এক লাখ ছত্রিশ হাজার কোটি টাকার বিশাল এক গর্ত হয়ে আছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। পুরো ব্যাংকিং সেক্টরের ইতিহাসে এত বড় ধস নামেনি কখনো। অথচ চারপাশে থমথমে নীরবতা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি নিজেই স্বীকার করছেন, খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ পেরিয়ে গেলে এবং সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ পঞ্চাশ ছাড়ালে লোকসান অনিবার্য। ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ সাতান্ন হাজার কোটি টাকায়। তার ওপর স্থগিতাদেশে থাকা ঋণ আর অবলোপন করা টাকা তো আছেই।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক একাই গিলেছে ছিয়াত্তর হাজার কোটি টাকা। সোশ্যাল ইসলামী, এক্সিম, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ব্যাংক সবাই রীতিমতো সর্বনাশা তাণ্ডব চালিয়েছে। নিট সুদ আয় নেমেছে মাইনাস বারো হাজার কোটি টাকায়।
চেনা দৃশ্য, পুরোনো অভিনেতা। ২০০১-০৬ মেয়াদে ঠিক এভাবেই ব্যাংকিং খাতকে লুটপাটের আখড়া বানানো হয়েছিল। ইসলামী ব্যাংকগুলোর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল জামাতি রাজনৈতিক এজেন্ডার ক্যানসার। সেই রোগ এখন মেটাস্টেসিস হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো আর্থিক খাতে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও থাবা বসেছে, জনতা ব্যাংক একাই তিন হাজার আটশো কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও একই ছবি, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল, আইএফআইসি, প্রিমিয়ার সবাই ডুবছে।
মাহবুবুর রহমানের কথায় স্পষ্ট, পুনঃতফসিল করা ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডের অর্থ সরাসরি আয়শূন্যতা। আর এটাই তো চেয়েছিল একটি চক্র, ব্যাংকগুলোকে অচল করে দিয়ে পুরো অর্থনীতিকে জিম্মি করা। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ছিনতাইবাজি হয়েছে আরও বেপরোয়া। টাকা পাচার, ঋণ জালিয়াতি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় লুটেরা হামলা, সবই চলছে ডিসকাউন্ট রেটে।
অথচ এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা পনেরশো কোটি, ডাচ-বাংলা নয়শো, সিটি তেরশো, ইস্টার্ন নয়শো কোটি টাকা। এই ব্যাংকগুলো প্রমাণ করে দিচ্ছে সৎ ব্যবস্থাপনা আর জবাবদিহিতা থাকলে খাত বাঁচানো সম্ভব। প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা। নইলে এই গর্ত থেকে আর উঠে দাঁড়ানো যাবে না।

