যাওয়ার আগে যা করে গেছেন ইউনূস, তার হিসাব কে দেবে?

নয় মাস ধরে বলা হলো শুল্কের কথা। শুধু শুল্ক। ৩৫ থেকে ২০-এ নামানোর গল্প। মানুষ বুঝল, ঠিক আছে, ট্রাম্পের সঙ্গে একটু দরকষাকষি চলছে, এটুকুই। কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি যে কাগজে সই হলো, সেটা দেখে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বললেন, তিনি “হতভম্ব”। “স্তম্ভিত”। একজন অর্থনীতিবিদ যখন এই শব্দ ব্যবহার করেন, তখন বুঝতে হয় ভেতরে কী আছে।

ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসেছিল একটা অসাধারণ মুহূর্তে। মানুষের রক্ত আর ক্ষোভের ভেতর দিয়ে। সেই মুহূর্তের একটা নৈতিক দায় ছিল। কিন্তু যে সরকারের কোনো ভোটের বৈধতা নেই, গণতান্ত্রিক জনম্যান্ডেট নেই, সে সরকার বিদায়ের ঠিক তিন দিন আগে এমন একটা চুক্তিতে সই করে গেল যার বোঝা বহন করতে হবে আগামী বছরের পর বছর। এটাকে কী বলব? দায়িত্বহীনতা? নাকি সচেতন কৌশল?

চুক্তির বিষয়বস্তু এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে নেই। এটা নিজেই একটা সমস্যা। যে চুক্তি দেশের বাণিজ্যনীতি নির্ধারণ করবে, সেই চুক্তির শর্ত কী সেটা দেশের মানুষ জানে না। সিপিডি বলছে এটা ডব্লিউটিও নীতির বিরুদ্ধে যায়। বলছে এটা বৈষম্যমূলক। বলছে একটা দুর্বল দেশকে চাপে রেখে এই চুক্তিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই কথাগুলো কোনো বিরোধী দলের নেতা বলছেন না। বলছে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

তাহলে জবাব কোথায়?

বিএনপি এখন ক্ষমতায়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ইউনূস সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে তারা সোচ্চার ছিল বিরোধী আসনে। আজ ক্ষমতায় বসে এই চুক্তি নিয়ে তাদের মুখে কুলুপ কেন? কারণটা সহজ। এই চুক্তি যদি খোলাসা হয়, যদি পুরো শর্ত জনগণের সামনে আসে, তাহলে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় চুক্তি বাতিল করো, নয়তো জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দাও কেন মানছ। দুটোর কোনোটাই সহজ না। তাই নীরবতাই কৌশল।

কিন্তু এই নীরবতার একটা দাম আছে। ইউনূস সরকারকে যারা মার্কিন স্বার্থের পরিচর্যাকারী বলে সমালোচনা করেছেন, তারা এখন বিএনপিকে কী বলবেন? একই চুক্তি মাথায় নিয়ে চুপ করে বসে থাকা সরকারকে? সমালোচনার ভাষাটা কি আলাদা হবে?

মোয়াজ্জেম বলেছেন, চুক্তি থেকে বেরোনোর পথ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসে আলোচনা করা যায়। এআরটি-র বদলে একটা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কাঠামো বানানো যায় যেটায় দুই দেশের স্বার্থ থাকবে। এটা অসম্ভব না। কিন্তু এই পথে হাঁটতে হলে আগে স্বীকার করতে হবে যে আগের চুক্তি ঠিক হয়নি। এই স্বীকারোক্তির জন্য যে রাজনৈতিক সাহস দরকার, সেটা বিএনপির আছে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন।

ইউনূস গেছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে যা করে গেছেন তার জবাব পাওয়ার দাবি জনগণের আছে। আর বিএনপি যদি সেই জবাব না খোঁজে, তাহলে এটা শুধু রাজনৈতিক সুবিধাবাদ না, এটা দায়িত্বের সরাসরি পরিত্যাগ।

নয় মাস ধরে বলা হলো শুল্কের কথা। শুধু শুল্ক। ৩৫ থেকে ২০-এ নামানোর গল্প। মানুষ বুঝল, ঠিক আছে, ট্রাম্পের সঙ্গে একটু দরকষাকষি চলছে, এটুকুই। কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি যে কাগজে সই হলো, সেটা দেখে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বললেন, তিনি “হতভম্ব”। “স্তম্ভিত”। একজন অর্থনীতিবিদ যখন এই শব্দ ব্যবহার করেন, তখন বুঝতে হয় ভেতরে কী আছে।

ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসেছিল একটা অসাধারণ মুহূর্তে। মানুষের রক্ত আর ক্ষোভের ভেতর দিয়ে। সেই মুহূর্তের একটা নৈতিক দায় ছিল। কিন্তু যে সরকারের কোনো ভোটের বৈধতা নেই, গণতান্ত্রিক জনম্যান্ডেট নেই, সে সরকার বিদায়ের ঠিক তিন দিন আগে এমন একটা চুক্তিতে সই করে গেল যার বোঝা বহন করতে হবে আগামী বছরের পর বছর। এটাকে কী বলব? দায়িত্বহীনতা? নাকি সচেতন কৌশল?

চুক্তির বিষয়বস্তু এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে নেই। এটা নিজেই একটা সমস্যা। যে চুক্তি দেশের বাণিজ্যনীতি নির্ধারণ করবে, সেই চুক্তির শর্ত কী সেটা দেশের মানুষ জানে না। সিপিডি বলছে এটা ডব্লিউটিও নীতির বিরুদ্ধে যায়। বলছে এটা বৈষম্যমূলক। বলছে একটা দুর্বল দেশকে চাপে রেখে এই চুক্তিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই কথাগুলো কোনো বিরোধী দলের নেতা বলছেন না। বলছে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

তাহলে জবাব কোথায়?

বিএনপি এখন ক্ষমতায়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ইউনূস সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে তারা সোচ্চার ছিল বিরোধী আসনে। আজ ক্ষমতায় বসে এই চুক্তি নিয়ে তাদের মুখে কুলুপ কেন? কারণটা সহজ। এই চুক্তি যদি খোলাসা হয়, যদি পুরো শর্ত জনগণের সামনে আসে, তাহলে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় চুক্তি বাতিল করো, নয়তো জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দাও কেন মানছ। দুটোর কোনোটাই সহজ না। তাই নীরবতাই কৌশল।

কিন্তু এই নীরবতার একটা দাম আছে। ইউনূস সরকারকে যারা মার্কিন স্বার্থের পরিচর্যাকারী বলে সমালোচনা করেছেন, তারা এখন বিএনপিকে কী বলবেন? একই চুক্তি মাথায় নিয়ে চুপ করে বসে থাকা সরকারকে? সমালোচনার ভাষাটা কি আলাদা হবে?

মোয়াজ্জেম বলেছেন, চুক্তি থেকে বেরোনোর পথ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসে আলোচনা করা যায়। এআরটি-র বদলে একটা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কাঠামো বানানো যায় যেটায় দুই দেশের স্বার্থ থাকবে। এটা অসম্ভব না। কিন্তু এই পথে হাঁটতে হলে আগে স্বীকার করতে হবে যে আগের চুক্তি ঠিক হয়নি। এই স্বীকারোক্তির জন্য যে রাজনৈতিক সাহস দরকার, সেটা বিএনপির আছে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন।

ইউনূস গেছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে যা করে গেছেন তার জবাব পাওয়ার দাবি জনগণের আছে। আর বিএনপি যদি সেই জবাব না খোঁজে, তাহলে এটা শুধু রাজনৈতিক সুবিধাবাদ না, এটা দায়িত্বের সরাসরি পরিত্যাগ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ