জুলাই দাঙ্গায় স্নাইপারের গুলির জোগানদাতা ছিলেন বরখাস্ত কর্নেল হাসিনুর!

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দাঙ্গা চলাকালে আন্দোলনে লাশের সংখ্যা বাড়াতে স্নাইপার রাইফেলে ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ৭.৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল। আর এই নিষিদ্ধ বোরের গুলির জোগানদাতা হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানের নাম উঠে এসেছে। গোপন নথিপত্র ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই প্রাণঘাতী অস্ত্র ও গুলি সরবরাহে সেনাবাহিনীর আর্টিলারি বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে।

গত জুলাইয়ের ১৬ তারিখ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত চলা তীব্র গণ-আন্দোলনে ঢাকায় নিহতদের একটি বড় অংশই ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের গুলিতে প্রাণ হারান। সাধারণত দূরপাল্লার স্নাইপার রাইফেলে এই ক্যালিবারের গুলি ব্যবহৃত হয়। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনে লাশের সংখ্যা বাড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতেই এসব প্রাণঘাতী অস্ত্র ও গুলি সরবরাহ করা হয়েছিল। কীভাবে এসব গুলি বরখাস্ত কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও সেনাবাহিনীর আর্টিলারি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রবল হচ্ছে।

অতীতের গুরুতর সব অপরাধের রেকর্ড থাকার পরও বরখাস্ত কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান বর্তমানে বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। প্রকাশ্যে তিনি দম্ভভরে দাবি করছেন, জুলাই-আগস্টের অস্থিরতায় তিনি ও তার সহযোগীরা সশস্ত্রভাবেই মাঠে ছিলেন।

শুধু তাই নয়, বিচারালয়েও তিনি বেপরোয়া আচরণ করেছেন। গত বছরের (২০২৫) ২৩ নভেম্বর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানিকালে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহারকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ ও হুমকি দেন।

ওই দিন শুনানি শেষে আদালতকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় হাসিনুর রহমান আইনজীবী নাজনীন নাহারকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি তোমাকে ছিঁড়ে ফেলব’। একই সময়ে তিনি ব্যারিস্টার নাজিয়া কবিরকেও অপমান করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেখানে উপস্থিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ওই দুই আইনজীবীকে নিরাপদে বের হতে সহায়তা করেন। তবে আদালত অবমাননাকর এই গুরুতর ঘটনা সে সময় গণমাধ্যমে সেভাবে প্রকাশ পায়নি।

গোপন নথিপত্র অনুযায়ী, হাসিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা (অসম) ও এনএসসিএন (আই-এম) এবং বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ও হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে র‍্যাবের অভিযানে এসব সংগঠনের কার্যক্রম দমনের পর তদন্তে হাসিনুরের গভীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশে আশ্রয় ও সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করারও অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের দায়ে ২০১২ সালের ১৫ মার্চ সামরিক আদালতের (কোর্ট মার্শাল) রায়ে হাসিনুরকে চাকরিচ্যুত করে চার বছর তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর সহযোগী লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজালুল হক ও মেজর মহসিনুল করিমকেও তখন বরখাস্ত করা হয়েছিল।

২০১৪ সালে সাজা পূর্ণ হওয়ার আগেই রহস্যজনকভাবে হাসিনুর মুক্তি পায়। এরপর ২০১৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ ওঠে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে কিছু অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সামরিক কর্মকর্তা শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের একটি পরিকল্পনায় যুক্ত হন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশব্যাপী অস্থিরতার সময় তাঁদের সঙ্গে আর্টিলারি ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অস্থিরতার ওই সময় উলফা, নাগা ও আরাকানভিত্তিক বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের দেশের ভেতরে তৎপরতা ছিল। এছাড়া ওই একই সময়ে অন্তত তিনজন মার্কিন নাগরিকেরও বাংলাদেশে অবস্থানের তথ্য জানা গেছে, যা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।

এত সব চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ এবং প্রকাশ্যে সশস্ত্র থাকার আস্ফালনের পরও সংশ্লিষ্ট মহল ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রাণঘাতী অস্ত্রের উৎস এবং দেশি-বিদেশি সংযোগের বিষয়টি পরিষ্কার করতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত প্রয়োজন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দাঙ্গা চলাকালে আন্দোলনে লাশের সংখ্যা বাড়াতে স্নাইপার রাইফেলে ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ৭.৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল। আর এই নিষিদ্ধ বোরের গুলির জোগানদাতা হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানের নাম উঠে এসেছে। গোপন নথিপত্র ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই প্রাণঘাতী অস্ত্র ও গুলি সরবরাহে সেনাবাহিনীর আর্টিলারি বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে।

গত জুলাইয়ের ১৬ তারিখ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত চলা তীব্র গণ-আন্দোলনে ঢাকায় নিহতদের একটি বড় অংশই ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের গুলিতে প্রাণ হারান। সাধারণত দূরপাল্লার স্নাইপার রাইফেলে এই ক্যালিবারের গুলি ব্যবহৃত হয়। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনে লাশের সংখ্যা বাড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতেই এসব প্রাণঘাতী অস্ত্র ও গুলি সরবরাহ করা হয়েছিল। কীভাবে এসব গুলি বরখাস্ত কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও সেনাবাহিনীর আর্টিলারি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রবল হচ্ছে।

অতীতের গুরুতর সব অপরাধের রেকর্ড থাকার পরও বরখাস্ত কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান বর্তমানে বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। প্রকাশ্যে তিনি দম্ভভরে দাবি করছেন, জুলাই-আগস্টের অস্থিরতায় তিনি ও তার সহযোগীরা সশস্ত্রভাবেই মাঠে ছিলেন।

শুধু তাই নয়, বিচারালয়েও তিনি বেপরোয়া আচরণ করেছেন। গত বছরের (২০২৫) ২৩ নভেম্বর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানিকালে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন নাহারকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ ও হুমকি দেন।

ওই দিন শুনানি শেষে আদালতকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় হাসিনুর রহমান আইনজীবী নাজনীন নাহারকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি তোমাকে ছিঁড়ে ফেলব’। একই সময়ে তিনি ব্যারিস্টার নাজিয়া কবিরকেও অপমান করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেখানে উপস্থিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ওই দুই আইনজীবীকে নিরাপদে বের হতে সহায়তা করেন। তবে আদালত অবমাননাকর এই গুরুতর ঘটনা সে সময় গণমাধ্যমে সেভাবে প্রকাশ পায়নি।

গোপন নথিপত্র অনুযায়ী, হাসিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা (অসম) ও এনএসসিএন (আই-এম) এবং বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ও হিজবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে র‍্যাবের অভিযানে এসব সংগঠনের কার্যক্রম দমনের পর তদন্তে হাসিনুরের গভীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশে আশ্রয় ও সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করারও অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের দায়ে ২০১২ সালের ১৫ মার্চ সামরিক আদালতের (কোর্ট মার্শাল) রায়ে হাসিনুরকে চাকরিচ্যুত করে চার বছর তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর সহযোগী লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজালুল হক ও মেজর মহসিনুল করিমকেও তখন বরখাস্ত করা হয়েছিল।

২০১৪ সালে সাজা পূর্ণ হওয়ার আগেই রহস্যজনকভাবে হাসিনুর মুক্তি পায়। এরপর ২০১৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ ওঠে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে কিছু অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সামরিক কর্মকর্তা শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের একটি পরিকল্পনায় যুক্ত হন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশব্যাপী অস্থিরতার সময় তাঁদের সঙ্গে আর্টিলারি ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অস্থিরতার ওই সময় উলফা, নাগা ও আরাকানভিত্তিক বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের দেশের ভেতরে তৎপরতা ছিল। এছাড়া ওই একই সময়ে অন্তত তিনজন মার্কিন নাগরিকেরও বাংলাদেশে অবস্থানের তথ্য জানা গেছে, যা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।

এত সব চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ এবং প্রকাশ্যে সশস্ত্র থাকার আস্ফালনের পরও সংশ্লিষ্ট মহল ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রাণঘাতী অস্ত্রের উৎস এবং দেশি-বিদেশি সংযোগের বিষয়টি পরিষ্কার করতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত প্রয়োজন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ