স্বাধীনতা দিবসের নাটকে রাজাকার চরিত্র নিষিদ্ধ, কারণ এমপি নিজেই তো আছেন উপস্থিত!

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে একটা নাটকে রাজাকার চরিত্রে অভিনয় করতে দেওয়া হয়নি। বাধা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল। ছোট ছোট বাচ্চারা নাটক করবে, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলবে, সেখানে রাজাকার চরিত্র থাকবে কারণ সেটাই ইতিহাস। এটুকু সইলো না। রাজাকার চরিত্র মঞ্চে দেখালে কোথাও কি আয়না দেখার ভয় কাজ করছিল? প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই আসে।

জামায়াতে ইসলামী কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দল না। ১৯৭১ সালে এই দলের নেতারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে এই দেশের মানুষ হত্যা করেছে, নারীদের ধর্ষণে সহায়তা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই অপরাধের বিচার করেছে, একাধিক নেতার ফাঁসিও হয়েছে। এই দলটার হাতে মানুষের রক্ত আছে, এটা কোনো রাজনৈতিক অভিযোগ না, এটা বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। সেই দলের একজন লোক আজকে এমপি হয়ে বসে আছেন এবং স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে নাটকের রাজাকার চরিত্র সরিয়ে দিচ্ছেন। এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে?

বিএনপির কথাও আসে এই প্রসঙ্গে, কারণ এই দুটো দল এখন একই রাজনৈতিক ঘরানায় চলছে। বিএনপির জন্মটা সেনানিবাসে, জিয়াউর রহমান ক্যান্টনমেন্টে বসে দল বানিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের কথা বলা একটা দল যখন ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়, তখন সেই গণতন্ত্রের দাবির ভিতরটা কেমন ফাঁকা সেটা বুঝতে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। ফেব্রুয়ারির পাতানো নির্বাচনে বড় বড় দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া, যে ক্ষমতা এসেছে তার ছায়াতলে এখন এই সব ঘটছে।

নাটকের শেষটা শুনলে গা শিরশির করে। রাজাকার চরিত্র বাদ দিয়ে শেষমেশ “বাবা-ছেলে” সম্পর্কের একটা দৃশ্য দিয়ে নাটকটা শেষ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নাটক থেকে রাজাকার মুছে দিয়ে বাবা-ছেলের গল্প বানানো হলো। ইতিহাস থেকে খলনায়ক মুছে ফেলার এই চেষ্টাটা আসলে নতুন না। জামায়াত আর বিএনপি মিলে বছরের পর বছর ধরে এই কাজটাই করে আসছে, কখনো পাঠ্যবইয়ে, কখনো রাজনৈতিক বক্তব্যে, আর এখন সরাসরি স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে।

রাজাকার যখন এমপি হয়, তখন দেশে এসবই হবে। এটা অবাক হওয়ার কিছু না, এটা সেই রাজনীতির স্বাভাবিক পরিণতি যেটা যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন দিয়ে, তাদের ভোটের মাঠে ফিরিয়ে এনে, তাদের হাতে ক্ষমতার ভাগ দিয়ে গড়ে উঠেছে। একটা দেশ যখন তার নিজের ইতিহাসকে অস্বীকার করতে শুরু করে, সেটা ধীরে ধীরে ভিতর থেকে ভাঙে। আলমডাঙ্গার ওই মঞ্চে সেই ভাঙনের একটা ছোট কিন্তু স্পষ্ট ছবি দেখা গেল।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে একটা নাটকে রাজাকার চরিত্রে অভিনয় করতে দেওয়া হয়নি। বাধা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল। ছোট ছোট বাচ্চারা নাটক করবে, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলবে, সেখানে রাজাকার চরিত্র থাকবে কারণ সেটাই ইতিহাস। এটুকু সইলো না। রাজাকার চরিত্র মঞ্চে দেখালে কোথাও কি আয়না দেখার ভয় কাজ করছিল? প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই আসে।

জামায়াতে ইসলামী কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দল না। ১৯৭১ সালে এই দলের নেতারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে এই দেশের মানুষ হত্যা করেছে, নারীদের ধর্ষণে সহায়তা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই অপরাধের বিচার করেছে, একাধিক নেতার ফাঁসিও হয়েছে। এই দলটার হাতে মানুষের রক্ত আছে, এটা কোনো রাজনৈতিক অভিযোগ না, এটা বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। সেই দলের একজন লোক আজকে এমপি হয়ে বসে আছেন এবং স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে নাটকের রাজাকার চরিত্র সরিয়ে দিচ্ছেন। এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে?

বিএনপির কথাও আসে এই প্রসঙ্গে, কারণ এই দুটো দল এখন একই রাজনৈতিক ঘরানায় চলছে। বিএনপির জন্মটা সেনানিবাসে, জিয়াউর রহমান ক্যান্টনমেন্টে বসে দল বানিয়েছিলেন। গণতন্ত্রের কথা বলা একটা দল যখন ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়, তখন সেই গণতন্ত্রের দাবির ভিতরটা কেমন ফাঁকা সেটা বুঝতে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না। ফেব্রুয়ারির পাতানো নির্বাচনে বড় বড় দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া, যে ক্ষমতা এসেছে তার ছায়াতলে এখন এই সব ঘটছে।

নাটকের শেষটা শুনলে গা শিরশির করে। রাজাকার চরিত্র বাদ দিয়ে শেষমেশ “বাবা-ছেলে” সম্পর্কের একটা দৃশ্য দিয়ে নাটকটা শেষ করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নাটক থেকে রাজাকার মুছে দিয়ে বাবা-ছেলের গল্প বানানো হলো। ইতিহাস থেকে খলনায়ক মুছে ফেলার এই চেষ্টাটা আসলে নতুন না। জামায়াত আর বিএনপি মিলে বছরের পর বছর ধরে এই কাজটাই করে আসছে, কখনো পাঠ্যবইয়ে, কখনো রাজনৈতিক বক্তব্যে, আর এখন সরাসরি স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে।

রাজাকার যখন এমপি হয়, তখন দেশে এসবই হবে। এটা অবাক হওয়ার কিছু না, এটা সেই রাজনীতির স্বাভাবিক পরিণতি যেটা যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন দিয়ে, তাদের ভোটের মাঠে ফিরিয়ে এনে, তাদের হাতে ক্ষমতার ভাগ দিয়ে গড়ে উঠেছে। একটা দেশ যখন তার নিজের ইতিহাসকে অস্বীকার করতে শুরু করে, সেটা ধীরে ধীরে ভিতর থেকে ভাঙে। আলমডাঙ্গার ওই মঞ্চে সেই ভাঙনের একটা ছোট কিন্তু স্পষ্ট ছবি দেখা গেল।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ