প্রকাশ্যে নারী পিটিয়ে শিবিরের মুসা মন্ডল এখন বিরাট নেতা!

তন্নী মল্লিকের চোখের পানি আর শুকায় না। ২০২২ সালে ঢাকা গেটের সামনে তাঁকে যে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছিল, সেই লোকটার নাম মুসা মন্ডল। অমর একুশে হলে সে ছাত্রলীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেজে ঘুরে বেড়াত। আসলে সে ছাত্রশিবিরের নেতা। এই একটা তথ্যই বলে দেয় গত দেড় দশকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কী ধরনের রাজনীতির খেলা চলেছে।

শিবির কখনো সরাসরি মাঠে থাকেনি। তারা পরিচয় লুকিয়ে ছাত্রলীগের ভেতরে ঢুকেছে, ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে হামলা করেছে, আর পরে সেই হামলার দায়টা ছাত্রলীগের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেরা সরে গেছে। এটা নতুন কিছু না। শিবিরের এই গুপ্তচর রাজনীতির ইতিহাস অনেক পুরনো। নব্বইয়ের দশক থেকেই তারা বিভিন্ন সংগঠনে ঢুকে ভেতর থেকে কাজ করে এসেছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় দিনের আলোয় একজন নারীকে লাঠিপেটা করার সাহস তারা পেল কোথা থেকে? এই প্রশ্নটা করা দরকার।

সাহসটা এসেছে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে। জামায়াতে ইসলামী এবং তার ছাত্র সংগঠন শিবির বাংলাদেশে টিকে আছে মূলত বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে। একাত্তরে এই সংগঠনের নেতারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়েছিল। এই দলের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় দিয়েছে। তারপরও এই দলটা রাজনীতি করে যাচ্ছে, কারণ বিএনপি তাদের প্রয়োজন মেটায়।

বিএনপির জন্মটাই প্রশ্নবিদ্ধ। জিয়াউর রহমান সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতায় এসে দল বানিয়েছিলেন সেনানিবাসে বসে, রাজনীতিকদের কিনে এনে। ১৯৭৮ আর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ফলাফল নিজের মতো বানিয়ে নেওয়া হয়েছে, এটা ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে। সেই দলটাই পরবর্তীতে জামায়াতকে পুনর্বাসিত করেছে, তাদের মন্ত্রী বানিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক বৈধতা দিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সারা দেশে সংখ্যালঘুদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, সেই রেকর্ড মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে আছে। শিবিরের ক্যাডাররা ক্যাম্পাসে কীভাবে ছাত্রদের জিম্মি করে রাখত, চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে, হাত-পা কেটেছে, সেই ঘটনাগুলো ভুলে যাওয়ার মতো না।

তন্নী মল্লিকের ঘটনায় ফিরে আসি। মুসা মন্ডল ছাত্রলীগ সেজে হামলা করেছিল, এটা এখন প্রমাণিত। কিন্তু এই লোকটার বিচার হয়েছে? না। কেন হয়নি? কারণ বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার হয় না, এটা একটা প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হয়ে গেছে। আর শিবির যখন অন্য পরিচয়ে হামলা করে, তখন তো আরও বেশি পার পেয়ে যায়, কারণ দায়টা পড়ে অন্যের উপর।

এখন ২০২৬ সাল। শিবিরের সেই মুসা মন্ডলরা এখন আরও বড় নেতা। বিএনপি-জামায়াত এখন আবার মাঠে সক্রিয়। তন্নী মল্লিক বিচার চাইছেন, চোখের পানি ফেলছেন। সেই বিচার না হলে বোঝা যাবে পরিবর্তনটা আসলে কতটা গভীর, আর কতটা শুধু মুখের কথা।

তন্নী মল্লিকের চোখের পানি আর শুকায় না। ২০২২ সালে ঢাকা গেটের সামনে তাঁকে যে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছিল, সেই লোকটার নাম মুসা মন্ডল। অমর একুশে হলে সে ছাত্রলীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেজে ঘুরে বেড়াত। আসলে সে ছাত্রশিবিরের নেতা। এই একটা তথ্যই বলে দেয় গত দেড় দশকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কী ধরনের রাজনীতির খেলা চলেছে।

শিবির কখনো সরাসরি মাঠে থাকেনি। তারা পরিচয় লুকিয়ে ছাত্রলীগের ভেতরে ঢুকেছে, ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে হামলা করেছে, আর পরে সেই হামলার দায়টা ছাত্রলীগের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেরা সরে গেছে। এটা নতুন কিছু না। শিবিরের এই গুপ্তচর রাজনীতির ইতিহাস অনেক পুরনো। নব্বইয়ের দশক থেকেই তারা বিভিন্ন সংগঠনে ঢুকে ভেতর থেকে কাজ করে এসেছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় দিনের আলোয় একজন নারীকে লাঠিপেটা করার সাহস তারা পেল কোথা থেকে? এই প্রশ্নটা করা দরকার।

সাহসটা এসেছে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে। জামায়াতে ইসলামী এবং তার ছাত্র সংগঠন শিবির বাংলাদেশে টিকে আছে মূলত বিএনপির কাঁধে ভর দিয়ে। একাত্তরে এই সংগঠনের নেতারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়েছিল। এই দলের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় দিয়েছে। তারপরও এই দলটা রাজনীতি করে যাচ্ছে, কারণ বিএনপি তাদের প্রয়োজন মেটায়।

বিএনপির জন্মটাই প্রশ্নবিদ্ধ। জিয়াউর রহমান সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতায় এসে দল বানিয়েছিলেন সেনানিবাসে বসে, রাজনীতিকদের কিনে এনে। ১৯৭৮ আর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ফলাফল নিজের মতো বানিয়ে নেওয়া হয়েছে, এটা ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে। সেই দলটাই পরবর্তীতে জামায়াতকে পুনর্বাসিত করেছে, তাদের মন্ত্রী বানিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক বৈধতা দিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সারা দেশে সংখ্যালঘুদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, সেই রেকর্ড মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে আছে। শিবিরের ক্যাডাররা ক্যাম্পাসে কীভাবে ছাত্রদের জিম্মি করে রাখত, চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে, হাত-পা কেটেছে, সেই ঘটনাগুলো ভুলে যাওয়ার মতো না।

তন্নী মল্লিকের ঘটনায় ফিরে আসি। মুসা মন্ডল ছাত্রলীগ সেজে হামলা করেছিল, এটা এখন প্রমাণিত। কিন্তু এই লোকটার বিচার হয়েছে? না। কেন হয়নি? কারণ বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার হয় না, এটা একটা প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হয়ে গেছে। আর শিবির যখন অন্য পরিচয়ে হামলা করে, তখন তো আরও বেশি পার পেয়ে যায়, কারণ দায়টা পড়ে অন্যের উপর।

এখন ২০২৬ সাল। শিবিরের সেই মুসা মন্ডলরা এখন আরও বড় নেতা। বিএনপি-জামায়াত এখন আবার মাঠে সক্রিয়। তন্নী মল্লিক বিচার চাইছেন, চোখের পানি ফেলছেন। সেই বিচার না হলে বোঝা যাবে পরিবর্তনটা আসলে কতটা গভীর, আর কতটা শুধু মুখের কথা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ