলন।

ভোমরা স্থলবন্দর এখন পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজ হয়েছে, এই সম্ভাবনার কথা বলতে বলতেই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা থেমে যান এবং বলেন, জ্বালানি সংকট এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। কথাটা ছোট্ট কিন্তু ভেতরে অনেক কষ্ট আছে। একটা বন্দর বড় হওয়ার মুহূর্তে তাকে থামিয়ে দিচ্ছে একটা সরকারের অব্যবস্থাপনা।

ট্রাকচালক আশিকুর রহমান বললেন, আগে চট্টগ্রাম ঘুরে আসতে একশো আশি লিটার লাগত, এখন থেমে থেমে তেল নিতে নিতে দুইশো দশ লিটার লাগছে। অর্থাৎ বাড়তি খরচ, বাড়তি সময়, বাড়তি কষ্ট। খাওয়া নেই, ঘুম নেই, লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দিন পার। এই মানুষগুলোর কথা কি একবারও ভাবার সময় হয়েছে সরকারের?

বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬-এর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, হাওয়া ভবনের ছায়া আর ব্যবসায়ী নির্যাতনের সেই অধ্যায় দেশ ভুলে যায়নি। এবার পার্থক্য হলো, তারা জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই ফিরেছে। মানুষ ভোট দেয়নি, বড় দলগুলো মাঠে ছিল না, তবু তারা চেয়ারে বসে আছে। আর ভোমরার রাস্তায় তেলশূন্য ট্রাক দাঁড়িয়ে, কাঁচামাল পচছে, ব্যবসায়ীরা হিসাব মেলাতে পারছেন না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ