জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলা: ক্ষমতার দম্ভে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার রাজনীতি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও জানমালের ক্ষতিসাধনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহ অবক্ষয়েরই প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; বরং দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার সকালে ঢাকার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ৩৩ নম্বর সড়কে জি এম কাদেরের বাসভবনের সামনে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হন। আনুমানিক সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয় বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাসভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং জানালার কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সরে যায়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল।

এর আগেও ২০২৫ সালের ২৯ মে রাতে রংপুর নগরীর সেনপাড়া এলাকার ‘স্কাই ভিউ’ বাসভবনে জি এম কাদেরের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, জানালার কাচ ভাঙচুর ও একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার দায় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল। ফলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, থাকবে তীব্র সমালোচনাও। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষোভের নামে কারও বাসভবনে হামলা চালানো কোন ধরনের গণতন্ত্র? প্রতিপক্ষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন যদি রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তবে গণতন্ত্রের বুলি নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দখলদারত্বের বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রতিটিই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হোক কিংবা পরবর্তী সরকারের আমল—কোনো সময়েই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ক্ষমতার পালাবদল মানেই একদলকে সরিয়ে আরেক দলের দমন-পীড়ন প্রতিষ্ঠা নয়। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ক্ষোভ থাকলে তার জবাব দিতে হবে রাজনৈতিক বক্তব্য, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ায়—বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে নয়।
সরকারের দায়িত্ব হলো অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত রাজনৈতিক পরিকল্পনা বা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে।

সুতরাং সরকারের প্রতি দাবি—রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিন, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। অন্যথায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব শাসনব্যবস্থার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হবে, তার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, আর ক্ষমতা কোনো সন্ত্রাসের লাইসেন্স নয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মব সন্ত্রাসের কাছে রাষ্ট্রকে জিম্মি হতে দেওয়া যায় না। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে নয়। বরং ভিন্নমতকে নিরাপত্তা দেওয়া, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।

রাজনৈতিক মতামতধর্মী কলাম।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও জানমালের ক্ষতিসাধনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভয়াবহ অবক্ষয়েরই প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; বরং দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার সকালে ঢাকার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ৩৩ নম্বর সড়কে জি এম কাদেরের বাসভবনের সামনে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হন। আনুমানিক সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয় বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাসভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং জানালার কাচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সরে যায়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল।

এর আগেও ২০২৫ সালের ২৯ মে রাতে রংপুর নগরীর সেনপাড়া এলাকার ‘স্কাই ভিউ’ বাসভবনে জি এম কাদেরের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, জানালার কাচ ভাঙচুর ও একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার দায় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল। ফলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, থাকবে তীব্র সমালোচনাও। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষোভের নামে কারও বাসভবনে হামলা চালানো কোন ধরনের গণতন্ত্র? প্রতিপক্ষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন যদি রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তবে গণতন্ত্রের বুলি নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দখলদারত্বের বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রতিটিই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হোক কিংবা পরবর্তী সরকারের আমল—কোনো সময়েই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ক্ষমতার পালাবদল মানেই একদলকে সরিয়ে আরেক দলের দমন-পীড়ন প্রতিষ্ঠা নয়। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ক্ষোভ থাকলে তার জবাব দিতে হবে রাজনৈতিক বক্তব্য, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ায়—বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে নয়।
সরকারের দায়িত্ব হলো অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত রাজনৈতিক পরিকল্পনা বা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে।

সুতরাং সরকারের প্রতি দাবি—রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিন, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। অন্যথায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব শাসনব্যবস্থার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হবে, তার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, আর ক্ষমতা কোনো সন্ত্রাসের লাইসেন্স নয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মব সন্ত্রাসের কাছে রাষ্ট্রকে জিম্মি হতে দেওয়া যায় না। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে নয়। বরং ভিন্নমতকে নিরাপত্তা দেওয়া, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।

রাজনৈতিক মতামতধর্মী কলাম।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ