সার্কাসে পরিণত হয়েছে ইউনূসের বানানো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জুলাই-আগস্টের দাঙ্গা পরবর্তী সময়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এখন খোদ প্রসিকিউশনের দুর্নীতি, অসাংবিধানিক নিয়োগ এবং নজিরবিহীন রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে জর্জরিত হয়ে এক গভীর সংকটে পড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তড়িঘড়ি করে সাজানো এই বিচারিক কাঠামো এখন খোদ বিচারব্যবস্থার জন্য বুমেরাং হয়ে দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি আইসিটির প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে খালাস পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এই ট্রাইব্যুনালের নৈতিক ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা গেছে, তিনি অগ্রিম ১০ লাখ টাকা নগদ চেয়েছিলেন। যদিও অভিযোগের পর সাইমুম পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ট্রাইব্যুনাল এখন ন্যায়বিচারের চেয়ে ‘ডিল’ করার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিএনপিকেও চাপে ফেলেছে, কারণ আদালতের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাইব্যুনালের আইনি ভিত্তি শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইসিটি আইনে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তা করা হয়েছে স্রেফ অধ্যাদেশের মাধ্যমে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অধ্যাদেশ জারির যে প্রক্রিয়া, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া, এই ট্রাইব্যুনালের আইনি ভিত্তিও শুরু থেকেই চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইসিটি আইনে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তা করা হয়েছে স্রেফ অধ্যাদেশের মাধ্যমে যা অসাংবিধানিক। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কেবল সংসদ আইনসম্মতভাবে ভেঙে দেওয়া হলেই অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, যা এখানে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়নি। শুধু তাই নয়, ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারককেই সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী একজন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী করার আগে অন্তত দুই বছর সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, কিন্তু এখানে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ২২ জন বিচারপতিকে দ্রুত স্থায়ী করা হয়েছে যাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন নিয়ে কোনো ন্যূনতম অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে বিচারক শফিউল আলম মাহমুদের সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ট্রাইব্যুনালকে শুরুতেই পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলেছে, কারণ তিনি ২০১৯ সালে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

প্রসিকিউশন প্যানেল সাজানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আগে ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান আইনজীবী। তাকে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এছাড়া শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার তদন্ত মাত্র এক মাসে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, রায় সম্ভবত আগে থেকেই নির্ধারিত। এমনকি আসামিপক্ষকে তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিতে (আইসিসি) না গিয়ে এই ঘরোয়া ট্রাইব্যুনাল বেছে নেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে এই বিচারিক মানদণ্ড টেকানো সম্ভব হবে না বলেই এমন ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বেছে নেওয়া হয়েছে। এই অসাংবিধানিক জঞ্জাল এবং আইনি বিপর্যয় শেষ পর্যন্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকার ও দেশের ভাবমূর্তিকে এক বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেলে দিতে পারে।

জুলাই-আগস্টের দাঙ্গা পরবর্তী সময়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এখন খোদ প্রসিকিউশনের দুর্নীতি, অসাংবিধানিক নিয়োগ এবং নজিরবিহীন রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে জর্জরিত হয়ে এক গভীর সংকটে পড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তড়িঘড়ি করে সাজানো এই বিচারিক কাঠামো এখন খোদ বিচারব্যবস্থার জন্য বুমেরাং হয়ে দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি আইসিটির প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে খালাস পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এই ট্রাইব্যুনালের নৈতিক ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা গেছে, তিনি অগ্রিম ১০ লাখ টাকা নগদ চেয়েছিলেন। যদিও অভিযোগের পর সাইমুম পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ট্রাইব্যুনাল এখন ন্যায়বিচারের চেয়ে ‘ডিল’ করার আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিএনপিকেও চাপে ফেলেছে, কারণ আদালতের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাইব্যুনালের আইনি ভিত্তি শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইসিটি আইনে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তা করা হয়েছে স্রেফ অধ্যাদেশের মাধ্যমে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অধ্যাদেশ জারির যে প্রক্রিয়া, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া, এই ট্রাইব্যুনালের আইনি ভিত্তিও শুরু থেকেই চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইসিটি আইনে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তা করা হয়েছে স্রেফ অধ্যাদেশের মাধ্যমে যা অসাংবিধানিক। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কেবল সংসদ আইনসম্মতভাবে ভেঙে দেওয়া হলেই অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, যা এখানে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়নি। শুধু তাই নয়, ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারককেই সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী একজন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী করার আগে অন্তত দুই বছর সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, কিন্তু এখানে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ২২ জন বিচারপতিকে দ্রুত স্থায়ী করা হয়েছে যাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন নিয়ে কোনো ন্যূনতম অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে বিচারক শফিউল আলম মাহমুদের সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ট্রাইব্যুনালকে শুরুতেই পক্ষপাতদুষ্ট করে তুলেছে, কারণ তিনি ২০১৯ সালে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

প্রসিকিউশন প্যানেল সাজানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আগে ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান আইনজীবী। তাকে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এছাড়া শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার তদন্ত মাত্র এক মাসে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, রায় সম্ভবত আগে থেকেই নির্ধারিত। এমনকি আসামিপক্ষকে তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিতে (আইসিসি) না গিয়ে এই ঘরোয়া ট্রাইব্যুনাল বেছে নেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে এই বিচারিক মানদণ্ড টেকানো সম্ভব হবে না বলেই এমন ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বেছে নেওয়া হয়েছে। এই অসাংবিধানিক জঞ্জাল এবং আইনি বিপর্যয় শেষ পর্যন্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকার ও দেশের ভাবমূর্তিকে এক বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেলে দিতে পারে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ