২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দাঁড়িয়ে এটা এখন স্পষ্ট, বিএনপি-জামাতের এই সরকার শিল্প-বান্ধব শাসনের কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বিকেএমইএর সর্বশেষ জরিপ তারই সাক্ষ্য দিচ্ছে। জুলাই ২০ থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকট, তারপর বিদ্যুৎ সংকট, এই দুইয়ে নিটওয়্যার খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। ৫৫ শতাংশ কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল বা কমেছে, ৮৭ শতাংশ রপ্তানিকারক সময়মতো শিপমেন্ট করতে ব্যর্থ। এই পরিসংখ্যান রাষ্ট্রীয় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
জরিপের পরিসরে আছে বিকেএমইএর ৮০০ সক্রিয় সদস্যের ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৬০টি কারখানা। এই নমুনার ৭৫ শতাংশ গ্যাস সংকটে এবং ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত। গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৮ শতাংশ কম। শিল্পোৎপাদনের এই মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকারের ঘোষণা কোথায়? বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি কোথায়? জবাব নেই।
এই সংকটের চেইন রিঅ্যাকশন হয়েছে ভয়াবহ। ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানিতে অতিরিক্ত অর্থ ঢালতে হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে। ৯২ শতাংশ কারখানায় শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, অর্থাৎ শ্রমিকেরা কাজ পেয়েছেন কম, কিন্তু মজুরি পেয়েছেন হয়তো আরও কম। ৮৯ শতাংশ মালিক বিদেশি ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানি ভাবমূর্তির জন্য মারাত্মক। চার ভাগের তিন ভাগ কারখানার উৎপাদন আংশিক বন্ধ, ৬০ শতাংশ মালিক ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে, এবং ৭ শতাংশ কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
তিন দশক ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এই খাত ভেঙে পড়লে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সবকিছুতে ধস নামবে। অথচ বিএনপি-জামাতের নেতৃত্ব এই খাতকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করেছে। ২০০১-০৬ সালের কালো অধ্যায়ে গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে একইভাবে শিল্প ভেঙে পড়েছিল, শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমেছিলেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবারও সেই দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে দেশকে।
বিকেএমইএর এই জরিপে যা উঠে এসেছে তা বিএনপি-জামাতের শিল্পবিরোধী নীতির ধারাবাহিক ফলাফল। বিদেশি ক্রেতারা যখন অর্ডার কাটছেন, ডিসকাউন্ট চাপাচ্ছেন, তখন সরকারের দায়িত্ব ছিল জ্বালানি সরবরাহের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া। সে দায়িত্ব পালন হয়নি। বরং প্রতিটি সংকটে সরকারের নীরবতা আর অদক্ষতা স্পষ্ট হয়েছে।
এই সংকট কেবল কারখানা মালিকদের নয়, কোটি শ্রমিকের জীবনের প্রশ্ন। বিএনপি-জামাতের এই ব্যর্থ শাসনে রপ্তানি খাত যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কোনো রাজনৈতিক বিবৃতিতে লুকানো যাবে না। এই জোট বরাবরই শিল্প-বাণিজ্যের শত্রু। ২০২৬ সালে এসে তা আবারও প্রমাণিত।

