কুমিল্লা জেলার ঠাকুরপাড়া কালীগাছ তলায় শনি পূজা চলাকালীন সময় মন্দির প্রাঙ্গণে উগ্রবাদীদের বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের হামলার পেছনে কি সংগঠিত উগ্রবাদী মানসিকতা কাজ করছে?
সম্প্রতি “ফারাবী” নামের এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে হিন্দু ধর্মকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া এমন বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়লেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে সমালোচনা করছেন অনেকেই।
স্থানীয়দের দাবি, এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের পরপরই মন্দিরে বোমা হামলা এবং পুরোহিতের ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। এখানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। কিন্তু মন্দিরে হামলা, ধর্মীয় ব্যক্তির ওপর আক্রমণ এবং সামাজিক মাধ্যমে ধর্মবিদ্বেষী উস্কানি বারবার সামনে আসায় প্রশ্ন জাগছে—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কি সত্যিই নিশ্চিত করা হচ্ছে ?
পুরোনো উগ্রবাদী চক্রগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। জেল থেকে মুক্তি পাওয়া কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং সামাজিক মাধ্যমে ধর্মবিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে পরিষ্কারভাবে বলা যায়, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। বারবার হামলা, উস্কানি ও আতঙ্কের ঘটনা প্রমাণ করছে—সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।

