জুলাই দাঙ্গার প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটানোর এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সাম্প্রতিক তদন্তে।
তদন্তে দেখা গেছে, আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভুয়া দাবি থেকে শুরু করে বেঁচে থাকা মানুষকে মৃত সাজিয়ে মামলা করার মতো জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে।
শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে গুলি করার অভিযোগে মামলা করেছিলেন। তবে পিবিআই-এর তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওই শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়নি, বরং একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল। মূলত পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই সাজানো মামলা করা হয়।
অনুরূপ একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর উত্তরায়, যেখানে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ গুলিতে নিহত হয়েছেন এবং তার লাশ গুম করা হয়েছে দাবি করে মামলা করেন তার মা। অথচ তদন্তে দেখা যায়, ওই তরুণ বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন এবং অন্য একটি মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এসব ভুয়া মামলার কারণে সাধারণ মানুষ চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। মিথ্যা মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে অপরাধভেদে দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা এই প্রবণতাকে আইনি ব্যবস্থার চরম অপব্যবহার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা মনে করছেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে জুলাই দাঙ্গাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ।

