দেখতে দেখতে কেমন যেন ২০০১-০৬ সালের সেই বিভীষিকা ফিরে এলো। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে ৬৯ কোটি ইউরো উধাও। অথচ সাহেব-বিবিরা গলায় সুর তুলে বলছে, “আমরা অর্থনীতির চাকা সচল করেছি।” কার চাকা সচল করেছেন? এই তো সেদিনও দাবী করছিলেন ১২০০ কোটির বেশি রপ্তানি হবে, আর ইউরোস্ট্যাটের খাতা খুলতেই বেরিয়ে এলো ফাঁকা বুলির আসল চেহারা।
২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। শুধু ফেব্রুয়ারিতেই সাড়ে ১২ শতাংশ ধস। অথচ জামায়াতের অর্থ উপদেষ্টা হয়তো বলবেন, এটা বৈশ্বিক মন্দার ফল। ডাহা মিথ্যা কথা। চীনের রপ্তানি কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ। তুরস্কের কমেছে বটে, কিন্তু তারা তো আর বাংলাদেশের মতো শুধু পোশাকের ভিক্ষায় বাঁচে না। এখানে ধস নামলে সরাসরি লাশ পড়ে মধুলালের গলিতে।
সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্যটা হলো, ক্রেতারা এখন আমাদের পোশাকের দাম কমিয়ে দিচ্ছে কেজিতে ৯ শতাংশেরও বেশি। মানে, আগে এক কেজি জামার যা দাম ছিল, এখন কম দামেও সেই জামা নিচ্ছে না কেউ। কেন নেবে? জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে যে গতি, যে বিশ্বাস আর কমপ্লায়েন্সের জায়গা তৈরি হয়েছিল, সেই পাটাতন ভেঙে তলানিতে ঠেকেছে দেশ। ডলার সংকটে কাঁচামাল কেনা যায় না, গ্যাস নেই, সুদ মহাজনী হারে। তার ওপর মন্ত্রী-এমপিদের প্রকাশ্য দুর্নীতি আর লুটপাট তো আছেই।
এখন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিটুসি পদ্ধতিতে যেতে হবে। কিন্তু যে দেশে ইন্টারনেটের গতি কচ্ছপের চেয়েও স্লো, সেখানে ডিজিটাল রপ্তানি করবে কে? এই অবস্থায় সরকারের দায়িত্বশীল কারও মুখ খোলার প্রয়োজন নেই। কিছু মানুষ চুপ করে আছেন, কারণ তারা জানেন, ইউরোপ থেকে আয় না এলেও ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার নয়া ফর্মুলা বের করে ফেলেছেন নবাব পুত্তুর তারেক।
২০২৬ সাল শেষ হতে এখনো বাকি। কিন্তু আজই যদি পোশাক শ্রমিকদের কারখানার গেটে তালা ঝোলে, তাহলে দায় কার? এই নির্লজ্জ নীরবতার, নাকি সেই পুরোনো জামায়াতি তত্ত্বাবধানের?
৬৯ কোটি ইউরো গায়েব। অথচ দেশ চালাচ্ছেন সেই লোকগুলোই, যাদের ব্যাপারে জনগণ একসময় বলতো, “বিএনপি দেশ চালাতে পারে না।” এখন বাস্তবতা বলছে, বিএনপির হাতের স্পর্শ পেয়েই অচল দেশের অর্থনীতি।

