কার্ডের পর কার্ড, জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার তারেকের নতুন কৌশল

দেশের ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতিতে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ‘কার্ডের রাজনীতি’ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার ফলে আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে সিন্ডিকেট তোষণের মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিবহনের দাম বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব ‘কার্ড’ মূলত জনগণের পকেট কাটার পর দেওয়া এক ধরনের সান্ত্বনা পুরস্কার বা ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ মাসেই সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নতুন করে ছাপিয়ে ঋণ নিয়েছে। এই ‘হাইপাওয়ারড মানি’ সরাসরি বাজারে মূল্যস্ফীতি উসকে দিচ্ছে। ড. আশিকুর রহমানের মতে, রাজস্ব আহরণে ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। এর ফলে একদিকে যেমন দেশীয় মুদ্রার মান কমছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।

নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পরপরই ইরান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম।

জ্বালানি তেল: ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকায় ঠেকেছে।

এলপিজি গ্যাস: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক মাসেই ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা করা হয়েছে।

পরিবহন ভাড়া: তেলের দাম বৃদ্ধির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অথচ বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনে আগে থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংক থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার যে তোড়জোড় চলছে, তাকে সমালোচকরা বিএনপির ‘লুটপাটের নতুন প্রজেক্ট’ বা ‘ভিক্ষার থালা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জনগণ যখন চড়া মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকার একের পর এক ‘কার্ড’ ঘোষণা করে চমক দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও নারীর ক্ষমতায়নে বেশ কিছু কার্ডভিত্তিক কর্মসূচির উদ্বোধন ও ঘোষণা দিয়েছেন। এগুলো হলো। ফ্যামিলি কার্ড, এলপিজি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্রীড়া কার্ড।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন মুদ্রাস্ফীতি ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং চাল-ডাল-তেলের দাম মানুষের নাগালের বাইরে, তখন মাসে ২ হাজার টাকা ভাতার ‘কার্ড’ দেওয়া মূলত শুভঙ্করের ফাঁকি। চারদিকে লুটপাটের উৎসব চালিয়ে এই নামমাত্র ভাতাকে তারা ‘জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার নতুন কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। একদিকে সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কার্ডের মাধ্যমে যৎসামান্য দান খয়রাত করে রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে চাইছে বিএনপি।

জ্বালানি সংকটে দেশের চারটি বড় সরকারি সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে গার্মেন্টস খাতের উৎপাদন এখন তলানিতে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেওয়ায় থমকে গেছে উচ্চশিক্ষা। নির্বাচন পরবর্তী প্রথম মাসেই সরকারের এমন অদূরদর্শী ও লুটপাটের মনোভাব দেশটিকে এক দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ফাঁদে ফেলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) তাদের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করেছে যে, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিএনপি সরকার চরম অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার চেয়ে ‘কার্ড’ প্রদর্শনীর মাধ্যমেই জনগণকে সান্ত্বনা দিতে বেশি আগ্রহী নীতিনির্ধারকরা।

দেশের ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতিতে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ‘কার্ডের রাজনীতি’ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়ার ফলে আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে সিন্ডিকেট তোষণের মাধ্যমে জ্বালানি ও পরিবহনের দাম বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব ‘কার্ড’ মূলত জনগণের পকেট কাটার পর দেওয়া এক ধরনের সান্ত্বনা পুরস্কার বা ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ মাসেই সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নতুন করে ছাপিয়ে ঋণ নিয়েছে। এই ‘হাইপাওয়ারড মানি’ সরাসরি বাজারে মূল্যস্ফীতি উসকে দিচ্ছে। ড. আশিকুর রহমানের মতে, রাজস্ব আহরণে ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। এর ফলে একদিকে যেমন দেশীয় মুদ্রার মান কমছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।

নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পরপরই ইরান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম।

জ্বালানি তেল: ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকায় ঠেকেছে।

এলপিজি গ্যাস: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক মাসেই ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা করা হয়েছে।

পরিবহন ভাড়া: তেলের দাম বৃদ্ধির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।

রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অথচ বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনে আগে থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংক থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার যে তোড়জোড় চলছে, তাকে সমালোচকরা বিএনপির ‘লুটপাটের নতুন প্রজেক্ট’ বা ‘ভিক্ষার থালা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জনগণ যখন চড়া মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকার একের পর এক ‘কার্ড’ ঘোষণা করে চমক দেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও নারীর ক্ষমতায়নে বেশ কিছু কার্ডভিত্তিক কর্মসূচির উদ্বোধন ও ঘোষণা দিয়েছেন। এগুলো হলো। ফ্যামিলি কার্ড, এলপিজি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্রীড়া কার্ড।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন মুদ্রাস্ফীতি ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে এবং চাল-ডাল-তেলের দাম মানুষের নাগালের বাইরে, তখন মাসে ২ হাজার টাকা ভাতার ‘কার্ড’ দেওয়া মূলত শুভঙ্করের ফাঁকি। চারদিকে লুটপাটের উৎসব চালিয়ে এই নামমাত্র ভাতাকে তারা ‘জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার নতুন কৌশল’ হিসেবে দেখছেন। একদিকে সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কার্ডের মাধ্যমে যৎসামান্য দান খয়রাত করে রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে চাইছে বিএনপি।

জ্বালানি সংকটে দেশের চারটি বড় সরকারি সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে গার্মেন্টস খাতের উৎপাদন এখন তলানিতে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেওয়ায় থমকে গেছে উচ্চশিক্ষা। নির্বাচন পরবর্তী প্রথম মাসেই সরকারের এমন অদূরদর্শী ও লুটপাটের মনোভাব দেশটিকে এক দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ফাঁদে ফেলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) তাদের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করেছে যে, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিএনপি সরকার চরম অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার চেয়ে ‘কার্ড’ প্রদর্শনীর মাধ্যমেই জনগণকে সান্ত্বনা দিতে বেশি আগ্রহী নীতিনির্ধারকরা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ