রংপুরের আবারও ফিরে এলো মঙ্গার সেই পুরনো অন্ধকার

আব্দুস সবুর সকালে এক গ্লাস পানি খেয়ে সাইকেলে চেপে শ্রমিকের হাটে এসেছেন। ৬৫ বছর বয়স। গায়ে ছেঁড়া গেঞ্জি। কাজ না জুটলে আজও না খেয়ে থাকতে হবে, এটা তিনি জেনেই বেরিয়েছেন। আলীমুদ্দিন বলছেন একদিন কাজ জুটলে তিনদিন খালি হাতে ফিরতে হয়। আব্দুর রহমান খালবিল থেকে শাপলা তুলে বিক্রি করছেন, দুইদিনে পাঁচশো টাকা। এই মানুষগুলো নতুন কেউ না, এই সংকটও নতুন না। রংপুরের মানুষ এই ছবি আগে দেখেছে, ঠিক এভাবেই, ঠিক এই মৌসুমে, ঠিক এই একই অসহায়ত্ব নিয়ে।

এটাকে মঙ্গা বলা হতো।

২০০১ থেকে ২০০৬, বিএনপির শাসনামলে উত্তরবঙ্গের এই মঙ্গা ছিল প্রতিবছরের নিয়মিত বাস্তবতা। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ধান কাটার আগে কাজ থাকত না, খাবার থাকত না, মানুষ শহরে ভিক্ষা করতে আসত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল মানেই ছিল মঙ্গার ছবি, হাড়জিরজিরে শিশু, শূন্য থালা। সেই বিএনপি সরকার পাঁচ বছরে মঙ্গা দূর করার জন্য কোনো কাঠামোগত পদক্ষেপ নেয়নি। সামাজিক নিরাপত্তার জাল বিস্তার করেনি। কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরিতে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল না। মঙ্গা ছিল, থাকত, এটাকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হতো।

এরপর পরিবর্তন এসেছিল। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ল, কৃষিতে ভর্তুকি এলো, একটু একটু করে উত্তরবঙ্গের মানুষ মঙ্গার ধারণাটাকেই ভুলতে শুরু করল। ২০১২-১৩ সালের পর থেকে মঙ্গা শব্দটা আর সেভাবে আলোচনায় আসত না।

এখন ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হলো, সেটা নিয়ে বিএনপির নিজের ভেতরেও যদি কেউ বিবেক থাকতেন, তিনি লজ্জা পেতেন। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই নির্বাচনে ছিল না। সাধারণ মানুষ কেন্দ্রে যায়নি। যে ভোট হয়েছে সেটা একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, ক্ষমতায় বসার একটা অবৈধ নকশা। এই নকশার উপর ভর করে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে, তাদের কাছে রংপুরের আব্দুস সবুরের জবাবদিহি চাওয়ার কোনো গণতান্ত্রিক ভিত্তি নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে আসেননি।

কিন্তু ক্ষমতায় তো আছেন। এবং ক্ষমতায় থেকে কী করছেন?

রংপুরে দুই লাখ কৃষি শ্রমিক। তিস্তার চর, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, তারাগঞ্জের মানুষ বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ পায় না, এটা দশকের পর দশক ধরে জানা। এই সমস্যার সমাধানে কৃষিভিত্তিক শিল্প দরকার, গ্রামীণ কর্মসংস্থান দরকার, সামাজিক সুরক্ষা দরকার। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তুহিন ওয়াদুদ এই কথা বলছেন, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মাঠের মানুষ নিজেই বলছেন। কিন্তু বিএনপির এই সরকার এপ্রিল মাসে এসেও এই নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য নেই।

বিএনপি সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া দল। এই দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সবসময় ওপর থেকে নিচে, ব্যারাক থেকে রাজপথে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাঁচার লড়াই এই দলের রাজনৈতিক ভাষায় কখনো কেন্দ্রে আসেনি। ক্যান্টনমেন্টের পরিকল্পনায় তিস্তার চরের মানুষের কথা থাকে না। থাকার কথাও না, কারণ সেই মানুষগুলো এই সরকারকে ভোট দেওয়ার সুযোগই পায়নি।

আলীমুদ্দিন বলছেন ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার দিতে হবে বলেই প্রতিদিন বেরোন। আব্দুর রহমান ৭০ বছর বয়সে খাল থেকে শাপলা তোলেন। এটা ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য না, এটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। এবং যে সরকার জনগণের সম্মতি ছাড়া ক্ষমতায় বসেছে, সেই সরকারের কাছে এই ব্যর্থতার দায় স্বীকারের নৈতিক সাহসও নেই।

মঙ্গা ফিরছে। নামটা হয়তো এখনো উচ্চারিত হচ্ছে না, কিন্তু ছবিটা একই।

আব্দুস সবুর সকালে এক গ্লাস পানি খেয়ে সাইকেলে চেপে শ্রমিকের হাটে এসেছেন। ৬৫ বছর বয়স। গায়ে ছেঁড়া গেঞ্জি। কাজ না জুটলে আজও না খেয়ে থাকতে হবে, এটা তিনি জেনেই বেরিয়েছেন। আলীমুদ্দিন বলছেন একদিন কাজ জুটলে তিনদিন খালি হাতে ফিরতে হয়। আব্দুর রহমান খালবিল থেকে শাপলা তুলে বিক্রি করছেন, দুইদিনে পাঁচশো টাকা। এই মানুষগুলো নতুন কেউ না, এই সংকটও নতুন না। রংপুরের মানুষ এই ছবি আগে দেখেছে, ঠিক এভাবেই, ঠিক এই মৌসুমে, ঠিক এই একই অসহায়ত্ব নিয়ে।

এটাকে মঙ্গা বলা হতো।

২০০১ থেকে ২০০৬, বিএনপির শাসনামলে উত্তরবঙ্গের এই মঙ্গা ছিল প্রতিবছরের নিয়মিত বাস্তবতা। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ধান কাটার আগে কাজ থাকত না, খাবার থাকত না, মানুষ শহরে ভিক্ষা করতে আসত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল মানেই ছিল মঙ্গার ছবি, হাড়জিরজিরে শিশু, শূন্য থালা। সেই বিএনপি সরকার পাঁচ বছরে মঙ্গা দূর করার জন্য কোনো কাঠামোগত পদক্ষেপ নেয়নি। সামাজিক নিরাপত্তার জাল বিস্তার করেনি। কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরিতে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল না। মঙ্গা ছিল, থাকত, এটাকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হতো।

এরপর পরিবর্তন এসেছিল। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ল, কৃষিতে ভর্তুকি এলো, একটু একটু করে উত্তরবঙ্গের মানুষ মঙ্গার ধারণাটাকেই ভুলতে শুরু করল। ২০১২-১৩ সালের পর থেকে মঙ্গা শব্দটা আর সেভাবে আলোচনায় আসত না।

এখন ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে যে নির্বাচন হলো, সেটা নিয়ে বিএনপির নিজের ভেতরেও যদি কেউ বিবেক থাকতেন, তিনি লজ্জা পেতেন। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই নির্বাচনে ছিল না। সাধারণ মানুষ কেন্দ্রে যায়নি। যে ভোট হয়েছে সেটা একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, ক্ষমতায় বসার একটা অবৈধ নকশা। এই নকশার উপর ভর করে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে, তাদের কাছে রংপুরের আব্দুস সবুরের জবাবদিহি চাওয়ার কোনো গণতান্ত্রিক ভিত্তি নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে আসেননি।

কিন্তু ক্ষমতায় তো আছেন। এবং ক্ষমতায় থেকে কী করছেন?

রংপুরে দুই লাখ কৃষি শ্রমিক। তিস্তার চর, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, তারাগঞ্জের মানুষ বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ পায় না, এটা দশকের পর দশক ধরে জানা। এই সমস্যার সমাধানে কৃষিভিত্তিক শিল্প দরকার, গ্রামীণ কর্মসংস্থান দরকার, সামাজিক সুরক্ষা দরকার। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তুহিন ওয়াদুদ এই কথা বলছেন, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মাঠের মানুষ নিজেই বলছেন। কিন্তু বিএনপির এই সরকার এপ্রিল মাসে এসেও এই নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য নেই।

বিএনপি সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া দল। এই দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সবসময় ওপর থেকে নিচে, ব্যারাক থেকে রাজপথে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাঁচার লড়াই এই দলের রাজনৈতিক ভাষায় কখনো কেন্দ্রে আসেনি। ক্যান্টনমেন্টের পরিকল্পনায় তিস্তার চরের মানুষের কথা থাকে না। থাকার কথাও না, কারণ সেই মানুষগুলো এই সরকারকে ভোট দেওয়ার সুযোগই পায়নি।

আলীমুদ্দিন বলছেন ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার দিতে হবে বলেই প্রতিদিন বেরোন। আব্দুর রহমান ৭০ বছর বয়সে খাল থেকে শাপলা তোলেন। এটা ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য না, এটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। এবং যে সরকার জনগণের সম্মতি ছাড়া ক্ষমতায় বসেছে, সেই সরকারের কাছে এই ব্যর্থতার দায় স্বীকারের নৈতিক সাহসও নেই।

মঙ্গা ফিরছে। নামটা হয়তো এখনো উচ্চারিত হচ্ছে না, কিন্তু ছবিটা একই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ