রাষ্ট্রের হেফাজতে হাতকড়া পরা পঙ্গু বৃদ্ধের মৃত্যু, জবাব দেবে কে?

শাহনূর আলম শান্তর বয়স ছিল ষাট বছর। এক পা নেই তার, ২০১৮ সালের একটা সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছিলেন। কৃত্রিম পায়ে চলতেন। গত ৪ জানুয়ারি বগুড়া শহরের একটা বিউটি পার্লারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন লুকিয়ে। সেখানে তাকে চিনতে পেরে ধরে ফেলে মারধর করা হয়। পুলিশ এসে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তারপর মামলায় গ্রেফতার, জেল। ছয় সপ্তাহ পর ঢাকার একটা হাসপাতালে রাত দশটার দিকে মারা গেছেন, হাতকড়া পরা অবস্থায়, মেঝেতে।

একটু ভাবুন এই দৃশ্যটার কথা। একজন পঙ্গু মানুষ, হাসপাতালের মেঝেতে, হাতকড়া পরা। এই অবস্থায় তিনি কোথায় পালাতেন? কার কাছে হুমকি ছিলেন তিনি?

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে এই দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যেভাবে ধরা হয়েছে, মামলা দেওয়া হয়েছে, তাতে আইনের কোনো ছায়া খুঁজে পাওয়া কঠিন। শান্তকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল সেটা নাশকতা আর হত্যাচেষ্টার। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন, তিনি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, স্থানীয়রা চিনতে পেরে মারধর করেছে, পুলিশ উদ্ধার করেছে। এরপর “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে” মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা” কারা ছিলেন, কোন নির্দেশে তারা চললেন, সেটা কি কেউ জিজ্ঞেস করবেন?

বগুড়া কারাগারেই এর আগে আরও পাঁচজন মারা গেছেন। এমদাদুল হক, আবদুল মতিন মিঠু, শাহাদত আলম ঝুনু, আবদুল লতিফ, শহিদুল ইসলাম রতন। একটা কারাগারে ছয়জন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যু কি স্বাভাবিক? কোনো তদন্ত হয়েছে? কেউ জবাবদিহি করেছেন?

ইউনুস সরকারের সময় এই মৃত্যুগুলো হয়েছে। সেই সরকার এখন নেই, কিন্তু প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে। বিএনপি এখন ক্ষমতায়, তারা কি এই মৃত্যুগুলোর তদন্ত করবেন? নাকি রাজনৈতিক হিসাব মেলানো শেষে এই মানুষগুলোর নাম ইতিহাসের ধুলোয় মিলিয়ে যাবে?

শান্তর একটাই মেয়ে, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুলে। সেই মেয়েটার বাবা আর নেই। কৃত্রিম পায়ে হাঁটা, স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া একজন মানুষ মারা গেছেন রাষ্ট্রের হেফাজতে। এই মৃত্যুর দায় কার, সেটা একদিন না একদিন স্পষ্ট হবে। ইতিহাস এই হিসাব রাখে।

শাহনূর আলম শান্তর বয়স ছিল ষাট বছর। এক পা নেই তার, ২০১৮ সালের একটা সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছিলেন। কৃত্রিম পায়ে চলতেন। গত ৪ জানুয়ারি বগুড়া শহরের একটা বিউটি পার্লারে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন লুকিয়ে। সেখানে তাকে চিনতে পেরে ধরে ফেলে মারধর করা হয়। পুলিশ এসে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তারপর মামলায় গ্রেফতার, জেল। ছয় সপ্তাহ পর ঢাকার একটা হাসপাতালে রাত দশটার দিকে মারা গেছেন, হাতকড়া পরা অবস্থায়, মেঝেতে।

একটু ভাবুন এই দৃশ্যটার কথা। একজন পঙ্গু মানুষ, হাসপাতালের মেঝেতে, হাতকড়া পরা। এই অবস্থায় তিনি কোথায় পালাতেন? কার কাছে হুমকি ছিলেন তিনি?

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে এই দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যেভাবে ধরা হয়েছে, মামলা দেওয়া হয়েছে, তাতে আইনের কোনো ছায়া খুঁজে পাওয়া কঠিন। শান্তকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল সেটা নাশকতা আর হত্যাচেষ্টার। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন, তিনি স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, স্থানীয়রা চিনতে পেরে মারধর করেছে, পুলিশ উদ্ধার করেছে। এরপর “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে” মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা” কারা ছিলেন, কোন নির্দেশে তারা চললেন, সেটা কি কেউ জিজ্ঞেস করবেন?

বগুড়া কারাগারেই এর আগে আরও পাঁচজন মারা গেছেন। এমদাদুল হক, আবদুল মতিন মিঠু, শাহাদত আলম ঝুনু, আবদুল লতিফ, শহিদুল ইসলাম রতন। একটা কারাগারে ছয়জন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যু কি স্বাভাবিক? কোনো তদন্ত হয়েছে? কেউ জবাবদিহি করেছেন?

ইউনুস সরকারের সময় এই মৃত্যুগুলো হয়েছে। সেই সরকার এখন নেই, কিন্তু প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে। বিএনপি এখন ক্ষমতায়, তারা কি এই মৃত্যুগুলোর তদন্ত করবেন? নাকি রাজনৈতিক হিসাব মেলানো শেষে এই মানুষগুলোর নাম ইতিহাসের ধুলোয় মিলিয়ে যাবে?

শান্তর একটাই মেয়ে, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুলে। সেই মেয়েটার বাবা আর নেই। কৃত্রিম পায়ে হাঁটা, স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া একজন মানুষ মারা গেছেন রাষ্ট্রের হেফাজতে। এই মৃত্যুর দায় কার, সেটা একদিন না একদিন স্পষ্ট হবে। ইতিহাস এই হিসাব রাখে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ