বেসিকটাই জানেন না, মন্ত্রী হয়েছেন কীসের জোরে?

বিদেশে সৌদি আরবের মাটিতে দুজন বাংলাদেশিকে শিরোচ্ছেদ করে ‘কথিত’ মৃত্যুদন্ডের নামে হত্যা করা করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের নিষ্ক্রিয়তার দায়ে। পরিবারগুলো তখন লাশের অপেক্ষায়, উত্তরের অপেক্ষায়, একটু সান্ত্বনার অপেক্ষায়। ঠিক সেই সময় সরকারের দুই দায়িত্বশীল মুখ যা করলেন, তাতে শোক ছাপিয়ে লজ্জাই বড় হয়ে ওঠে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টানলেন জেনেভা কনভেনশনের প্রসঙ্গ। অথচ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি ভিয়েনা কনভেনশন। এটা কোনো গবেষণার গভীর বিষয় নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন কর্মকর্তাও চাকরিতে যোগদানের প্রথম মাসের আগেই এটা শিখে ফেলেন। যে মন্ত্রণালয়ের কাজই দেশে দেশে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা, তার প্রতিমন্ত্রী যদি নিজের পেশার বর্ণমালাতেই হোঁচট খান, তাহলে আন্তর্জাতিক টেবিলে আমাদের কণ্ঠ কতটা জোরালো হবে, সেই প্রশ্ন তো উঠবেই।

ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ স্পষ্ট বলছে, কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার বা আটক হলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষকে বিলম্ব না করে তাঁর দূতাবাসকে জানাতে হবে। আটক ব্যক্তি বার্তা পাঠালে তা অবিলম্বে পৌঁছে দিতে হবে, আর তাঁকে এই অধিকারের কথা জানাতে হবে। ৩৭ অনুচ্ছেদ বলছে, কোনো বিদেশির মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কার্যালয়কে জানাতে হবে। প্রবাসে থাকা লাখো বাংলাদেশির জন্য এই ধারাগুলোই ভরসা। আর সেই ধারার নাম পর্যন্ত গুলিয়ে ফেললেন আমাদের প্রতিমন্ত্রী।

এখানেই শেষ হলে না হয় একটা ভুল বলে পার পাওয়া যেত। কিন্তু একই ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও ঢুকলেন তথ্যবিভ্রাটে। তিনি জানালেন, দুজনের একজন ওমরাযাত্রী ছিলেন। কিছুক্ষণ পর মন্ত্রণালয়ের নিজের নোটিশেই স্বীকার করা হলো, মন্ত্রী ভুল তথ্য দিয়েছেন, আসলে দুজনই ছিলেন শ্রমিক। ভাবুন একবার, যে মন্ত্রণালয়ের নাম প্রবাসী কল্যাণ, তারা জানেই না মৃত মানুষ দুটি কে, কী কারণে বিদেশে গিয়েছিলেন। একজন শ্রমিককে ওমরাযাত্রী বানিয়ে ফেলা কোনো মুখ ফসকানো শব্দের গোলমাল নয়। এটা মানুষের পরিচয় নিয়ে অবহেলা, যে মানুষগুলো রেমিট্যান্স পাঠিয়ে এই অর্থনীতির চাকা ঘোরান।

বিএনপি যখন ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন তাদের মুখে ছিল দক্ষতার গল্প, যোগ্য নেতৃত্বের গল্প, রাষ্ট্র চালানোর অভিজ্ঞতার গল্পের হ্যান করেঙ্গে ত্যান করেঙ্গের আলাপ। সেই দলই ক্ষমতায় এসে এমন সব দোপেয়ে বোধবুদ্ধিহীন পাঠাদের মন্ত্রী বানিয়েছে, যাঁরা কনভেনশনের নাম মনে রাখতে পারেন না, নিজের মন্ত্রণালয়ের নাগরিক কারা তা বলতে পারেন না। অভিজ্ঞতার দাবি তাহলে কোথায় গেল? বছরের পর বছর অপেক্ষার পর যাঁরা দায়িত্ব পেলেন, তাঁদের হোমওয়ার্কের অবস্থা কি তাহলে এই?

এই ভুলগুলো এসেছে একটা মৃত্যুর প্রসঙ্গে, যেখানে প্রতিটি শব্দচয়ন খুব হিসেব করে সাবধানে দ্বায়িত্ব নিয়ে বলার কথা। শোকাহত পরিবারের কাছে মন্ত্রীর কথা মানে সরকারের কথা। সেই কথা দুই ঘণ্টা পরে সংশোধন করতে হলে বোঝা যায়, তথ্য যাচাইয়ের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই। কে ব্রিফ করছেন, কে ফাইল দেখছেন, কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, এসব প্রশ্ন এখন আর বিরোধীদের বানানো নয়, মন্ত্রীরা নিজেরাই প্রশ্নগুলো তুলে দিয়েছেন।

ক্ষমতায় যাওয়া সহজ, রাষ্ট্র চালানো কঠিন। ভিয়েনা আর জেনেভার পার্থক্য না জানা একটা সামান্য ঘটনা মনে হতে পারে। কিন্তু একই সময়ে দুটি মন্ত্রণালয়ের এমন হাল দেখলে ছোট ঘটনার পেছনে বিএনপির আসল চেহারাইটা চোখে পড়ে। দেশ চালানোর ভার যাঁদের হাতে, তাঁদের কাছে মানুষ অন্তত এটুকু আশা করে যে তাঁরা জানবেন তাঁরা কী বলছেন।

বিদেশে সৌদি আরবের মাটিতে দুজন বাংলাদেশিকে শিরোচ্ছেদ করে ‘কথিত’ মৃত্যুদন্ডের নামে হত্যা করা করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের নিষ্ক্রিয়তার দায়ে। পরিবারগুলো তখন লাশের অপেক্ষায়, উত্তরের অপেক্ষায়, একটু সান্ত্বনার অপেক্ষায়। ঠিক সেই সময় সরকারের দুই দায়িত্বশীল মুখ যা করলেন, তাতে শোক ছাপিয়ে লজ্জাই বড় হয়ে ওঠে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টানলেন জেনেভা কনভেনশনের প্রসঙ্গ। অথচ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি ভিয়েনা কনভেনশন। এটা কোনো গবেষণার গভীর বিষয় নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন কর্মকর্তাও চাকরিতে যোগদানের প্রথম মাসের আগেই এটা শিখে ফেলেন। যে মন্ত্রণালয়ের কাজই দেশে দেশে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা, তার প্রতিমন্ত্রী যদি নিজের পেশার বর্ণমালাতেই হোঁচট খান, তাহলে আন্তর্জাতিক টেবিলে আমাদের কণ্ঠ কতটা জোরালো হবে, সেই প্রশ্ন তো উঠবেই।

ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ স্পষ্ট বলছে, কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার বা আটক হলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষকে বিলম্ব না করে তাঁর দূতাবাসকে জানাতে হবে। আটক ব্যক্তি বার্তা পাঠালে তা অবিলম্বে পৌঁছে দিতে হবে, আর তাঁকে এই অধিকারের কথা জানাতে হবে। ৩৭ অনুচ্ছেদ বলছে, কোনো বিদেশির মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কার্যালয়কে জানাতে হবে। প্রবাসে থাকা লাখো বাংলাদেশির জন্য এই ধারাগুলোই ভরসা। আর সেই ধারার নাম পর্যন্ত গুলিয়ে ফেললেন আমাদের প্রতিমন্ত্রী।

এখানেই শেষ হলে না হয় একটা ভুল বলে পার পাওয়া যেত। কিন্তু একই ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও ঢুকলেন তথ্যবিভ্রাটে। তিনি জানালেন, দুজনের একজন ওমরাযাত্রী ছিলেন। কিছুক্ষণ পর মন্ত্রণালয়ের নিজের নোটিশেই স্বীকার করা হলো, মন্ত্রী ভুল তথ্য দিয়েছেন, আসলে দুজনই ছিলেন শ্রমিক। ভাবুন একবার, যে মন্ত্রণালয়ের নাম প্রবাসী কল্যাণ, তারা জানেই না মৃত মানুষ দুটি কে, কী কারণে বিদেশে গিয়েছিলেন। একজন শ্রমিককে ওমরাযাত্রী বানিয়ে ফেলা কোনো মুখ ফসকানো শব্দের গোলমাল নয়। এটা মানুষের পরিচয় নিয়ে অবহেলা, যে মানুষগুলো রেমিট্যান্স পাঠিয়ে এই অর্থনীতির চাকা ঘোরান।

বিএনপি যখন ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন তাদের মুখে ছিল দক্ষতার গল্প, যোগ্য নেতৃত্বের গল্প, রাষ্ট্র চালানোর অভিজ্ঞতার গল্পের হ্যান করেঙ্গে ত্যান করেঙ্গের আলাপ। সেই দলই ক্ষমতায় এসে এমন সব দোপেয়ে বোধবুদ্ধিহীন পাঠাদের মন্ত্রী বানিয়েছে, যাঁরা কনভেনশনের নাম মনে রাখতে পারেন না, নিজের মন্ত্রণালয়ের নাগরিক কারা তা বলতে পারেন না। অভিজ্ঞতার দাবি তাহলে কোথায় গেল? বছরের পর বছর অপেক্ষার পর যাঁরা দায়িত্ব পেলেন, তাঁদের হোমওয়ার্কের অবস্থা কি তাহলে এই?

এই ভুলগুলো এসেছে একটা মৃত্যুর প্রসঙ্গে, যেখানে প্রতিটি শব্দচয়ন খুব হিসেব করে সাবধানে দ্বায়িত্ব নিয়ে বলার কথা। শোকাহত পরিবারের কাছে মন্ত্রীর কথা মানে সরকারের কথা। সেই কথা দুই ঘণ্টা পরে সংশোধন করতে হলে বোঝা যায়, তথ্য যাচাইয়ের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই। কে ব্রিফ করছেন, কে ফাইল দেখছেন, কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, এসব প্রশ্ন এখন আর বিরোধীদের বানানো নয়, মন্ত্রীরা নিজেরাই প্রশ্নগুলো তুলে দিয়েছেন।

ক্ষমতায় যাওয়া সহজ, রাষ্ট্র চালানো কঠিন। ভিয়েনা আর জেনেভার পার্থক্য না জানা একটা সামান্য ঘটনা মনে হতে পারে। কিন্তু একই সময়ে দুটি মন্ত্রণালয়ের এমন হাল দেখলে ছোট ঘটনার পেছনে বিএনপির আসল চেহারাইটা চোখে পড়ে। দেশ চালানোর ভার যাঁদের হাতে, তাঁদের কাছে মানুষ অন্তত এটুকু আশা করে যে তাঁরা জানবেন তাঁরা কী বলছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ