নদীতে ভাসছে শুধু লাশ নয়, ভাসছে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি

দেশের নদ-নদী আজ শুধু নৌপথ নয়, ক্রমশ যেন পরিণত হচ্ছে রহস্যময় মৃত্যুর নীরব সাক্ষীতে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধার, অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশের দীর্ঘ তালিকা এবং বহু আলোচিত মৃত্যুর রহস্য অমীমাংসিত থেকে যাওয়া—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্রের সক্ষমতা, জবাবদিহিতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে।

নৌ পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে দেশের বিভিন্ন নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪৪০টি মরদেহ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪১টিতে। অর্থাৎ বৃদ্ধি ১০১টি। সংখ্যাটি নিছক পরিসংখ্যান নয়; এর প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবন, একটি অসমাপ্ত গল্প।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—রাষ্ট্র এই প্রবণতাকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে? যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক হয়, যদি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তাহলে কেন প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৫টি মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার হচ্ছে? কেন শত শত পরিবার তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পারছে না?

সরকারের দায়িত্ব শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর লাশ উদ্ধার করা নয়; বরং অপরাধ প্রতিরোধ করা, নাগরিককে নিরাপদ রাখা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বহু আলোচিত ঘটনার ক্ষেত্রেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জনসাধারণ অন্ধকারে থাকে। মামলার ফাইল জমা হয়, তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, কিন্তু সত্য উদঘাটনের প্রশ্নে প্রায়ই দেখা যায় দীর্ঘ নীরবতা।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুর ঘটনাও সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। একজন সুপরিচিত নাগরিক বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন, পরে তার মরদেহ উদ্ধার হয় নদী থেকে। অথচ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জনসমক্ষে স্পষ্ট ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যা আসে না। এটি শুধু একটি পরিবারের বেদনার বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রের তদন্ত সক্ষমতা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অনাস্থার প্রতিফলন।

আজ প্রশ্ন উঠছে—দেশে কি এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অপরাধীরা মনে করে নদীই তাদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়? কেন এত অজ্ঞাত মরদেহ? কেন আধুনিক প্রযুক্তি, ডিএনএ ডাটাবেস, সিসিটিভি নজরদারি এবং ফরেনসিক সক্ষমতার উন্নয়ন এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি? কেন প্রতিটি রহস্যজনক মৃত্যুর দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা যাচ্ছে না?

সরকারের প্রতিনিধিরা উন্নয়নের নানা সূচক তুলে ধরেন। সেতু, মহাসড়ক, অবকাঠামো—সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি হলো নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার। মানুষ যদি ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরবে কি না, সেই নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে উন্নয়নের প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রেই অর্থহীন হয়ে পড়ে।

নদী থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি লাশ যেন রাষ্ট্রকে একটি কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—কোথায় জবাবদিহিতা? কোথায় কার্যকর তদন্ত? কোথায় নাগরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা?

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কারণ নদীতে ভেসে ওঠা প্রতিটি অজ্ঞাত মরদেহ শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়; এটি আইনের শাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে জনগণের আস্থারও পরীক্ষা।

আজ সময় এসেছে পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে না থেকে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার। প্রতিটি রহস্যজনক মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নদীপথকে অপরাধের নিরাপদ গন্তব্যে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করা এখন রাষ্ট্রের জন্য শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়—এটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা।

দেশের নদ-নদী আজ শুধু নৌপথ নয়, ক্রমশ যেন পরিণত হচ্ছে রহস্যময় মৃত্যুর নীরব সাক্ষীতে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধার, অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশের দীর্ঘ তালিকা এবং বহু আলোচিত মৃত্যুর রহস্য অমীমাংসিত থেকে যাওয়া—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্রের সক্ষমতা, জবাবদিহিতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে।

নৌ পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে দেশের বিভিন্ন নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪৪০টি মরদেহ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪১টিতে। অর্থাৎ বৃদ্ধি ১০১টি। সংখ্যাটি নিছক পরিসংখ্যান নয়; এর প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবন, একটি অসমাপ্ত গল্প।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—রাষ্ট্র এই প্রবণতাকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে? যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক হয়, যদি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তাহলে কেন প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৫টি মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার হচ্ছে? কেন শত শত পরিবার তাদের প্রিয়জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পারছে না?

সরকারের দায়িত্ব শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর লাশ উদ্ধার করা নয়; বরং অপরাধ প্রতিরোধ করা, নাগরিককে নিরাপদ রাখা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বহু আলোচিত ঘটনার ক্ষেত্রেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জনসাধারণ অন্ধকারে থাকে। মামলার ফাইল জমা হয়, তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, কিন্তু সত্য উদঘাটনের প্রশ্নে প্রায়ই দেখা যায় দীর্ঘ নীরবতা।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুর ঘটনাও সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। একজন সুপরিচিত নাগরিক বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন, পরে তার মরদেহ উদ্ধার হয় নদী থেকে। অথচ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জনসমক্ষে স্পষ্ট ও চূড়ান্ত ব্যাখ্যা আসে না। এটি শুধু একটি পরিবারের বেদনার বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রের তদন্ত সক্ষমতা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অনাস্থার প্রতিফলন।

আজ প্রশ্ন উঠছে—দেশে কি এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে অপরাধীরা মনে করে নদীই তাদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়? কেন এত অজ্ঞাত মরদেহ? কেন আধুনিক প্রযুক্তি, ডিএনএ ডাটাবেস, সিসিটিভি নজরদারি এবং ফরেনসিক সক্ষমতার উন্নয়ন এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি? কেন প্রতিটি রহস্যজনক মৃত্যুর দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা যাচ্ছে না?

সরকারের প্রতিনিধিরা উন্নয়নের নানা সূচক তুলে ধরেন। সেতু, মহাসড়ক, অবকাঠামো—সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি হলো নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার। মানুষ যদি ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরবে কি না, সেই নিশ্চয়তা না পায়, তাহলে উন্নয়নের প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রেই অর্থহীন হয়ে পড়ে।

নদী থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি লাশ যেন রাষ্ট্রকে একটি কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—কোথায় জবাবদিহিতা? কোথায় কার্যকর তদন্ত? কোথায় নাগরিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা?

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কারণ নদীতে ভেসে ওঠা প্রতিটি অজ্ঞাত মরদেহ শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়; এটি আইনের শাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে জনগণের আস্থারও পরীক্ষা।

আজ সময় এসেছে পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে না থেকে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার। প্রতিটি রহস্যজনক মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নদীপথকে অপরাধের নিরাপদ গন্তব্যে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করা এখন রাষ্ট্রের জন্য শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়—এটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ