বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) বিকালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই সমাবেশ হয়, যেখানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছে জামায়াত।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই বিক্ষোভকে ‘লোক দেখানো ডামি’ বলে আখ্যায়িত করছেন। তারা বলছেন, খামেনি হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে জামায়াতের তৎপরতা সীমিত ছিল নয়াপল্টন এলাকায় ঘুরাঘুরিতে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিরুদ্ধে কোনো দাবির জন্য দূতাবাস অভিমুখে রওনা হওয়ার মতো তৎপরতা এবার দেখা যায়নি, যা জামায়াতকে আমেরিকার ‘আজ্ঞাবহ’ দল হিসেবে চিহ্নিত করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকার সঙ্গে আঁতাত করেই জামায়াত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মাধ্যমে দেশে ‘মবের রাজত্ব’ কায়েম করতে সহায়তা করেছে।
ভোটের আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকটি জামায়াতের বসুন্ধরা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দূতাবাসের পক্ষ থেকে পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কাউন্সেলর এরিক গিলম্যান, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার মোনিকা শাই, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নির্বাচন, রাষ্ট্র সংস্কার, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে এটিকে ‘আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, এই বিক্ষোভকে অনেকে আমেরিকার প্রভাবের ছায়ায় দেখছেন, যা জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে বিতর্ক চলমান, যেখানে জামায়াতকে ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

