দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মব ভায়োলেন্স ও চাঁদাবাজির যে মহোৎসব শুরু হয়েছে, তার সবশেষ শিকার হয়েছেন বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে দাবিকৃত চাঁদা ও কাজ না পাওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে দলটির একদল সন্ত্রাসী নেতাকর্মী এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়।
জানা গেছে, কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকল্প থেকে ১ টন চালের সমপরিমাণ অর্থ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের কাছে চাঁদা হিসেবে দাবি করেছিল সোহেল শিকদার। চেয়ারম্যান সেই অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে বাধ্যতামূলক উপস্থিতির যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে ঢাল বা ‘অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করে সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে একদল মাস্তান ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে মব তৈরি করে চেয়ারম্যানের ওপর চড়াও হয়।
এই ন্যক্কারজনক হামলায় সোহেল শিকদার ছাড়াও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মোসাব্বির, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নয়ন খান, যুবদল নেতা জুয়েল হাওলাদার, সোহেল হাওলাদার, এনামুল এবং কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সালাম শিকদারসহ একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী অংশ নেয়। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত জননন্দিত এই চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, “হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান তার জনসম্পৃক্ততার কারণে কোনো দেহরক্ষী বা দলবল নিয়ে চলেন না। এটি তার বিনয় ও জনতার প্রতি আত্মবিশ্বাস। এই সরলতাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে যারা একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির গায়ে হাত তুলেছে, তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ।” তিনি বিএনপি নেতৃত্বকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে ধরুন, অন্যথায় পতিত ফ্যাসিবাদের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
সারাদেশে যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক মব হামলা, স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাড়িতে গুলি কিংবা দুদকের ডিজির কাছ থেকে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে, তখন খোদ ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে সরকারি নিয়মের দোহাই দিয়ে চেয়ারম্যানকে পেটানোর এই ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে আইনের শাসন চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

