বাংলাদেশে সাংবাদিকতাই কি এখন মানবতাবিরোধী অপরাধ?

বাংলাদেশ পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে ঢাকার সচিবালয়, প্রেসক্লাব, গুলশান, সুপ্রিমকোর্ট, বারিধারা, বনানী, তেজগাঁও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর, ভাটারা, বিলক্ষেত সহ বিভিন্ন এলাকার জোন ইনচার্জদের কাছে একটা চিঠি গেছে। চিঠিতে ৩০ জন সাংবাদিকের নাম, পদবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বর আর পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করে একটা নির্দিষ্ট জিমেইল ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছে। কারণ? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাকি এদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ। শব্দটার ওজন বুঝতে পারছেন তো?

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা যা করেছিল, আইনের ভাষায় সেটাই মানবতাবিরোধী অপরাধ। গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন। সেই অপরাধের বিচারের জন্য তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর এখন সেই ট্রাইব্যুনালের নাম নিয়ে বলা হচ্ছে নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকতা করেছেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন, মুন্নি সাহা টিভিতে নিউজ পড়েছেন, প্রভাষ আমিন বার্তা বিভাগ চালিয়েছেন, এগুলো নাকি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই যুক্তি যদি কেউ সরলমনে গিলে নেন, তাহলে বলার কিছু নেই। কিন্তু যে কেউ একটু মাথা খাটালেই বুঝতে পারবেন এটা আসলে কী।

এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটা নতুন ধাপ। পুরনো অস্ত্র, নতুন টার্গেট।

যে ৩০ জনের কথা বলা হচ্ছে তাদের তালিকাটা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যায় খেলাটা কোথায়। নাঈমুল ইসলাম খান, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছিলেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা। ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি। শ্যামল দত্ত, ভোরের কাগজের সাবেক সম্পাদক আর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মোজাম্মেল হক বাবু, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক। নবনীতা চৌধুরী, টেলিভিশন উপস্থাপক। সুভাষ সিংহ রায়, এবি নিউজ টোয়েন্টিফোরের সাবেক সম্পাদক।

আহমেদ জোবায়ের, সময় টিভির সাবেক এমডি। তুষার আব্দুল্লাহ, সময় টিভির সাবেক বার্তা প্রধান। সাইফুল আলম, ডিবিসি নিউজের সিইও। নইম নিজাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক। আবেদ খান, সমকালের সাবেক সম্পাদক। প্রভাষ আমিন, এটিএন নিউজের সাবেক বার্তা প্রধান। ফারজানা রূপা, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক। শাকিল আহমেদ, একাত্তর টিভির সাবেক বার্তা প্রধান।

মিথিলা ফারজানা, একাত্তর টিভির সাবেক হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স। মঞ্জুরুল ইসলাম, ডিবিসির সাবেক প্রধান সম্পাদক। আশীস সৈকত, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক। জাহেদুল হাসান পিন্টু, ডিবিসির সাবেক সম্পাদক। মানষ ঘোষ, এশিয়ান টিভির সাবেক হেড অব নিউজ। প্রণব সাহা, ডিবিসি। মাসুদা ভাট্টি, বাংলাদেশের সাবেক তথ্য কমিশনার। মুন্নি সাহা, এটিএন নিউজের সাবেক প্রধান নির্বাহী সম্পাদক। জহিরুল ইসলাম মামুন, এটিএন নিউজের সাবেক প্রধান নির্বাহী সম্পাদক। স্বদেশ রায়, দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক। সোমা ইসলাম, চ্যানেল আই। শ্যামল সরকার, ইত্তেফাক। অজয় দাস, সমকাল। আশরাফুল আলম খোকন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব। নিঝুম মজুমদার, আইনজীবী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।

এই তালিকার দিকে একটু ভালো করে তাকান। এরা সবাই এ দেশের স্বীকৃত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। দশকের পর দশক ধরে টেলিভিশনে, পত্রিকায় কাজ করে আসছেন। তাদের সাংবাদিকতা নিয়ে পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে, সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু সেটা আলাদা প্রসঙ্গ। সাংবাদিকতার কোনো কাজ, কোনো টকশোতে কথা বলা, কোনো পত্রিকায় সম্পাদকীয় লেখা কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়, সেই ব্যাখ্যা এই সরকার এখনো দিতে পারেনি, দেবেও না, কারণ দেওয়ার মতো কোনো ব্যাখ্যা তাদের কাছে নেই।

আসল উদ্দেশ্যটা সহজ। যে কণ্ঠস্বর সুবিধাজনক না, সেটা থামিয়ে দাও। যে কলম অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে, সেটা বন্ধ করে দাও। আর যদি মামলা দিয়ে জেলে পুরতে পারো, তাহলে তো কথাই নেই। এই সরকার সেটাই করছে। ইতিমধ্যে ডজনের পর ডজন সাংবাদিক কারাগারে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, বিচার কতদূর, কবে মুক্তি পাবেন, এর কোনো স্বচ্ছ জবাব নেই। এখন সেই তালিকা আরও বড় করার পাঁয়তারা চলছে।

এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে কীভাবে সেটাও মনে রাখা দরকার। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না। মানুষ ভোট দিতে যায়নি। কেন্দ্রে কেন্দ্রে শূন্যতা ছিল। নিজেরা নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে একটা নাটক মঞ্চস্থ করে ক্ষমতায় বসেছে তারা। এই বৈধতাহীন ক্ষমতার উপর দাঁড়িয়ে এই সরকার এখন সাংবাদিকদের মানবতাবিরোধী মামলায় জড়ানোর ব্যবস্থা করছে। ক্ষমতার এই নির্লজ্জ ব্যবহার এই দলের জন্য নতুন কিছু না। জিয়াউর রহমান যে দলটা সেনানিবাসে বসে তৈরি করেছিলেন, সেই দলের রক্তেই আছে এই স্বভাব। গণতন্ত্রের কথা মুখে, আর ক্ষমতায় গেলে সেই পুরনো সামরিক মেজাজ।

আর জামায়াতের কথা আলাদা করে বলার দরকার নেই বোধহয়। যাদের পূর্বসূরিরা একাত্তরে সত্যিকারের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তারা এখন মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালকে ঢাল বানিয়ে সাংবাদিকদের ধরছে। এই দৃশ্যটা যদি কারো কাছে স্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে সমস্যাটা সেই মানুষের বিবেচনাবোধে।

বিএনপি-জামায়াত যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলে, সেই দৃশ্যটা এখন পুরোপুরি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে শুধু নিজেদের পছন্দের চ্যানেল আর পত্রিকা চালু রাখা না। যে কণ্ঠস্বর আপনার বিরুদ্ধে কথা বলে, তাকেও কথা বলতে দেওয়াটাই স্বাধীনতা। সেটা না করতে পারলে বড় বড় বক্তৃতায় প্রেস ফ্রিডমের নাম নেওয়াটা শুধুই নাটক।

মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই দেশের মানুষের কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। একাত্তরের ক্ষত এই জাতি এখনো বহন করছে। সেই ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঠেকানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে যে ক্ষতিটা হয়, সেটা শুধু এই ৩০ জন সাংবাদিকের না। সেটা ট্রাইব্যুনালের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতারও।

কিন্তু এই সরকার যতটুকু বোঝে, তাতে এই কথাটা তাদের কানে পৌঁছাবে না। কারণ ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা করা দরকার, সেটা করে যাওয়াই এদের চরিত্র। সাংবাদিকের কলম বন্ধ করা, মুক্ত কণ্ঠ জেলে পোরা, ট্রাইব্যুনালকে হাতিয়ার বানানো, এসব এই সরকারের কাছে শাসনের অংশ। গণতন্ত্রের না।

বাংলাদেশ পুলিশের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে ঢাকার সচিবালয়, প্রেসক্লাব, গুলশান, সুপ্রিমকোর্ট, বারিধারা, বনানী, তেজগাঁও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর, ভাটারা, বিলক্ষেত সহ বিভিন্ন এলাকার জোন ইনচার্জদের কাছে একটা চিঠি গেছে। চিঠিতে ৩০ জন সাংবাদিকের নাম, পদবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বর আর পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করে একটা নির্দিষ্ট জিমেইল ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছে। কারণ? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাকি এদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ। শব্দটার ওজন বুঝতে পারছেন তো?

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা যা করেছিল, আইনের ভাষায় সেটাই মানবতাবিরোধী অপরাধ। গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন। সেই অপরাধের বিচারের জন্য তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর এখন সেই ট্রাইব্যুনালের নাম নিয়ে বলা হচ্ছে নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকতা করেছেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন, মুন্নি সাহা টিভিতে নিউজ পড়েছেন, প্রভাষ আমিন বার্তা বিভাগ চালিয়েছেন, এগুলো নাকি মানবতাবিরোধী অপরাধ। এই যুক্তি যদি কেউ সরলমনে গিলে নেন, তাহলে বলার কিছু নেই। কিন্তু যে কেউ একটু মাথা খাটালেই বুঝতে পারবেন এটা আসলে কী।

এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার একটা নতুন ধাপ। পুরনো অস্ত্র, নতুন টার্গেট।

যে ৩০ জনের কথা বলা হচ্ছে তাদের তালিকাটা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যায় খেলাটা কোথায়। নাঈমুল ইসলাম খান, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছিলেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা। ফরিদা ইয়াসমিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি। শ্যামল দত্ত, ভোরের কাগজের সাবেক সম্পাদক আর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মোজাম্মেল হক বাবু, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক। নবনীতা চৌধুরী, টেলিভিশন উপস্থাপক। সুভাষ সিংহ রায়, এবি নিউজ টোয়েন্টিফোরের সাবেক সম্পাদক।

আহমেদ জোবায়ের, সময় টিভির সাবেক এমডি। তুষার আব্দুল্লাহ, সময় টিভির সাবেক বার্তা প্রধান। সাইফুল আলম, ডিবিসি নিউজের সিইও। নইম নিজাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক। আবেদ খান, সমকালের সাবেক সম্পাদক। প্রভাষ আমিন, এটিএন নিউজের সাবেক বার্তা প্রধান। ফারজানা রূপা, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক। শাকিল আহমেদ, একাত্তর টিভির সাবেক বার্তা প্রধান।

মিথিলা ফারজানা, একাত্তর টিভির সাবেক হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স। মঞ্জুরুল ইসলাম, ডিবিসির সাবেক প্রধান সম্পাদক। আশীস সৈকত, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক। জাহেদুল হাসান পিন্টু, ডিবিসির সাবেক সম্পাদক। মানষ ঘোষ, এশিয়ান টিভির সাবেক হেড অব নিউজ। প্রণব সাহা, ডিবিসি। মাসুদা ভাট্টি, বাংলাদেশের সাবেক তথ্য কমিশনার। মুন্নি সাহা, এটিএন নিউজের সাবেক প্রধান নির্বাহী সম্পাদক। জহিরুল ইসলাম মামুন, এটিএন নিউজের সাবেক প্রধান নির্বাহী সম্পাদক। স্বদেশ রায়, দৈনিক জনকণ্ঠের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক। সোমা ইসলাম, চ্যানেল আই। শ্যামল সরকার, ইত্তেফাক। অজয় দাস, সমকাল। আশরাফুল আলম খোকন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব। নিঝুম মজুমদার, আইনজীবী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।

এই তালিকার দিকে একটু ভালো করে তাকান। এরা সবাই এ দেশের স্বীকৃত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। দশকের পর দশক ধরে টেলিভিশনে, পত্রিকায় কাজ করে আসছেন। তাদের সাংবাদিকতা নিয়ে পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে, সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু সেটা আলাদা প্রসঙ্গ। সাংবাদিকতার কোনো কাজ, কোনো টকশোতে কথা বলা, কোনো পত্রিকায় সম্পাদকীয় লেখা কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়, সেই ব্যাখ্যা এই সরকার এখনো দিতে পারেনি, দেবেও না, কারণ দেওয়ার মতো কোনো ব্যাখ্যা তাদের কাছে নেই।

আসল উদ্দেশ্যটা সহজ। যে কণ্ঠস্বর সুবিধাজনক না, সেটা থামিয়ে দাও। যে কলম অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে, সেটা বন্ধ করে দাও। আর যদি মামলা দিয়ে জেলে পুরতে পারো, তাহলে তো কথাই নেই। এই সরকার সেটাই করছে। ইতিমধ্যে ডজনের পর ডজন সাংবাদিক কারাগারে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, বিচার কতদূর, কবে মুক্তি পাবেন, এর কোনো স্বচ্ছ জবাব নেই। এখন সেই তালিকা আরও বড় করার পাঁয়তারা চলছে।

এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে কীভাবে সেটাও মনে রাখা দরকার। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না। মানুষ ভোট দিতে যায়নি। কেন্দ্রে কেন্দ্রে শূন্যতা ছিল। নিজেরা নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে একটা নাটক মঞ্চস্থ করে ক্ষমতায় বসেছে তারা। এই বৈধতাহীন ক্ষমতার উপর দাঁড়িয়ে এই সরকার এখন সাংবাদিকদের মানবতাবিরোধী মামলায় জড়ানোর ব্যবস্থা করছে। ক্ষমতার এই নির্লজ্জ ব্যবহার এই দলের জন্য নতুন কিছু না। জিয়াউর রহমান যে দলটা সেনানিবাসে বসে তৈরি করেছিলেন, সেই দলের রক্তেই আছে এই স্বভাব। গণতন্ত্রের কথা মুখে, আর ক্ষমতায় গেলে সেই পুরনো সামরিক মেজাজ।

আর জামায়াতের কথা আলাদা করে বলার দরকার নেই বোধহয়। যাদের পূর্বসূরিরা একাত্তরে সত্যিকারের মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তারা এখন মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালকে ঢাল বানিয়ে সাংবাদিকদের ধরছে। এই দৃশ্যটা যদি কারো কাছে স্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে সমস্যাটা সেই মানুষের বিবেচনাবোধে।

বিএনপি-জামায়াত যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলে, সেই দৃশ্যটা এখন পুরোপুরি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে শুধু নিজেদের পছন্দের চ্যানেল আর পত্রিকা চালু রাখা না। যে কণ্ঠস্বর আপনার বিরুদ্ধে কথা বলে, তাকেও কথা বলতে দেওয়াটাই স্বাধীনতা। সেটা না করতে পারলে বড় বড় বক্তৃতায় প্রেস ফ্রিডমের নাম নেওয়াটা শুধুই নাটক।

মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই দেশের মানুষের কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। একাত্তরের ক্ষত এই জাতি এখনো বহন করছে। সেই ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঠেকানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে যে ক্ষতিটা হয়, সেটা শুধু এই ৩০ জন সাংবাদিকের না। সেটা ট্রাইব্যুনালের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতারও।

কিন্তু এই সরকার যতটুকু বোঝে, তাতে এই কথাটা তাদের কানে পৌঁছাবে না। কারণ ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা করা দরকার, সেটা করে যাওয়াই এদের চরিত্র। সাংবাদিকের কলম বন্ধ করা, মুক্ত কণ্ঠ জেলে পোরা, ট্রাইব্যুনালকে হাতিয়ার বানানো, এসব এই সরকারের কাছে শাসনের অংশ। গণতন্ত্রের না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ