রংপুরের পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগের নামে যে চরম স্বেচ্ছাচারিতা চালানো হয়েছে, তা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি আজ সারা দেশের রাজনীতির রূঢ় ও নির্মম চিত্রের নিখুঁত প্রমাণ।
ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দলীয় প্যাড ও সিলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেস যে বেপরোয়া অপব্যবহার করেছেন, তা গোটা জাতীয় সংস্কৃতিরই এক ভয়াবহ রূপ।
স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর থেকে ফুফাতো ভাই পর্যন্ত—পারিবারিক সিন্ডিকেট বসিয়ে তাঁরা প্রমাণ করেছেন, সর্বত্রই আজ লুণ্ঠনের মহোৎসব চলছে।
এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ গত ১৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তালিকাটি। রাঙ্গার স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত ওই তালিকায় ৯টি ইউনিয়নের ১৯টি ডিলার পদের জন্য সরাসরি তাঁর নিজের স্ত্রী সুলতানা ফেরদৌসি ও ডালেসের স্ত্রী সুইটি বেগমকে বসানো হয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিনিয়র সহসভাপতির ছেলে, ডালেসের ফুফাতো ভাই ও শ্বশুরের নাম।
আরও আছেন এক ইউনিয়ন সভাপতি, এক সাবেক সভাপতি, চারজন সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন সহকোষাধ্যক্ষ ও কৃষক দলের এক নেতা। এই নথিই প্রমাণ করে, সারা দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে পারিবারিক সাম্রাজ্য গড়া হচ্ছে।
এই অবৈধ সিন্ডিকেট কেবল নৈতিকতার পতন ঘটাচ্ছে না, খেটে খাওয়া কৃষকের পেটে সরাসরি লাথি মারছে।
ডিলারশিপের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে লুণ্ঠনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পিষ্ট, তখন এই চক্র সর্বত্র লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।
আমরা হুঁশিয়ার করে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—কৃষকের রক্তচুষে গড়ে ওঠা এই নির্লজ্জ স্বেচ্ছাচারের সিন্ডিকেট অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এই লুটেরা রাজত্ব আর এক মুহূর্তও সহ্য করা হবে না। জনরোষের আগুনে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের পতন অবশ্যম্ভাবী, এবং বঞ্চিত কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এই স্বেচ্ছাচারের কবর রচনা করবেই!

