শৈশবের রক্তে লেখা এক নির্মম ইতিহাস: বঙ্গবন্ধুর সন্তান হওয়াই কি ছিল নিষ্পাপ রাসেলের অপরাধ?

ফরহাদ শিকদার
১৮ অক্টোবর ২০২৬—জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কনিষ্ঠ সন্তান শহীদ শেখ রাসেলের ৬২তম জন্মবার্ষিকী। একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এই বিশেষ দিনে আমার কলম স্তব্ধ হয়ে আসে, হৃদয় উদ্বেলিত হয় গভীর শোক ও বেদনায়। আজ যখন চারপাশের কোলাহল আর জীবনের স্বাভাবিক গতিধারা দেখি, তখন বারবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সেই নিষ্পাপ, হাসিখুশি ১০ বছরের শিশুটির করুণ মুখচ্ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেল কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশীদার ছিলেন না, কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অলিগলির খবরও তাঁর জানা ছিল না। তাঁর পৃথিবীটা ছিল অত্যন্ত সহজ ও সুন্দর—স্কুলের পড়ালেখা, শিক্ষক ও বন্ধুদের সান্নিধ্য, মায়ের স্নেহের পরশ আর বাবাকে একনজর কাছে পাওয়ার ব্যাকুল আকুলতা। অথচ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকদের বুলেটের সামনে থমকে গিয়েছিল তাঁর শৈশব, তাঁর সমস্ত স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অধিকার।

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে এমন নির্মম, অমানবিক ও বীভৎস ঘটনা খুব কমই দেখা যায়, যেখানে একটি অবুঝ শিশুকে এভাবে জীবন দিতে হয়েছে। শেখ রাসেলের একমাত্র পরিচয় ছিল, তিনি ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক এবং আপসহীন নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তান। আর কেবল এই পরিচয়ের কারণেই তাঁকে ঘাতকের বুলেটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর রক্তকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যে জঘন্য ছক ঘাতকেরা কষেছিল, শেখ রাসেল ছিলেন সেই ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সবচেয়ে বড় ও করুণ শিকার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপসহীন সংগ্রামের এক প্রদীপ্ত প্রতীক। বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি কখনো বিন্দুমাত্র আপস করেননি, জীবনের সোনালী সময়গুলো কাটিয়েছেন নির্জন কারাগারে। যে মহান নেতা স্বাধীনতার একক ঘোষক হিসেবে বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন, তাঁর পুরো পরিবারকেই চিরকাল এক চরম ত্যাগ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শেখ রাসেলের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর, যখন দেশজুড়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করছে। জন্মের পর থেকেই শিশু রাসেল বাবাকে খুব কম সময় কাছে পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর মহাকাব্যিক গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে এক চরম হৃদয়বিদারক সত্য। ছোট্ট রাসেল যখন কারাগারে পিতাকে দেখতে যেতেন, তখন বাবার কাছ থেকে ফিরে আসার সময় তাঁর যে বুকভাঙা কষ্ট হতো, তা যেকোনো সংবেদনশীল মানুষকে কাঁদাবে। রাসেল দূর থেকে ‘আব্বা, আব্বা’ বলে চিৎকার করতেন এবং কারাগারকেই অবুঝের মতো ‘আব্বার বাড়ি’ মনে করতেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের কাছেও তাঁর এক আকুল মিনতি থাকত—তিনি তাঁর বড় বোন শেখ হাসিনাকে বলতেন, “তোমার আব্বার কাছে আমাকে একটু যেতে দিবা?” কত বড় অদম্য পিতৃস্নেহের আকুতি থাকলে একটি অবুঝ শিশু এমন বাক্য উচ্চারণ করতে পারে! বঙ্গবন্ধু যেমন একদিকে ছিলেন কোটি বাঙালির মহান নায়ক ও অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক, অন্যদিকে এই ছোট্ট রাসেলটির কাছে তিনি ছিলেন শুধু তাঁর ভালোবাসার ও শ্রদ্ধার প্রিয় বাবা। যে শিশুটি কেবল তাঁর বাবার একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকত, যে শিশুটি স্কুলে সহপাঠীদের সঙ্গে টিফিন ভাগ করে খেত, শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করত আর নিজের পোষা পায়রাগুলোকে নিয়ে আনন্দ খুঁজে পেত, সে কীভাবে রাজনৈতিক সমীকরণের শত্রু হতে পারে?

১৫ আগস্টের কালরাতে বিপথগামী খুনিরা যখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে হামলা চালায়, তখন রক্তে ভেসে গিয়েছিল পুরো গৃহ। সেই নরকীয় পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত শিশুটি কেবল চেয়েছিল তাঁর মায়ের কোল, চেয়েছিল একটু বাঁচার পথ। ঘাতকেরা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিল যে তাঁকে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে, কিন্তু সেই আশ্বাস ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য ও নিষ্ঠুর মিথ্যা। যে মায়ের বুকে সে নিরাপত্তা খুঁজছিল, সেই মায়ের রক্তাক্ত লাশের কাছেই ১০ বছরের নিষ্পাপ রাসেলকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। কোনো মানবতা, কোনো বিবেক, কোনো আদর্শ কিংবা কোনো রাজনৈতিক দর্শন একটি শিশুর হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না। মতাদর্শের পার্থক্য থাকতে পারে, রাজনৈতিক সংঘাত বা ক্ষমতার লড়াই থাকতে পারে, কিন্তু সভ্য সমাজে শিশুর জীবন সর্বদাই রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র। শেখ রাসেলের এই করুণ মৃত্যু কোনো ব্যক্তিগত ভুল বা অপরাধের ফল ছিল না, বরং তাঁর একমাত্র অপরাধ ছিল—তিনি বাংলাদেশের রূপকার ও স্বাধীনতার ঘোষকের রক্ত বহন করছিলেন। ঘাতকেরা জানত, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও রক্তের উত্তরাধিকার এই বাংলায় এক চিরন্তন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে, আর তাই তারা শিশু রাসেলকেও রেহাই দেয়নি।

আজ শেখ রাসেলের ৬২তম জন্মবার্ষিকীতে প্রবীণ সাংবাদিক ও একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমাদের জাতীয় বিবেকের কাছে একটি চিরন্তন প্রশ্ন রেখে যেতে চাই। রাসেলের এই অসমাপ্ত জীবন কি আমাদের শেখায় না যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কতটা অন্ধ এবং ভয়াবহ হতে পারে? শেখ রাসেল শুধু একটি ইতিহাসের নাম নয়, শেখ রাসেল হলো বাংলাদেশের বিবেকের ওপর এক গভীর ক্ষত এবং অপূরণীয় শূন্যতা। আজ রাসেলের জন্মদিনে তাঁকে পজিটিভ ও মানবিকতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁর নিষ্পাপ চোখ দুটি, তাঁর মিষ্টি হাসি আর তাঁর সততা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শৈশবের সেই সর্বজনীন পবিত্রতার কথা, যা প্রতিটি শিশুর অধিকার। শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে হয়তো আজ দেশের জন্য অনেক বড় অবদান রাখতে পারতেন, কিন্তু ঘাতকেরা তাঁর সেই সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিয়েছে। তবে ঘাতকেরা রাসেলের শরীরকে বিলুপ্ত করতে পারলেও তাঁর স্মৃতি ও অনুভূতির স্থানটিকে বাঙালি জাতির হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। আজও বাঙালির প্রতিটি অশ্রুবিন্দুতে, রাজনৈতিক সচেতনতায় এবং মানবিক প্রতিবাদের আহ্বানে শহীদ শেখ রাসেল চির অম্লান, প্রদীপ্ত ও অমর হয়ে আছেন।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

ফরহাদ শিকদার
১৮ অক্টোবর ২০২৬—জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কনিষ্ঠ সন্তান শহীদ শেখ রাসেলের ৬২তম জন্মবার্ষিকী। একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এই বিশেষ দিনে আমার কলম স্তব্ধ হয়ে আসে, হৃদয় উদ্বেলিত হয় গভীর শোক ও বেদনায়। আজ যখন চারপাশের কোলাহল আর জীবনের স্বাভাবিক গতিধারা দেখি, তখন বারবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সেই নিষ্পাপ, হাসিখুশি ১০ বছরের শিশুটির করুণ মুখচ্ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেল কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশীদার ছিলেন না, কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অলিগলির খবরও তাঁর জানা ছিল না। তাঁর পৃথিবীটা ছিল অত্যন্ত সহজ ও সুন্দর—স্কুলের পড়ালেখা, শিক্ষক ও বন্ধুদের সান্নিধ্য, মায়ের স্নেহের পরশ আর বাবাকে একনজর কাছে পাওয়ার ব্যাকুল আকুলতা। অথচ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকদের বুলেটের সামনে থমকে গিয়েছিল তাঁর শৈশব, তাঁর সমস্ত স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অধিকার।

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে এমন নির্মম, অমানবিক ও বীভৎস ঘটনা খুব কমই দেখা যায়, যেখানে একটি অবুঝ শিশুকে এভাবে জীবন দিতে হয়েছে। শেখ রাসেলের একমাত্র পরিচয় ছিল, তিনি ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক এবং আপসহীন নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তান। আর কেবল এই পরিচয়ের কারণেই তাঁকে ঘাতকের বুলেটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর রক্তকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যে জঘন্য ছক ঘাতকেরা কষেছিল, শেখ রাসেল ছিলেন সেই ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সবচেয়ে বড় ও করুণ শিকার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপসহীন সংগ্রামের এক প্রদীপ্ত প্রতীক। বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি কখনো বিন্দুমাত্র আপস করেননি, জীবনের সোনালী সময়গুলো কাটিয়েছেন নির্জন কারাগারে। যে মহান নেতা স্বাধীনতার একক ঘোষক হিসেবে বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছিলেন, তাঁর পুরো পরিবারকেই চিরকাল এক চরম ত্যাগ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শেখ রাসেলের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর, যখন দেশজুড়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করছে। জন্মের পর থেকেই শিশু রাসেল বাবাকে খুব কম সময় কাছে পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর মহাকাব্যিক গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে এক চরম হৃদয়বিদারক সত্য। ছোট্ট রাসেল যখন কারাগারে পিতাকে দেখতে যেতেন, তখন বাবার কাছ থেকে ফিরে আসার সময় তাঁর যে বুকভাঙা কষ্ট হতো, তা যেকোনো সংবেদনশীল মানুষকে কাঁদাবে। রাসেল দূর থেকে ‘আব্বা, আব্বা’ বলে চিৎকার করতেন এবং কারাগারকেই অবুঝের মতো ‘আব্বার বাড়ি’ মনে করতেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের কাছেও তাঁর এক আকুল মিনতি থাকত—তিনি তাঁর বড় বোন শেখ হাসিনাকে বলতেন, “তোমার আব্বার কাছে আমাকে একটু যেতে দিবা?” কত বড় অদম্য পিতৃস্নেহের আকুতি থাকলে একটি অবুঝ শিশু এমন বাক্য উচ্চারণ করতে পারে! বঙ্গবন্ধু যেমন একদিকে ছিলেন কোটি বাঙালির মহান নায়ক ও অবিসংবাদিত রাষ্ট্রনায়ক, অন্যদিকে এই ছোট্ট রাসেলটির কাছে তিনি ছিলেন শুধু তাঁর ভালোবাসার ও শ্রদ্ধার প্রিয় বাবা। যে শিশুটি কেবল তাঁর বাবার একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকত, যে শিশুটি স্কুলে সহপাঠীদের সঙ্গে টিফিন ভাগ করে খেত, শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করত আর নিজের পোষা পায়রাগুলোকে নিয়ে আনন্দ খুঁজে পেত, সে কীভাবে রাজনৈতিক সমীকরণের শত্রু হতে পারে?

১৫ আগস্টের কালরাতে বিপথগামী খুনিরা যখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে হামলা চালায়, তখন রক্তে ভেসে গিয়েছিল পুরো গৃহ। সেই নরকীয় পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত শিশুটি কেবল চেয়েছিল তাঁর মায়ের কোল, চেয়েছিল একটু বাঁচার পথ। ঘাতকেরা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিল যে তাঁকে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে, কিন্তু সেই আশ্বাস ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য ও নিষ্ঠুর মিথ্যা। যে মায়ের বুকে সে নিরাপত্তা খুঁজছিল, সেই মায়ের রক্তাক্ত লাশের কাছেই ১০ বছরের নিষ্পাপ রাসেলকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। কোনো মানবতা, কোনো বিবেক, কোনো আদর্শ কিংবা কোনো রাজনৈতিক দর্শন একটি শিশুর হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না। মতাদর্শের পার্থক্য থাকতে পারে, রাজনৈতিক সংঘাত বা ক্ষমতার লড়াই থাকতে পারে, কিন্তু সভ্য সমাজে শিশুর জীবন সর্বদাই রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র। শেখ রাসেলের এই করুণ মৃত্যু কোনো ব্যক্তিগত ভুল বা অপরাধের ফল ছিল না, বরং তাঁর একমাত্র অপরাধ ছিল—তিনি বাংলাদেশের রূপকার ও স্বাধীনতার ঘোষকের রক্ত বহন করছিলেন। ঘাতকেরা জানত, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও রক্তের উত্তরাধিকার এই বাংলায় এক চিরন্তন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে, আর তাই তারা শিশু রাসেলকেও রেহাই দেয়নি।

আজ শেখ রাসেলের ৬২তম জন্মবার্ষিকীতে প্রবীণ সাংবাদিক ও একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমাদের জাতীয় বিবেকের কাছে একটি চিরন্তন প্রশ্ন রেখে যেতে চাই। রাসেলের এই অসমাপ্ত জীবন কি আমাদের শেখায় না যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কতটা অন্ধ এবং ভয়াবহ হতে পারে? শেখ রাসেল শুধু একটি ইতিহাসের নাম নয়, শেখ রাসেল হলো বাংলাদেশের বিবেকের ওপর এক গভীর ক্ষত এবং অপূরণীয় শূন্যতা। আজ রাসেলের জন্মদিনে তাঁকে পজিটিভ ও মানবিকতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁর নিষ্পাপ চোখ দুটি, তাঁর মিষ্টি হাসি আর তাঁর সততা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শৈশবের সেই সর্বজনীন পবিত্রতার কথা, যা প্রতিটি শিশুর অধিকার। শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে হয়তো আজ দেশের জন্য অনেক বড় অবদান রাখতে পারতেন, কিন্তু ঘাতকেরা তাঁর সেই সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিয়েছে। তবে ঘাতকেরা রাসেলের শরীরকে বিলুপ্ত করতে পারলেও তাঁর স্মৃতি ও অনুভূতির স্থানটিকে বাঙালি জাতির হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। আজও বাঙালির প্রতিটি অশ্রুবিন্দুতে, রাজনৈতিক সচেতনতায় এবং মানবিক প্রতিবাদের আহ্বানে শহীদ শেখ রাসেল চির অম্লান, প্রদীপ্ত ও অমর হয়ে আছেন।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

আরো পড়ুন

সর্বশেষ