দুই দিনে চারজন কারাবন্দীর লাশ পড়ল ঢাকা মেডিকেলে। আলী আকবর, আবুল বাশার, আবদুল কাইয়ুম, শাহাদত হোসেন লিটন, নামগুলো মনে রাখুন, কারণ রাষ্ট্র এদের ভুলে যাবে দুদিনেই। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মানুষগুলো জেলখানায় মরে গেল, আর দায়িত্বে থাকা প্রশাসন থেকে একটা কৈফিয়তও এলো না।
এই তো সেই বিএনপি, যাদের হাত ধরে জামাত আবার সংসদে বসেছে। ক্ষমতায় এসেই সংস্কারের বুলি, উন্নয়নের গল্প, অথচ কারাগারের ভেতরে মানুষ পোকামাকড়ের মতো মরছে। চিকিৎসা নেই, তদারকি নেই, জবাবদিহি নেই। এটাই কি সেই “নতুন বাংলাদেশ”, যার মূলো দেখানো হয়েছিল?
২০০১-০৬ সালের সেই পুরোনো চিত্রনাট্য আবার মঞ্চস্থ হচ্ছে। তখনও প্রশাসনের চোখের সামনে মানুষ মরত, প্রশ্ন তুললে জবাব মিলত নীরবতা। এখনও তাই। ক্ষমতার চেয়ার বদলেছে, চরিত্র বদলায়নি। জামাত সংসদে বসে ধর্মের বুলি আওড়ায়, বিএনপি গদিতে বসে উন্নয়নের ফানুস ওড়ায়, আর মাঝখানে সাধারণ বন্দী মানুষগুলো একের পর এক লাশ হয়ে বের হয় কারাগারের গেট দিয়ে।
চার দিনে চারটা লাশ, এটা এমনই একটা ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি, যে ব্যবস্থা মানুষকে মানুষ ভাবে না, কেবল সংখ্যা ভাবে।

