যে দেশে ফুল নিয়ে হাঁটা বিপজ্জনক : একটা ভাঙা বাড়ি, চারটা গ্রেপ্তার, একটা প্রশ্ন

ধরুন, আপনি সকালে উঠে হাঁটতে বের হলেন। রাস্তায় তাজা ফুল দেখে কিনলেন কিছু। অমনি পুলিশ এসে আপনাকে ধরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চালান করে দিলো। না, এটা কোনো ডিস্টোপিয়ান উপন্যাসের দৃশ্য না। আজ সকালে ঢাকায় এটাই হয়েছে।

তিনজন নারী আর একজন পুরুষ। ফুলের মালা হাতে যাচ্ছিলেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে। রাষ্ট্র তাদের সন্ত্রাসী ঘোষণা করেছে। যে আইনে মামলা হয়েছে, সেই আইনে সাজা হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত যায়। ফুল হাতে নিয়ে হাঁটার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বাংলাদেশে এখন এই আইনি ব্যবস্থা চালু আছে।

৩২ নম্বরের বাড়িটা আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে। ভাঙার সময় যারা ভেঙেছে তারা উৎসব করেছে, ভিডিও বানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছে। সেটা ছিল সহিংসতার উল্লাস। কিন্তু সেই ভাঙা ধ্বংসস্তূপের কাছে ফুল রাখতে যাওয়া হলো সন্ত্রাস। যুক্তিটা একটু বুঝিয়ে বলবেন কেউ?

৭ মার্চের ভাষণ নিয়েও একটা কথা বলা দরকার। ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ২০১৭ সালে। মানে পৃথিবীর ইতিহাসে এই ভাষণের একটা জায়গা আছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পছন্দ-অপছন্দের বাইরে। এই দিনে সেই মানুষটার স্মৃতিতে ফুল দেওয়া কোন দেশে অপরাধ? কোন রাষ্ট্রীয় দর্শনে?

এবার আসি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। ১২ ফেব্রুয়ারি যা হয়েছে সেটাকে নির্বাচন বলতে হলে শব্দটার সংজ্ঞা নতুন করে লিখতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, জাতীয় পার্টি কার্যত অস্তিত্বহীন, বামপন্থী দলগুলো বর্জন করেছে। যে কটা দল অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে বিএনপি আর জামাতই একমাত্র সংগঠিত শক্তি। ভোটার উপস্থিতির যে সংখ্যা বলা হয়েছে সেটা নিয়ে স্বাধীন কোনো যাচাই হয়নি। এই নির্বাচন থেকে যে সরকার এসেছে, তার জনগণের ম্যান্ডেটের দাবিটা কতটা শক্ত সেটা তারা নিজেরাও জানে। সম্ভবত সেই অনিশ্চয়তা থেকেই এই ভয়, এই দমন।

বিএনপি সম্পর্কে একটা সত্য কথা আছে যেটা বারবার ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। দলটার জন্ম সেনাছাউনিতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে তারপর দল বানিয়েছেন, নিজেকে বৈধতা দেওয়ার জন্য। এই দলের রক্তেই আছে ক্ষমতাকে গণতন্ত্রের উপরে রাখার প্রবৃত্তি। ২০০১ থেকে ২০০৬, এই পাঁচ বছর কী হয়েছিল সেটা যারা দেখেছেন তারা জানেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, জামায়াতকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তোলা, হাওয়া ভবন নামে একটা ছায়া সরকার চালানো, বাংলাভাই-শায়খ আবদুর রহমানের উত্থান এবং রাষ্ট্রের নির্লিপ্ততা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। এগুলো অভিযোগ না, নথিভুক্ত ইতিহাস।

সেই ইতিহাসের দল এখন আবার ক্ষমতায়। আর প্রথম কাজগুলোর একটা হলো ফুল হাতে হাঁটা মানুষকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ধরা। পরিচিত লাগছে?

যারা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেছেন, যারা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাদের অনেকে এখন চুপ করে আছেন কারণ বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বললে “আওয়ামী লীগের দালাল” তকমা পড়ে যাবে। এই বাইনারি ফাঁদটা খুব পুরনো এবং খুব কার্যকর। কিন্তু একটা সরকারের সমালোচনা করা মানে আরেকটা সরকারের পক্ষে যাওয়া না। আজ যে চারজনকে ধরা হয়েছে, কাল আরও ধরা হবে। যতদিন ফুল হাতে হাঁটাকে সন্ত্রাস বলা যাবে, ততদিন এই রাষ্ট্র নিরাপদ না, কারো জন্য না।

ধরুন, আপনি সকালে উঠে হাঁটতে বের হলেন। রাস্তায় তাজা ফুল দেখে কিনলেন কিছু। অমনি পুলিশ এসে আপনাকে ধরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চালান করে দিলো। না, এটা কোনো ডিস্টোপিয়ান উপন্যাসের দৃশ্য না। আজ সকালে ঢাকায় এটাই হয়েছে।

তিনজন নারী আর একজন পুরুষ। ফুলের মালা হাতে যাচ্ছিলেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে। রাষ্ট্র তাদের সন্ত্রাসী ঘোষণা করেছে। যে আইনে মামলা হয়েছে, সেই আইনে সাজা হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত যায়। ফুল হাতে নিয়ে হাঁটার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বাংলাদেশে এখন এই আইনি ব্যবস্থা চালু আছে।

৩২ নম্বরের বাড়িটা আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে। ভাঙার সময় যারা ভেঙেছে তারা উৎসব করেছে, ভিডিও বানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছে। সেটা ছিল সহিংসতার উল্লাস। কিন্তু সেই ভাঙা ধ্বংসস্তূপের কাছে ফুল রাখতে যাওয়া হলো সন্ত্রাস। যুক্তিটা একটু বুঝিয়ে বলবেন কেউ?

৭ মার্চের ভাষণ নিয়েও একটা কথা বলা দরকার। ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ২০১৭ সালে। মানে পৃথিবীর ইতিহাসে এই ভাষণের একটা জায়গা আছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পছন্দ-অপছন্দের বাইরে। এই দিনে সেই মানুষটার স্মৃতিতে ফুল দেওয়া কোন দেশে অপরাধ? কোন রাষ্ট্রীয় দর্শনে?

এবার আসি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। ১২ ফেব্রুয়ারি যা হয়েছে সেটাকে নির্বাচন বলতে হলে শব্দটার সংজ্ঞা নতুন করে লিখতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, জাতীয় পার্টি কার্যত অস্তিত্বহীন, বামপন্থী দলগুলো বর্জন করেছে। যে কটা দল অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে বিএনপি আর জামাতই একমাত্র সংগঠিত শক্তি। ভোটার উপস্থিতির যে সংখ্যা বলা হয়েছে সেটা নিয়ে স্বাধীন কোনো যাচাই হয়নি। এই নির্বাচন থেকে যে সরকার এসেছে, তার জনগণের ম্যান্ডেটের দাবিটা কতটা শক্ত সেটা তারা নিজেরাও জানে। সম্ভবত সেই অনিশ্চয়তা থেকেই এই ভয়, এই দমন।

বিএনপি সম্পর্কে একটা সত্য কথা আছে যেটা বারবার ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। দলটার জন্ম সেনাছাউনিতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে তারপর দল বানিয়েছেন, নিজেকে বৈধতা দেওয়ার জন্য। এই দলের রক্তেই আছে ক্ষমতাকে গণতন্ত্রের উপরে রাখার প্রবৃত্তি। ২০০১ থেকে ২০০৬, এই পাঁচ বছর কী হয়েছিল সেটা যারা দেখেছেন তারা জানেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, জামায়াতকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তোলা, হাওয়া ভবন নামে একটা ছায়া সরকার চালানো, বাংলাভাই-শায়খ আবদুর রহমানের উত্থান এবং রাষ্ট্রের নির্লিপ্ততা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। এগুলো অভিযোগ না, নথিভুক্ত ইতিহাস।

সেই ইতিহাসের দল এখন আবার ক্ষমতায়। আর প্রথম কাজগুলোর একটা হলো ফুল হাতে হাঁটা মানুষকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ধরা। পরিচিত লাগছে?

যারা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেছেন, যারা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাদের অনেকে এখন চুপ করে আছেন কারণ বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বললে “আওয়ামী লীগের দালাল” তকমা পড়ে যাবে। এই বাইনারি ফাঁদটা খুব পুরনো এবং খুব কার্যকর। কিন্তু একটা সরকারের সমালোচনা করা মানে আরেকটা সরকারের পক্ষে যাওয়া না। আজ যে চারজনকে ধরা হয়েছে, কাল আরও ধরা হবে। যতদিন ফুল হাতে হাঁটাকে সন্ত্রাস বলা যাবে, ততদিন এই রাষ্ট্র নিরাপদ না, কারো জন্য না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ