এক কোটি টাকার রাস্তা, এক জীবনের ভিটা

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মানুষগুলোর একটা বিশেষ সুবিধা আছে। তারা যা-ই করুন না কেন, তাদের “ভালো মানুষ” ট্যাগটা সহজে খসে পড়ে না। বছরের পর বছর ধরে গড়া একটা ভাবমূর্তি থাকে, সেই ভাবমূর্তির আড়ালে অনেক কিছু ঢাকা পড়ে যায়। আদিলুর রহমান খানের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল, অন্তত কিছুদিন।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলোঘর ইউনিয়নের ভূঁইয়াপাড়ায় আদিলুরের পৈতৃক বাড়ি। সেখানে এখন তার পরিবারের কেউ থাকেন না। বাড়িটা মূলত পড়েই আছে। কিন্তু সেই ফাঁকা বাড়িতে ঢোকার জন্য রাস্তা লাগবে, চওড়া রাস্তা, গাড়ি নিয়ে ঢোকার মতো রাস্তা। এটুকু তার চাই। আর সেই চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে তিনি যা করেছেন সেটা পড়লে মাথায় একটাই প্রশ্ন আসে, মানবাধিকারের এই লোকটা আসলে কার অধিকারের কথা বলতেন এতদিন?

ষোলোঘর বাসস্ট্যান্ড থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত আগে থেকেই একটা ১০ ফুটের রাস্তা ছিল। স্থানীয়রা সেই রাস্তায় চলাফেরা করতেন। সেই রাস্তায় কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু উপদেষ্টা হওয়ার পর আদিলুর আরেকটা রাস্তা বানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। সরকারি প্রকল্পের অর্থে। প্রায় এক কোটি টাকায় ৪০২ মিটার রাস্তা। কাগজে অনুমোদন ১২ ফুটের, কিন্তু বাস্তবে কোথাও ১৬, কোথাও ১৮, কোথাও আবার ২০ ফুট পর্যন্ত বানানো হয়েছে।

এই দেশে যেখানে রাস্তা হওয়ার কথা সেখানে হয় না। হলেও ২০ ফুটের জায়গায় ৮ ফুট হয়। আর যেখানে দরকার নেই সেখানে উপদেষ্টার বাড়িমুখী ১৬ ফুটের রাস্তা হয়ে যায়। এটাই ক্ষমতা। এটাই এই দেশের চিরায়ত নিয়ম।

কিন্তু রাস্তা বানাতে গেলে জায়গা লাগে। সেই জায়গার জন্য প্রতিবেশীদের বাড়িঘর ভাঙতে হয়েছে। ভুক্তভোগী রুবেল জানিয়েছেন, তার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আর জেলা প্রশাসনকে ব্যবহার করে সেখানে “সরকারি লিজ সম্পত্তি”র সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী বলেছেন, বাপ-দাদার ভিটায় তার ভাড়াটিয়াদের ভয় দেখিয়ে তাড়ানো হয়েছে, কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, কোনো কথা নেই। সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক সাইনবোর্ড সরিয়ে নিয়েছেন, যেটা নিজেই স্বীকারোক্তি যে গোটা ব্যাপারটা ঠিক ছিল না।

প্রতিবাদ করতে গেলে মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে প্রতিবেশীর বাড়ির ভেতরে। নিজের বাল্যবন্ধুর ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য একটা ব্রিজও বানিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি প্রকল্পের ছায়ায়।

এই মানুষটাই বছরের পর বছর ধরে “অধিকার” নামের একটা সংগঠন চালিয়েছেন। মানুষের অধিকার হরণ হলে কলম ধরেছেন, মাঠে নেমেছেন। সেই আদিলুর রহমান খান উপদেষ্টার চেয়ারে বসে প্রতিবেশীর পৈতৃক ভিটা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন নিজের গাড়ি ঢোকার রাস্তা বানাতে। এই দুটো জিনিস মেলানো যায় না, মেলানোর চেষ্টা করাটাও অর্থহীন।

বাংলাদেশে সুশীল সমাজের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ধোয়া তুলসীপাতা হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। রাষ্ট্রের সমালোচনা করা মানেই নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ, এই ধারণাটা বহু মানুষের মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতা একটা আয়নার মতো কাজ করে। সেই আয়নায় আদিলুর রহমান খানের যে প্রতিচ্ছবি ধরা পড়েছে সেটা তার বক্তৃতার সাথে মেলে না। মানুষ এখন সেটা দেখতে পাচ্ছেন। আর এটাই হয়তো এই গোটা অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মানুষগুলোর একটা বিশেষ সুবিধা আছে। তারা যা-ই করুন না কেন, তাদের “ভালো মানুষ” ট্যাগটা সহজে খসে পড়ে না। বছরের পর বছর ধরে গড়া একটা ভাবমূর্তি থাকে, সেই ভাবমূর্তির আড়ালে অনেক কিছু ঢাকা পড়ে যায়। আদিলুর রহমান খানের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল, অন্তত কিছুদিন।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলোঘর ইউনিয়নের ভূঁইয়াপাড়ায় আদিলুরের পৈতৃক বাড়ি। সেখানে এখন তার পরিবারের কেউ থাকেন না। বাড়িটা মূলত পড়েই আছে। কিন্তু সেই ফাঁকা বাড়িতে ঢোকার জন্য রাস্তা লাগবে, চওড়া রাস্তা, গাড়ি নিয়ে ঢোকার মতো রাস্তা। এটুকু তার চাই। আর সেই চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে তিনি যা করেছেন সেটা পড়লে মাথায় একটাই প্রশ্ন আসে, মানবাধিকারের এই লোকটা আসলে কার অধিকারের কথা বলতেন এতদিন?

ষোলোঘর বাসস্ট্যান্ড থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত আগে থেকেই একটা ১০ ফুটের রাস্তা ছিল। স্থানীয়রা সেই রাস্তায় চলাফেরা করতেন। সেই রাস্তায় কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু উপদেষ্টা হওয়ার পর আদিলুর আরেকটা রাস্তা বানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। সরকারি প্রকল্পের অর্থে। প্রায় এক কোটি টাকায় ৪০২ মিটার রাস্তা। কাগজে অনুমোদন ১২ ফুটের, কিন্তু বাস্তবে কোথাও ১৬, কোথাও ১৮, কোথাও আবার ২০ ফুট পর্যন্ত বানানো হয়েছে।

এই দেশে যেখানে রাস্তা হওয়ার কথা সেখানে হয় না। হলেও ২০ ফুটের জায়গায় ৮ ফুট হয়। আর যেখানে দরকার নেই সেখানে উপদেষ্টার বাড়িমুখী ১৬ ফুটের রাস্তা হয়ে যায়। এটাই ক্ষমতা। এটাই এই দেশের চিরায়ত নিয়ম।

কিন্তু রাস্তা বানাতে গেলে জায়গা লাগে। সেই জায়গার জন্য প্রতিবেশীদের বাড়িঘর ভাঙতে হয়েছে। ভুক্তভোগী রুবেল জানিয়েছেন, তার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আর জেলা প্রশাসনকে ব্যবহার করে সেখানে “সরকারি লিজ সম্পত্তি”র সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেক ভুক্তভোগী বলেছেন, বাপ-দাদার ভিটায় তার ভাড়াটিয়াদের ভয় দেখিয়ে তাড়ানো হয়েছে, কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, কোনো কথা নেই। সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক সাইনবোর্ড সরিয়ে নিয়েছেন, যেটা নিজেই স্বীকারোক্তি যে গোটা ব্যাপারটা ঠিক ছিল না।

প্রতিবাদ করতে গেলে মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে প্রতিবেশীর বাড়ির ভেতরে। নিজের বাল্যবন্ধুর ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য একটা ব্রিজও বানিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি প্রকল্পের ছায়ায়।

এই মানুষটাই বছরের পর বছর ধরে “অধিকার” নামের একটা সংগঠন চালিয়েছেন। মানুষের অধিকার হরণ হলে কলম ধরেছেন, মাঠে নেমেছেন। সেই আদিলুর রহমান খান উপদেষ্টার চেয়ারে বসে প্রতিবেশীর পৈতৃক ভিটা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন নিজের গাড়ি ঢোকার রাস্তা বানাতে। এই দুটো জিনিস মেলানো যায় না, মেলানোর চেষ্টা করাটাও অর্থহীন।

বাংলাদেশে সুশীল সমাজের একটা বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ধোয়া তুলসীপাতা হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। রাষ্ট্রের সমালোচনা করা মানেই নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ, এই ধারণাটা বহু মানুষের মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতা একটা আয়নার মতো কাজ করে। সেই আয়নায় আদিলুর রহমান খানের যে প্রতিচ্ছবি ধরা পড়েছে সেটা তার বক্তৃতার সাথে মেলে না। মানুষ এখন সেটা দেখতে পাচ্ছেন। আর এটাই হয়তো এই গোটা অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ