ইনসাফের দোকানে ভেজাল মাল: নিমের মাজনে নিম নেই, জামায়াতের ইসলামে ইসলাম নেই

সিরাজগঞ্জে জামায়াতের যে নেতার কারখানা সিলগালা হলো, তার গল্পটা আসলে বেশ মজার। নিমের মাজন বানানোর কথা বলে লাইসেন্স নিয়েছেন, কিন্তু ভেতরে বানাচ্ছেন হারপিক। কয়েল। গরু-ছাগলের ওষুধ। আর প্যাকেটে মেয়াদের তারিখ লেখার সময়ও পাননি ভদ্রলোক। এই একটা কারখানার ঘটনাই বলে দেয় জামায়াত মানে কী। বাইরে একটা, ভেতরে আরেকটা। লেবেলে লেখা নিম, প্যাকেটে আসলে হারপিক।

১৯৭১ সালে এই দলটা ঠিক এভাবেই কাজ করেছিল। মুখে ইসলাম রক্ষার কথা, হাতে পাকিস্তানি আর্মির হয়ে বাঙালি মারার অস্ত্র। গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, এই নামগুলো বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনালে শুধু অভিযুক্ত হননি, দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ফাঁসি হয়েছে।

একাত্তরে এই দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রসংঘ থেকে তৈরি হয়েছিল আলবদর, যারা দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে যাদের লাশ পাওয়া গিয়েছিল, তাদের অনেকের হত্যার নেপথ্যে ছিল এই সংগঠনের লোকজন। এই ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষ জানে। জামায়াতও জানে যে মানুষ জানে। তারপরও তারা প্রতিটা নির্বাচনে মাঠে নামে, প্রতিটা মঞ্চে উঠে কোরআনের আয়াত পড়ে, ইনসাফের কথা বলে।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের কথায় আসি। আওয়ামী লীগ নেই। বড় অন্যান্য দলগুলোও নেই। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, যাদের মিলিয়ে মিলিয়ে ভোটব্যাংক দেশের মোট ভোটারের সত্তর আশি ভাগের কাছাকাছি, তারা কেউ এই নির্বাচনে ছিল না। ভোটার উপস্থিতির যে চিত্র বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এসেছে সেটা দেখে লজ্জা লাগে।

ফাঁকা বুথ, কোথাও কোথাও হাতে গোনা কয়েকজন ভোটার। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত নির্বাচনে গেছে, কিছু আসন পেয়েছে, এবং এখন গলা উঁচিয়ে নিজেদের বিরোধী দল বলছে। বিরোধী দল মানে কী? মানে হলো জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিকল্প কণ্ঠস্বর হওয়া। কিন্তু যে নির্বাচনে জনগণ ছিলই না, সেই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গণতান্ত্রিক বৈধতার দাবি করা রীতিমতো প্রতারণা।

এখানে আরেকটা কথা না বললেই নয়। জামায়াত একটা আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত সংগঠন। পাকিস্তানে এই দলের মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের সম্পর্ক নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বহু বছর ধরে লিখে আসছেন। বাংলাদেশে হলি আর্টিজান হামলার পরে যে তদন্ত হয়েছে, জঙ্গি নেটওয়ার্কের যে মানচিত্র তৈরি হয়েছে, সেখানে ইসলামপন্থী রাজনীতির ছায়ায় বেড়ে ওঠা বিভিন্ন সংগঠনের নাম বারবার এসেছে। জামায়াত সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এমন দাবি প্রমাণসাপেক্ষ, কিন্তু এই দলের আদর্শগত পরিবেশ থেকে কোন ধরনের মানুষ তৈরি হয় সেটা বাংলাদেশ গত পঞ্চাশ বছরে বারবার দেখেছে।

ফিরে আসি সিরাজগঞ্জের সেই কারখানায়। কারখানার ম্যানেজারকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কারখানা সিলগালা হয়েছে। মালিক নজরুল ইসলাম কাওয়াকোলা ইউনিয়নের জামায়াত আমির, একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। এই লোক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে। আর তিনি সেই মানুষদের জন্য কী করেছেন? ভেজাল ওষুধ, নকল মাজন, অনুমোদনহীন কারখানা। এটাই তার জনসেবার নমুনা। এটাই তার দলের ইনসাফ।

জামায়াত প্রতিটা বক্তৃতায় আখেরাতের কথা বলে, বেহেশতের কথা বলে, আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার কথা বলে। কিন্তু যে দলের নেতা মানুষকে ভেজাল ওষুধ গেলায়, যে দলের প্রতিষ্ঠাতারা গণহত্যায় সহযোগী ছিলেন, সেই দলের বেহেশতের টিকেট কীভাবে নিশ্চিত হয় সেটা সত্যিই বোঝার বাইরে।

সিরাজগঞ্জে জামায়াতের যে নেতার কারখানা সিলগালা হলো, তার গল্পটা আসলে বেশ মজার। নিমের মাজন বানানোর কথা বলে লাইসেন্স নিয়েছেন, কিন্তু ভেতরে বানাচ্ছেন হারপিক। কয়েল। গরু-ছাগলের ওষুধ। আর প্যাকেটে মেয়াদের তারিখ লেখার সময়ও পাননি ভদ্রলোক। এই একটা কারখানার ঘটনাই বলে দেয় জামায়াত মানে কী। বাইরে একটা, ভেতরে আরেকটা। লেবেলে লেখা নিম, প্যাকেটে আসলে হারপিক।

১৯৭১ সালে এই দলটা ঠিক এভাবেই কাজ করেছিল। মুখে ইসলাম রক্ষার কথা, হাতে পাকিস্তানি আর্মির হয়ে বাঙালি মারার অস্ত্র। গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, এই নামগুলো বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনালে শুধু অভিযুক্ত হননি, দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ফাঁসি হয়েছে।

একাত্তরে এই দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রসংঘ থেকে তৈরি হয়েছিল আলবদর, যারা দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল। রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে যাদের লাশ পাওয়া গিয়েছিল, তাদের অনেকের হত্যার নেপথ্যে ছিল এই সংগঠনের লোকজন। এই ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষ জানে। জামায়াতও জানে যে মানুষ জানে। তারপরও তারা প্রতিটা নির্বাচনে মাঠে নামে, প্রতিটা মঞ্চে উঠে কোরআনের আয়াত পড়ে, ইনসাফের কথা বলে।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের কথায় আসি। আওয়ামী লীগ নেই। বড় অন্যান্য দলগুলোও নেই। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল, যাদের মিলিয়ে মিলিয়ে ভোটব্যাংক দেশের মোট ভোটারের সত্তর আশি ভাগের কাছাকাছি, তারা কেউ এই নির্বাচনে ছিল না। ভোটার উপস্থিতির যে চিত্র বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এসেছে সেটা দেখে লজ্জা লাগে।

ফাঁকা বুথ, কোথাও কোথাও হাতে গোনা কয়েকজন ভোটার। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত নির্বাচনে গেছে, কিছু আসন পেয়েছে, এবং এখন গলা উঁচিয়ে নিজেদের বিরোধী দল বলছে। বিরোধী দল মানে কী? মানে হলো জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিকল্প কণ্ঠস্বর হওয়া। কিন্তু যে নির্বাচনে জনগণ ছিলই না, সেই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গণতান্ত্রিক বৈধতার দাবি করা রীতিমতো প্রতারণা।

এখানে আরেকটা কথা না বললেই নয়। জামায়াত একটা আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত সংগঠন। পাকিস্তানে এই দলের মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের সম্পর্ক নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বহু বছর ধরে লিখে আসছেন। বাংলাদেশে হলি আর্টিজান হামলার পরে যে তদন্ত হয়েছে, জঙ্গি নেটওয়ার্কের যে মানচিত্র তৈরি হয়েছে, সেখানে ইসলামপন্থী রাজনীতির ছায়ায় বেড়ে ওঠা বিভিন্ন সংগঠনের নাম বারবার এসেছে। জামায়াত সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এমন দাবি প্রমাণসাপেক্ষ, কিন্তু এই দলের আদর্শগত পরিবেশ থেকে কোন ধরনের মানুষ তৈরি হয় সেটা বাংলাদেশ গত পঞ্চাশ বছরে বারবার দেখেছে।

ফিরে আসি সিরাজগঞ্জের সেই কারখানায়। কারখানার ম্যানেজারকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, কারখানা সিলগালা হয়েছে। মালিক নজরুল ইসলাম কাওয়াকোলা ইউনিয়নের জামায়াত আমির, একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। এই লোক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে। আর তিনি সেই মানুষদের জন্য কী করেছেন? ভেজাল ওষুধ, নকল মাজন, অনুমোদনহীন কারখানা। এটাই তার জনসেবার নমুনা। এটাই তার দলের ইনসাফ।

জামায়াত প্রতিটা বক্তৃতায় আখেরাতের কথা বলে, বেহেশতের কথা বলে, আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার কথা বলে। কিন্তু যে দলের নেতা মানুষকে ভেজাল ওষুধ গেলায়, যে দলের প্রতিষ্ঠাতারা গণহত্যায় সহযোগী ছিলেন, সেই দলের বেহেশতের টিকেট কীভাবে নিশ্চিত হয় সেটা সত্যিই বোঝার বাইরে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ