ইতিহাসের পাতা সাক্ষী আর বর্তমান বাস্তবতা তার নিকৃষ্টতম প্রমাণ—বিএনপি-জামায়াতের অপশক্তি ও তোষণনীতি মানেই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত নির্যাতন, লুণ্ঠন এবং ত্রাসের রাজত্ব। রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চককরিম (তেলিপাড়া) গ্রামে ঠিক তেমনই এক পৈশাচিক অধ্যায় রচিত হয়েছে, যা বিএনপি-জামায়াত চক্রের সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত উগ্রবাদী রাজনীতির বিষাক্ত পরিণতিকেই ফের প্রকাশ্যে এনেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের সাধারণ যুবক সৌরভ চন্দ্র মহন্তের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্পূর্ণ ভুয়া, সাজানো ও পরিকল্পিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মাঠে নামানো হয় জামায়াত-শিবির ও তাদের সহযোগী উগ্রবাদী ক্যাডারদের। মব সন্ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সশস্ত্র উগ্রবাদী চক্র স্থানীয় তিনটি হিন্দু পরিবারে নারকীয় তাণ্ডব চালায়, বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং গবাদিপশু ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি বিএনপি-জামায়াত জোটের সেই চিরচেনা ও কুখ্যাত নীলক নকশারই অংশ। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে গুজব ছড়ানো, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মব তৈরি করা এবং অসাম্প্রদায়িক অখণ্ডতাকে বিনাশ করে সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে বাধ্য করাই এই চরমপন্থী রাজনৈতিক অপশক্তির মূল এজেন্ডা। যখনই দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রশ্ন আসে, তখনই বিএনপি-জামায়াতের আড়ালে থাকা ক্যাডাররা ফেসবুক অপপ্রচার ও তৌহিদী জনতার আড়ালে মুখোশ পরে নিরীহ মানুষের ঘরবাড়িতে আগুন ও লুটপাটের তাণ্ডব চালায়।
ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করেছে। তবে এ জাতীয় পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি-জামায়াত ও জামায়াত-শিবির উগ্রপন্থী চক্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। পীরগঞ্জের হিন্দু পল্লীতে এই নারকীয় হামলা কেবল কয়েকটি পরিবারের সম্পদ বিনষ্ট করেনি, বরং জাতীয় অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও রাষ্ট্রের শান্তিশৃঙ্খলাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

