সংসদীয় রীতিনীতিকে তোয়াক্কা না করে বক্তব্য দেওয়ায় চেষ্টা করায় স্পিকারের কঠোর সমালচনার মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার সন্ধ্যায় অধিবেশন চলাকালে হাসনাত আব্দুল্লাহর অসহিষ্ণু আচরণের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে সাফ জানিয়ে দেন যে এটি কোনো প্রতিবাদের চত্বর নয়, বরং দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা।
পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার জন্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বারবার নিয়মবহির্ভূতভাবে পীড়াপীড়ি শুরু করলে স্পিকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না মি. আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে। আর মৌখিক কথাবার্তার সুযোগ এখানে খুবই কম। যা করার নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে করতে হবে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নতুন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর আগমন যেন এক নেতিবাচক ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সংসদের মর্যাদা বৃদ্ধি তো দূরের কথা, তিনি যেন সংসদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ বানিয়ে ছাড়ছেন। সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন নিয়ে তার অনভিজ্ঞতা ও একরোখা আচরণ সংসদীয় শিষ্টাচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স্পিকার তাকে বারবার পয়েন্ট অব অর্ডারের নিয়ম বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি রাজপথের স্লোগান দেওয়ার মেজাজেই অনড় থাকেন, যার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
হাসনাতের এই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় পাওয়া গেছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের দিনও। “ফ্যাসিস্টের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনা গাদ্দারি” বলে তিনি সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন এবং বিরোধী দলের সাথে মিলে কক্ষ ত্যাগ করেন, যা দেখে মনে হচ্ছিল সংসদ নয় বরং রাজু ভাস্কর্যে কোনো মিছিল শুরু হতে যাচ্ছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহর কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সংসদীয় গাম্ভীর্য ও রাজপথের আন্দোলনের পার্থক্য বুঝতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। শপথ গ্রহণের দিন ১০ নম্বর জার্সি পরে হাজির হওয়া থেকে শুরু করে সংসদের ভেতর মব সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটানো—সবই তার রাজনৈতিক অপরিপক্বতার প্রমাণ। ৫ আগস্টের পর সংসদ ভবনে ভাঙচুর এবং সাম্প্রতিক মব চেষ্টার যে ধারা দেখা গেছে, হাসনাতের স্টাইল যেন তারই প্রতিচ্ছবি।
কোনো ইস্যু হলেই “সবাই রাজুতে আয়” বলে ডাক দেওয়া হাসনাত এখনও রাষ্ট্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মনে করছেন। সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থাকে প্রতিবাদের মঞ্চ বানিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি সংসদে এসেছেন রাজনীতি করতে নয়, বরং রাজু ভাস্কর্যের স্টাইলে প্রতিবাদ করতে। তথাকথিত ‘ইনসাফের সংসদ’ গড়ার কথা বলে তিনি মূলত সংসদকে ‘রাজু-সংসদে’ পরিণত করছেন, যা কেবল একজন নির্বোধের পক্ষেই সম্ভব।

