বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন গত ৩১ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে একটাই কথা বলেছে, ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটির তালিকায় ঢোকান। দাবিটা নতুন না। বিএনপির কাছে তাদের ২০০১-২০০৬ সালের শাসনমলেও এই একই দাবী জানিয়েছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা। সেটা কানে তোলা হয় নি, নয়তো আশ্বাস দিয়ে ফাইলচাপা দেওয়া হয়েছিলো। এবারও সেটাই হবে, কারণ ক্ষমতায় যে দল, তাদের কাছে সংখ্যালঘুর ধর্মীয় অধিকার কোনো কালেই অগ্রাধিকারের বিষয় ছিল না।
বিএনপি নিজেকে গণতান্ত্রিক দল বলে দাবি করে। কিন্তু এই দলের জন্ম কোথায়? সেনানিবাসে। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে যে রাজনৈতিক দল তৈরি করেছিলেন, সেটার গায়ে গণতন্ত্রের লেবেল সাঁটানো থাকলেও ভেতরে সবসময় ছিল অন্য হিসাব। সেই হিসাবে সংখ্যালঘু মানুষের কথা কখনো সিরিয়াসলি আসেনি।
এই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, সেটাকে নির্বাচন বলতে রুচিতে বাধে। দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো ওই প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল। সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রমুখী হননি। যা হয়েছে, সেটা মূলত একটা সাজানো আয়োজন ছিল, যার মাধ্যমে ক্ষমতার বৈধতার একটা চেহারা দাঁড় করানোর চেষ্টা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া মন্ত্রিপরিষদ কতটা জনপ্রতিনিধিত্বশীল, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ আছে।
এই সরকারের কাছে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় ইস্টারের ছুটি চাইছে। চাওয়াটা ন্যায্য। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই ইস্টার সানডে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। এই দিনে একজন খ্রিষ্টান মানুষকে যদি অফিস আর প্রার্থনার মধ্যে বেছে নিতে হয়, তাহলে রাষ্ট্র কার্যত তাকে বলছে যে তোমার বিশ্বাস গৌণ। এটা ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন, কোনো সুবিধার প্রশ্ন না।
বিএনপির আমলে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ইতিহাস দীর্ঘ। ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, মন্দির ও গির্জায় হামলা, দলিত ও ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের উপর চাপ, এগুলো নথিভুক্ত ঘটনা। এই দলের শাসনামলে সংখ্যালঘু মানুষ বারবার নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। এই বাস্তবতায় একটা ধর্মীয় ছুটির দাবি যে উপেক্ষিত হবে, সেটা অনুমান করতে কারো রাজনৈতিক বিশ্লেষক হওয়ার দরকার নেই।
নারী নেত্রী মঞ্জু মারীয়া পালমা ঠিকই বলেছেন, এটা শুধু একদিনের ছুটির প্রশ্ন না। এটা একটা রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কতটা সমান চোখে দেখে, সেটার প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর বিএনপি সরকারের কাছে কী হবে, সেটা বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই জানে।

