২১ আগস্ট রংপুরের মাসুয়াপাড়ায় শিক্ষক গণপতির পুরো পরিবার এক রাতেই খুন হয়। বাবা, মা, মেয়ে আর স্কুলপড়ুয়া একমাত্র ছেলে। পরদিনই পুলিশ দুজনকে ধরে ফেলে, তারা আদালতে স্বীকারোক্তিও দেয়। পুলিশের হিসাবে মামলা প্রায় মিটে যাওয়ার কথা। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার ফল এখনো আসেনি, ৩৫ রকম আলামতের একটারও রিপোর্ট আসেনি। আর যে মহল্লার মানুষ ভুক্তভোগী, তারাই বলছে পুলিশের গল্পে তাদের বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। দুজনে মিলে চারজনকে একে একে শ্বাসরোধে মারল, এ কথা খোদ স্বজনেরাই বিশ্বাস করছেন না।
বিএনপি-জামাত সরকার যদি সত্যিই মনে করে কাজ শেষ, তাহলে লোকে ভয় পাচ্ছে কেন এখনো? আর যদি শেষ না হয়ে থাকে, তাহলে দেড় মাসে একটা ল্যাব রিপোর্টও কেন মিলল না? ঘটনার বাড়িতে এখন পুলিশ বসানো, ঊর্ধ্বতনের অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকতে পারে না। অথচ জেলা প্রশাসক সভা শেষে বললেন সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূ জানিয়েছেন, প্রশাসন পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারছে বলে তিনি মনে করেন না। একজন বাসিন্দা বলেছেন, শুরুতে পুলিশ-সাংবাদিকের দৌড়ঝাঁপ দেখা গেছে, এখন সবাই চুপ। এই চুপ হয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
রাষ্ট্র চালাচ্ছে বিএনপি, সংসদে ক্ষমতার অংশীদার জামায়াত। জবাবদিহির দায় এই দুই দলের ঘাড়েই পড়ে। যে দেশে একটা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার নিঃশেষ হয়ে যায় আর দেড় মাসেও তার কোনো পরিষ্কার উত্তর মেলে না, সেখানে সংখ্যালঘুর প্রাণের দাম কতটুকু, প্রশ্নটা অস্বাভাবিক নয়। আর এই পরিবেশেই বলা হচ্ছে দুর্গাপূজা হবে। মন্দিরে সাজসজ্জা নেই, বাচ্চাদের নতুন জামা কেনা হয়নি, এক বৃদ্ধা বলছেন কখন কী হয় ভগবান জানেন। উৎসবের কথাটা এখানে সান্ত্বনার নয়, বরং তীব্র লজ্জার।

