পাথরঘাটার জেলেরা এখন ঘাটে বসে বসে আকাশ দেখছেন। ট্রলারে বরফ আছে, জাল আছে, সব প্রস্তুত, শুধু ডিজেল নেই। তিন-চার দিন ধরে শতাধিক ট্রলার বঙ্গোপসাগরে যেতে পারছে না। এই মানুষগুলো দিন এনে দিন খান। তিন দিন ট্রলার না গেলে তিন দিন ঘরে চুলা জ্বলে না।
এদিকে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বয়কটের মুখে, নিজেরা নিজেরা সাজানো একটা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা বিএনপি সরকারের মন্ত্রীরা বলে বেড়াচ্ছেন দেশে জ্বালানি সংকট নেই, সরবরাহ আগের চেয়ে বরং বেড়েছে। পাথরঘাটায় পাঁচটা ফিলিং স্টেশনে সপ্তাহে মাত্র পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল আসছে, অথচ চাহিদা দুই থেকে আড়াই লাখ লিটার। এই সংখ্যাটা কেউ মন্ত্রীদের বুঝিয়ে দিলে ভালো হতো।
জিয়াউর রহমানের সেনানিবাসে গড়া এই দলটা ক্ষমতায় থাকলে দেশে কী হয়, সেটা নতুন করে বোঝার দরকার নেই। দুর্নীতি আর সিন্ডিকেটের রাজনীতি এই দলের ডিএনএতে। পাথরঘাটায় ডিলারদের গোডাউনে তেল মজুত আছে, কিন্তু বাড়তি দামের আশায় বিক্রি হচ্ছে না। এই মজুতদারি কীভাবে হয়? যখন প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে, যখন সরকার পক্ষের লোকজনের ছায়া এই ব্যবসায় থাকে, তখনই হয়।
জেলে আবদুল মালেক বলেছেন তিন দিন বসে আছেন। এই মানুষটার পরিবারের কথা কেউ ভাবছেন না। ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি বলছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা গোপনে তেল মজুত করেছে। জেলা প্রশাসক বলছেন “খতিয়ে দেখা হবে।” এই “খতিয়ে দেখা হবে” শুনতে শুনতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। খতিয়ে দেখার পরে কী হয়, সেটা আর কেউ জানতে পারে না।
গত সতেরো বছরে পাথরঘাটা থেকে এই খবর কেউ শুনেছেন? ট্রলার ঘাটে পড়ে আছে, জেলেরা সাগরে যেতে পারছে না, এমন সংবাদ কি কেউ মনে করতে পারছেন? পারবেন না। কারণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাটা একটা স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। এখন সেই ব্যবস্থাটা ভেঙে পড়েছে এবং মন্ত্রীরা সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন সবকিছু ঠিকঠাক আছে।
যে সরকার নিজের বৈধতাই জনগণের কাছ থেকে নিতে পারেনি, সে সরকারের কাছে জেলেদের ডিজেলের প্রত্যাশা করাটাই আসলে বোকামি। কিন্তু এই মানুষগুলোর আর কোথায় যাওয়ার আছে? তারা ট্রলারে বসে থাকেন, আকাশের দিকে তাকান, আর অপেক্ষা করেন কখন তেল আসবে।

