রংপুরের বৈরাগীপাড়ায় বৃহস্পতিবার ওএমএসের ট্রাক এসেছিল এক টন চাল আর এক টন আটা নিয়ে। জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে ধরলে এতে ২০০ জনের বেশি কারও জোটার কথা না। ডিলারের ম্যানেজার রমজান আলী নিজেই বলেছেন, লাইনে ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ। তার মানে ট্রাক আসার আগেই হিসাবটা পরিষ্কার ছিল যে, অন্তত তিনশো মানুষ খালি হাতে ফিরবে। তবু সকাল ছয়টায় ঘোষণা দিয়ে ওদের রোদে দাঁড় করানো হলো।
লাইনে ছিলেন মমতাজ বেগম। ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলেন, বললেন চাল-আটা না নিয়ে গেলে ঘরে চুলা জ্বলবে না। সুজা মিয়া বয়স্ক মানুষ, সকাল ৯টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত দাঁড়িয়েও কিছু পাননি। তাঁর কথায়, একটা লাইনের জায়গায় চারটা লাইন, কে পাচ্ছে আর কে পাচ্ছে না, কেউ জানে না। অনেকের অভিযোগ, সারা সকাল দাঁড়ানো মানুষকে ফেলে ডিলার পছন্দের লোকজনকে মাল দিয়েছেন, আর দুই ঘণ্টার মধ্যেই ঘোষণা করেছেন সব শেষ।
এখানে বিএনপির দায়টা ধামাচাপা দেয়ার কোনো সুযোগই নেই। বরাদ্দ কত হবে, সেটা ঠিক করেছে তারাই। ডিলারের ম্যানেজার বললেন, বরাদ্দ বাড়ালে আরও অনেককে দেওয়া যেত। মানে চাহিদা কত, সেটা মাঠের সবাই জানে, জানে না শুধু যারা বরাদ্দ ঠিক করে। ঘটনাস্থলে খাদ্য বিভাগের তদারক কর্মকর্তাও ছিলেন।
তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে স্বীকার করলেন, সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, লাইন সামলানো কঠিন। একজন তদারক কর্মকর্তার মুখে এটা কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে না। পাঁচ কেজি আটা আর পাঁচ কেজি চালের দাম মিলিয়ে দাঁড়ায় ২৭০ টাকা। এই ২৭০ টাকার জন্য মানুষকে ধাক্কাধাক্কি করতে হচ্ছে, কারণ বাজারে চাল, ডাল, তেল, আটা কিছুরই দাম এখন গরিবের নাগালে নেই।
দাম বাড়ছে, বরাদ্দ কমে আছে, তদারকি নেই, আর যে ডিলারের হাতে বিতরণ, তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ কেউ শুনছে না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপির আমলের গল্পটাও এভাবেই শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালে এসে সেই পুরোনো চিত্রনাট্যের প্রথম দৃশ্য রংপুরের ট্রাকের সামনে এভাবেই মঞ্চস্থ হলো।

