সাতক্ষীরার দেবহাটায় ফেইসবুক লাইভে মব জোগাড় করে মানসিক রোগী শামীমকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। এরপর হাসপাতাল থেকে টেনে বের করে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মরদেহের ছবি পোস্ট হয়েছে ট্রফির মতো। দায়ী ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হয়নি, বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখনো। আর যারা রাষ্ট্র চালাচ্ছে, তারা ঝিমাচ্ছে বসে বসে।
বিএনপি আর জামাতে ইসলাম আজ পর্যন্ত ধর্ম অবমাননার নামে একটি মব হত্যার বিচার করল কি? রামু, নাসিরনগর, কুমিল্লা, ভোলা, গঙ্গাচড়া, গোয়ালন্দ, ভালুকা, কুষ্টিয়া। প্রতিটা ঘটনায় একই চিত্রনাট্য। পোস্ট, গুজব, উন্মত্ত জনতা, পোড়া ঘর, লাশ। আর প্রতিবার একই প্রতিশ্রুতি, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ পৌঁছায়নি।
জামাতে ইসলাম তো এসব হামলার রাজনৈতিক অভিভাবক। মব তৈরি হয় তাদের ওয়াজ মাহফিলের মাঠ থেকে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার জন্য হেফাজতের সঙ্গে চুক্তি করে পাঠ্যবই বদলেছে। সেক্যুলার সাজে টুপি পরেছে। এখন বিচার চাইলে হাস্যকর শোনায়।
লেখক অভিজিৎ রায়, ব্লগার ওয়াশিকুর, নিলয় নীল চাপাতির নিচে মরেছে। ধর্মবিশ্বাসীদের ওপর অবিশ্বাসীরা হামলা করেছে এমন নজির নেই। সংখ্যায় কম, ক্ষমতায় দুর্বল, তারাই হয়েছে শিকার।
শামীমের ভিডিও আছে, প্রোফাইল আছে, সাক্ষী আছে। তবু আমিনী ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রমাণের অভাব নেই, ইচ্ছার অভাব। ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি মবের কাছে বিচার ছেড়ে দেয়, একদিন সেই মব খোদ তারেক রহমানের দরজাতেও যে কড়া নাড়বে, সেই হুশ কি তাদের আদৌ আছে?

