গত নয় মাসে সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ৯৭৯ জন নারী কর্মী। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকে কর্মস্থলে ধর্ষণ আর যৌন নির্যাতনের শিকার। কেউ কেউ দেশে নেমেছেন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে। পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ঘরে আটকে রেখেছিল কফিলরা। দিনে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা খাটানো হয়েছে, আর ফেরত আসা গৃহকর্মীদের ৯৪ শতাংশ নিয়মিত নির্যাতনের কথা বলেছেন। যাঁরা সাহস করে দূতাবাসের সেফ হোমে বা স্থানীয় পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন, তাঁদের নামে উল্টো চুরির মামলা ঠুকে দিয়েছে কফিলরা। বিচার চাইতে গিয়ে অপরাধী বনে গেছেন ভুক্তভোগীই। ফেরার পর আইনি সহায়তা পেয়েছেন, এমন একজনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামাতে, দুই দলই নৈতিকতা, ধর্ম আর জনগণের কল্যাণের ফুলঝুরি ছোটাতে ওস্তাদ। অথচ রেমিট্যান্সের টাকায় যে অর্থনীতির চাকা ঘোরে, সেই টাকা পাঠাতে গিয়ে নারীরা ধর্ষিত হচ্ছেন, আর রাষ্ট্র তাঁকিয়ে তাঁকিয়ে। ফিলিপাইন বা ইন্দোনেশিয়ার নারীরা ডরমিটরিতে নিরাপদে কাজ করেন, আর বাংলাদেশের মেয়েদের পাঠানো হয় একা, কোনো একটা অচেনা ঘরের ভেতর, কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই। চুক্তি দুর্বল, রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহি নেই, আর এই দুটো ঠিক করার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের মুখে ঝুলছে তালা।
সৌদি সরকারকে একটা কূটনৈতিক চিঠি পাঠাতেও কি ক্ষমতাসীনদের হাত কাঁপে? বিমানবন্দরে নেমে এই নারীদের জন্য একটা চিকিৎসা, একটা কাউন্সেলিং, একটা আইনজীবীও কি জোটেনি? বয়ানবাজি করতেই কেবল নারীর মর্যাদার আলাপ তোলে এই দুই দল। রেমিট্যান্স যোদ্ধা উপাধি দেওয়া সহজ, তাঁদের রক্ষা করাটাই যে কঠিন, আর সেই কঠিন কাজটা করার আশেপাশেও নেই ক্ষমতাসীনরা।

