সাতক্ষীরার একটা ছোট ইলেকট্রনিক দোকানের কথা ভাবুন। দোকানদার সকাল থেকে বসে আছেন, কিন্তু ক্রেতা নেই। ফ্যান বিক্রি হচ্ছে না, কারণ ফ্যান কিনে কী করবে মানুষ, বিদ্যুৎই তো নেই। এই যে পরিস্থিতি, এটা নতুন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। এটা সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা আর দায়িত্বজ্ঞানশূন্য প্রশাসনের ফসল।
৬৫টির বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, উৎপাদনে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ঘাটতি, প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের সংকট। গ্রামে গ্রামে দিনে আট থেকে দশ ঘণ্টা অন্ধকার। রেস্টুরেন্টের ফ্রিজে রাখা খাবার পচছে, কাপড়ের দোকান ফাঁকা পড়ে আছে। এই হলো এপ্রিল ২০২৬-এর বাংলাদেশ, যেখানে বিএনপি এবং তাদের মন্ত্রিসভা ক্ষমতায় আছে একটি ভোটের নামে প্রহসন করে।
এই সরকার কীভাবে ক্ষমতায় এসেছে, সেটা মানুষ ভোলেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যায়নি। যে ভোটে জনগণ অংশ নেয় না, যে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না, সেটাকে নির্বাচন বলে না, সেটা একটা সাজানো মঞ্চনাটক। সেই মঞ্চনাটকের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা এই সরকার এখন কোটি মানুষের ঘরে অন্ধকার দিচ্ছে, আর মুখে বলছে উন্নয়নের কথা।
বিএনপি নিজেই একটি দলের নাম, কিন্তু এর জন্মটা কোথায়? জিয়াউর রহমান, যিনি সেনানিবাসে বসে এই দল বানিয়েছিলেন, তার হাতে তৈরি এই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দুর্নীতি আর পেশিশক্তির রাজনীতিকে যতটা স্বাভাবিক করে তুলেছে, তা অন্য কোনো দল এককভাবে পারেনি। বারবার ক্ষমতায় এসেছে, বারবার চলে গেছে, কিন্তু প্রতিবারই রেখে গেছে লুটপাট আর অব্যবস্থার একটা নতুন স্তর।
এখন যে মন্ত্রিসভা আছে, তারা বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে কী করছে? কোনো জরুরি পদক্ষেপ নেই, কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা নেই, কোনো সময়সীমা নেই। মন্ত্রীরা যখন কথা বলেন, তখন এমনভাবে বলেন যেন বিদ্যুৎ না থাকাটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা, যেন এটা মেনে নেওয়াই উচিত। কিন্তু এটা স্বাভাবিক নয়। এপ্রিল মাসের তীব্র গরমে একটা শিশু যখন ঘুমাতে পারছে না, একজন রোগী যখন হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছাড়া পড়ে থাকছে, একজন দোকানদার যখন সারাদিন বসে থেকেও এক টাকার বিক্রি করতে পারছেন না। এটা ব্যর্থতা, এবং এই ব্যর্থতার দায় পুরোটাই এই সরকারের।
যে সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন, তার কাছে দায়বদ্ধতা আশা করাটা হয়তো বাড়াবাড়ি। কিন্তু মানুষের জীবন তো থেমে নেই। ব্যবসা ডুবছে, ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে, রাত নামলে পুরো এলাকা অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। এই অন্ধকারের বিপরীতে মন্ত্রীদের কাছে কোনো জবাব নেই, কারণ জবাব দেওয়ার জন্য যে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়, সেই জনগণের ম্যান্ডেটই তাদের নেই।

