বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও কথিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। আজ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক অনলাইন সভায় এই আবেদন জানানো হয়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইহোয়ান ডানিয়েলসন এবং এভিন ইনচির-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই সভায় আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত, সুইডেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. ফরহাদ আলী খান, সাধারণ সম্পাদক যুবাইদুল হক সবুজ এবং সুইডেনের মূলধারার রাজনীতিক ও সুইডেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. হুমায়ূন কবীর।
সভায় বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর অগণতান্ত্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দলীয় নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়ন এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর নজিরবিহীন উত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তাদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে প্রহসনমূলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় আরও অভিযোগ করা হয় যে, একটি নির্বাচিত সরকারকে অসাংবিধানিক পন্থায় উৎখাত করে জঙ্গিবাদী শক্তিগুলো দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি এবং আওয়ামী লীগকে পরিকল্পিতভাবে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বক্তারা দাবি করেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মুক্তিকামী জনগণের ওপর নির্যাতন, জেল-জুলুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে।
পরিশেষে, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সকল বিচারবহির্ভূত ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

