ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের গলায় রাতের আঁধারে কেউ জুতার মালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। যে মানুষটা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁর স্মৃতিকে এভাবে অপমান করার সাহস কোথা থেকে আসে?
ঘটনাটা হঠাৎ নয়। ‘২৪ এর জুলাই দাঙ্গার পর দুই দফা ভাঙচুর হয়েছে, তারপর কয়েক দিন ধরে চক্র বানিয়ে ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। গণমাধ্যমে খবর না ছাপা হলে সেটা থামতই না। অথচ রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি, সংসদে ক্ষমতার ভাগ নিয়ে বসে আছে জামায়াতে ইসলামী। এত কিছুর পরও দোষীরা অচেনা থেকে যায়, আর সরকারের মুখে থাকে কবরের নিস্তব্ধতা।
জেলা প্রশাসক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু বৈঠক দিয়ে কি আগের ভাঙচুরের জবাব মেলে? বীরশ্রেষ্ঠের নিজের ভাতিজাকে আজ প্রশাসনের কাছে সিসিটিভি বসানোর আবেদন করতে হচ্ছে, কারণ তাঁর আশঙ্কা, একপক্ষ ভেঙে অন্যপক্ষের ঘাড়ে দোষ চাপাবে। যে দেশে বীরশ্রেষ্ঠের স্বজনকে নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা চাইতে হয়, সেখানে কার শাসনে কারা নিরাপদ, সেটা বুঝতে কারও বিশেষ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না।

