তিন বছরের সাদমান হামে আক্রান্ত হয়ে ডিএনসিসি হাসপাতালে মারা গেছে। কামরাঙ্গীরচরের এক পরিবার সন্তান হারিয়েছে। ফটো সাংবাদিক খালেদ সরকারের তোলা ছবিগুলো দেখলে বুকের ভেতর কী একটা মোচড় দেয়। কিন্তু যাদের বুকে মোচড় দেওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বেশি, তাদের কিছুই হয়নি। এটাই সবচেয়ে কষ্টের জায়গা।
২২০টিরও বেশি পরিবার সন্তান হারিয়েছে। এই সংখ্যাটা শুধু সংখ্যা না। প্রতিটা সংখ্যার পেছনে একটা নাম আছে, একটা মুখ আছে, একটা পরিবার আছে যারা সারাজীবন এই শূন্যতা বয়ে বেড়াবে। আর এই মৃত্যুগুলো ঠেকানো যেত। হাম কোনো নতুন রোগ না, এর টিকা আছে, প্রতিরোধের পথ জানা। তারপরও এতগুলো শিশু চলে গেল। একটা “দুঃখিত” পর্যন্ত কেউ বলেনি।
ইউনুস সরকারের আমলে এই মহামারিটাকে লুকিয়ে রাখার যে চেষ্টা হয়েছে সেটা নিয়ে এখন যত কম আলোচনা হচ্ছে তত বেশি হওয়া দরকার। যে সরকার বিদেশের পয়সায় আর বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় এসেছে, দেশের মানুষের প্রতি তার জবাবদিহিতার কোনো বালাই থাকবে না এটা আসলে অবাক হওয়ার মতো না। পাঁচ আগস্টের পর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, একটাতেও মনে হয়নি যে ক্ষমতায় থাকা মানুষগুলো এই দেশের কেউ। কোনো ঘটনায় কোনো বিকার নেই, কোনো দায় নেই, কোনো ব্যথা নেই।
কিন্তু সরকার বদলালেই তো আর সব বদলায় না। প্রশাসন তো সেই আগেরটাই থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগের যে লোকগুলো মাঠে কাজ করেন, যারা জানেন কোন টিকা কখন দেওয়া জরুরি, যারা জানেন একটা এলাকায় হামের প্রকোপ বাড়লে কী করতে হয়, তারা কোথায় ছিলেন যখন এই অনিয়মটা হচ্ছিল? দেশের মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব কি শুধু স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ছিল? নাকি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও কিছু বলার ছিল?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও কেউ দেয়নি। ইউনুস সরকার চলে গেছে, বিএনপি এসেছে, কিন্তু ২২০টি পরিবারের সন্তান ফিরে আসেনি। হিসাবটা কে দেবে?

