সম্প্রতি নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় সভায় লাঞ্চের মেন্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, ওই সভার মধ্যাহ্নভোজে ছিল অত্যন্ত সাদামাটা খাবার—ভাত, ছোট চিংড়ি দিয়ে লাউ, ঢেঁড়শ ভাজি, সেদ্ধ ডিমের তরকারি, ডাল ও দই।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশে যখন তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চলছে, তখন এই লাউ-ডিমের সাদামাটা গল্পের অবতারণা করে মানুষের সহানুভূতি নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারেক রহমান। সমালোচকরা বলছেন, জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ প্রশমিত করতেই প্রচার করা হচ্ছে এই কৃচ্ছ্রসাধনের গল্প।
বাস্তব চিত্র অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের শিল্প খাত এখন খাদের কিনারে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় বিদেশি ক্রেতারা জুলাই-আগস্টের ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন এবং এসব অর্ডার বাংলাদেশে না দিয়ে ভারতে সরিয়ে নিচ্ছেন।
বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম পারভেজ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বড় বিদেশি ক্রেতারা এখন স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন যে, জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা অর্ডার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সোলার প্যানেল আমদানিতে নীতিগত সহায়তা ও কর ছাড়ের দাবি তুলেছেন।
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোও আশাব্যঞ্জক নয়। রপ্তানি আয় টানা আট মাস ধরে নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে মোট রপ্তানি আয় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাক খাতে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়িক খরচও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
একদিকে সরকারি উচ্চপর্যায়ে সাদামাটা খাবারের প্রচার আর অন্যদিকে শিল্প ও রপ্তানি খাতের ধস—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

