হামে মরছে শিশু, দেশবিরোধী চুক্তিতে নীরব সম্মতি: বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার নতুন দলিল

এম এ আহাদ চৌধুরী রায়হান
বাংলাদেশের আকাশ আজ এক গুমোট শোকের চাদরে ঢাকা। যে নিষ্পাপ শিশুদের হাসিতে ঘর মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, তারা আজ নিথর দেহে বিদায় নিচ্ছে। দেশে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবে তিন শতাধিক শিশুর প্রাণহানি কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়; এটি স্পষ্টতই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অযোগ্যতা এবং ভুল অগ্রাধিকারের এক মর্মান্তিক দলিল। যখন আমাদের দেশের হাজার হাজার শিশু টিকার অভাবে ধুঁকছে, যখন ল্যাবে কিট না থাকায় রোগ শনাক্ত করা যাচ্ছে না, তখন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যস্ত বিদেশের সাথে অসম বাণিজ্যিক চুক্তির মহোৎসবে। সাধারণ মানুষের মনে আজ সংগত প্রশ্ন জেগেছে—এই সরকার কি আসলেই জনগণের প্রাণ বাঁচাতে এসেছে, নাকি কেবল আন্তর্জাতিক প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতে?

সবচেয়ে অবাক লাগে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ক্ষমতার শীর্ষে বিএনপির ভূমিকা দেখে। জনগণের এই কঠিন বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে তারা ব্যস্ত ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারা আর প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে। মুখে লম্বা চওড়া বুলি আওড়ালেও, বাস্তবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য বা সুরক্ষা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আওয়ামী লীগ যখন প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় টিকা পৌঁছে দেওয়ার লড়াই করেছে, বিএনপি তখন ক্ষমতার অলিগলিতে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তাদের এই রহস্যজনক নীরবতাই প্রমাণ করে যে তারা জনগণের চেয়ে গদির রাজনীতিকেই বেশি ভালোবাসে।

এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্রাধিকারের চিত্রও ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যেখানে দেশের শিশুদের জন্য জরুরি টিকার ডোজ নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে তারা ব্যস্ত ছিল বহু বিলিয়ন ডলারের বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি নিয়ে। অথচ চাইলে এই সরকারই জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা আমদানির জন্য দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারত। কয়েক হাজার কোটি টাকা বিমান কেনায় ব্যয় না করে সেই অর্থের একটি অংশ দিয়েই সারা দেশের শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। তদুপরি, বিএনপিও এই সংকটকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনতে পারেনি। জনগণের স্বাস্থ্য আর শিশুদের নিরাপত্তা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র হওয়ার কথা থাকলেও ক্ষমতা আর কূটনৈতিক সমীকরণই তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

আওয়ামী লীগ সব সময় দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক রোল মডেলে পরিণত করেছিলেন, আজ তা কিট আর ভ্যাকসিনের সংকটে ধুঁকছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা কয়েক বছর আওয়ামী লীগ সরকারের টিকাদান কর্মসূচি GAVI এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেয়েছিল। আমরা প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় টিকা পৌঁছে দিয়েছিলাম, যার ফলে বাংলাদেশ থেকে হাম ও পোলিও প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিল।

অথচ আজ হাসপাতালের বারান্দায় টিকার জন্য মায়েদের আহাজারি শুনতে হয়। ৪০৯+ জন শিশুর মৃত্যু কোনো পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি জাতীয় শোক। সবচেয়ে শঙ্কার কথা হলো, এই সরকার কেবল দেশের অভ্যন্তরেই ব্যর্থ হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করেছে। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যে তলানিতে ঠেকেছে, তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। একটি জনবান্ধব ও দায়বদ্ধ সরকার থাকলে আজ হয়তো দেশের বাতাস টিকার জন্য শিশুদের কান্না নয়, বরং তাদের হাসিতে মুখরিত হতো। সময় এসেছে এই অযোগ্য ও কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ প্রশাসনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার।

লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

এম এ আহাদ চৌধুরী রায়হান
বাংলাদেশের আকাশ আজ এক গুমোট শোকের চাদরে ঢাকা। যে নিষ্পাপ শিশুদের হাসিতে ঘর মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, তারা আজ নিথর দেহে বিদায় নিচ্ছে। দেশে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবে তিন শতাধিক শিশুর প্রাণহানি কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়; এটি স্পষ্টতই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অযোগ্যতা এবং ভুল অগ্রাধিকারের এক মর্মান্তিক দলিল। যখন আমাদের দেশের হাজার হাজার শিশু টিকার অভাবে ধুঁকছে, যখন ল্যাবে কিট না থাকায় রোগ শনাক্ত করা যাচ্ছে না, তখন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যস্ত বিদেশের সাথে অসম বাণিজ্যিক চুক্তির মহোৎসবে। সাধারণ মানুষের মনে আজ সংগত প্রশ্ন জেগেছে—এই সরকার কি আসলেই জনগণের প্রাণ বাঁচাতে এসেছে, নাকি কেবল আন্তর্জাতিক প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতে?

সবচেয়ে অবাক লাগে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ক্ষমতার শীর্ষে বিএনপির ভূমিকা দেখে। জনগণের এই কঠিন বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে তারা ব্যস্ত ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারা আর প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে। মুখে লম্বা চওড়া বুলি আওড়ালেও, বাস্তবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য বা সুরক্ষা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আওয়ামী লীগ যখন প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় টিকা পৌঁছে দেওয়ার লড়াই করেছে, বিএনপি তখন ক্ষমতার অলিগলিতে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তাদের এই রহস্যজনক নীরবতাই প্রমাণ করে যে তারা জনগণের চেয়ে গদির রাজনীতিকেই বেশি ভালোবাসে।

এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্রাধিকারের চিত্রও ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যেখানে দেশের শিশুদের জন্য জরুরি টিকার ডোজ নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে তারা ব্যস্ত ছিল বহু বিলিয়ন ডলারের বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি নিয়ে। অথচ চাইলে এই সরকারই জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা আমদানির জন্য দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারত। কয়েক হাজার কোটি টাকা বিমান কেনায় ব্যয় না করে সেই অর্থের একটি অংশ দিয়েই সারা দেশের শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। তদুপরি, বিএনপিও এই সংকটকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনতে পারেনি। জনগণের স্বাস্থ্য আর শিশুদের নিরাপত্তা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র হওয়ার কথা থাকলেও ক্ষমতা আর কূটনৈতিক সমীকরণই তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

আওয়ামী লীগ সব সময় দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক রোল মডেলে পরিণত করেছিলেন, আজ তা কিট আর ভ্যাকসিনের সংকটে ধুঁকছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা কয়েক বছর আওয়ামী লীগ সরকারের টিকাদান কর্মসূচি GAVI এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেয়েছিল। আমরা প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় টিকা পৌঁছে দিয়েছিলাম, যার ফলে বাংলাদেশ থেকে হাম ও পোলিও প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিল।

অথচ আজ হাসপাতালের বারান্দায় টিকার জন্য মায়েদের আহাজারি শুনতে হয়। ৪০৯+ জন শিশুর মৃত্যু কোনো পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি জাতীয় শোক। সবচেয়ে শঙ্কার কথা হলো, এই সরকার কেবল দেশের অভ্যন্তরেই ব্যর্থ হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করেছে। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যে তলানিতে ঠেকেছে, তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। একটি জনবান্ধব ও দায়বদ্ধ সরকার থাকলে আজ হয়তো দেশের বাতাস টিকার জন্য শিশুদের কান্না নয়, বরং তাদের হাসিতে মুখরিত হতো। সময় এসেছে এই অযোগ্য ও কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ প্রশাসনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার।

লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ