অর্থবছর শুরু হয়েছে জুলাইয়ে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা অনুদানের অনুমোদন এল ১১ অক্টোবর। অর্থাৎ বছরের প্রথম তিন মাসের বেশি সময় টাকাটা ফাইলে আটকে ছিল, আর এই দেরির একটা ব্যাখ্যাও মন্ত্রণালয় দেয়নি।
অনুমোদন শেষে হলো, কিন্তু টাকা ছাড়ের ওয়েবসাইট তখন বন্ধ। যে মন্ত্রণালয় একটা অনুমোদন দিতে ক্যালেন্ডারের এক চতুর্থাংশ খরচ করে, তার ওয়েবসাইট সচল থাকবে, এমন আশা করাটাই বরং অস্বাভাবিক।
বরাদ্দের অঙ্কটাও লক্ষ করার মতো। সারা দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য পুরো বছরে এক কোটি টাকা। এত ছোট অঙ্কের টাকাও সময়মতো হাতে পৌঁছায় না। অথচ এই টাকার ভরসাতেই মুক্তিযোদ্ধারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষ, বিল বাকি, ছাড়পত্র আটকে। কেউ কেউ নিজের পকেট থেকেই খরচ মেটাচ্ছেন। ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছে, সাড়া মেলেনি।
যে বিএনপি-জামাতের হাতে এখন ক্ষমতা, তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসেই একাত্তরের বিরোধিতা জড়িয়ে আছে। এমন কাঠামোতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য টাকা মাসের পর মাস ঝুলে থাকলে সেটা আকস্মিক ভুল না হয়ে নীতির ফল হওয়াই বেশি যুক্তিসংগত। কারিগরি ত্রুটির দোহাই দিয়ে এই প্রশ্ন এড়ানো যাবে না।
যাঁরা প্রাণ বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করলেন, তাঁদের শেষ বয়সে হাসপাতালের বারান্দায় বসে একটা সার্ভার ঠিক হওয়ার অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই দৃশ্যের চেয়ে স্পষ্ট করে কোনো সরকারের অগ্রাধিকার বোঝা যায় না।

