হাসপাতাল মানে প্রাণ বাঁচানোর জায়গা। সেখানে স্ট্রেচারে পড়ে থাকা রোগীর চিকিৎসা হবে, নাকি জিয়া-খালেদার রাজনৈতিক বই টানতে গিয়ে নার্সদের হাঁটু ক্ষয় হতে থাকবে?
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৭ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে দেশের সব হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও দপ্তরের লাইব্রেরিতে বাধ্যতামূলক তিনটি বই রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বইগুলো হলো ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ আর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রকাশক জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা, ১১/১ বাংলাবাজারের ইসলামী টাওয়ারের অফিস থেকে ২৩ আগস্ট চিঠি দিয়েছে, তারপরই মন্ত্রণালয়ের সিল।
এখানে হাসপাতালে লাইব্রেরি আছে ঠিকই, কিন্তু তাতে জরুরি মেডিকেল রেফারেন্স, ড্রাগ গাইড, সার্জারি টেকনিকের বই থাকার কথা। হঠাৎ রাজনৈতিক জীবনী রাখার নির্দেশ মানে, স্বাস্থ্যসেবার বাজেট আর শেলফের জায়গা দখল করে ফেলছে দলীয় শোকেস। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা, নার্সিং, স্বাস্থ্য শিক্ষা, নিপোর্ট, নিমিউ অ্যান্ড টিসি সবাই চিঠি পেয়েছে। অথচ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে, রোগীর রিপোর্টে কোনো আপডেট নেই।
এই তিনটি বই-ই কেন? কারণ জিয়া-খালেদার উত্তরাধিকার যত দিন যাচ্ছে, ততই নতুন করে ফুঁকতে হচ্ছে। ক্ষমতায় থাকলে হাসপাতাল-মেডিকেল কলেজ সবই মাইকিং বোর্ড হবে। সেটাই এখন হচ্ছে। কারণ হাসপাতালের মূল লক্ষ্য আর রাজনীতির প্রোপাগান্ডা এক জায়গায় আনতেই হবে বিএনপিকে, আর সেটা যে কোনো মূল্যেই হোক না কেনো!

