সংবিধান না দল, কোনটা মানবেন সরকারি কর্মকর্তারা?

মহেশপুরের ইউএনও খাদিজা আক্তার একটাই ভুল করেছেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সত্যি কথা বলে ফেলেছেন। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে ১৫০(২) অনুচ্ছেদে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম লেখা আছে। এটা তিনি বলেছেন। এই একটা সত্যি কথার খেসারত দিতে হলো বদলির আদেশে।

বিএনপির দাবি হলো, তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতার নাম নেওয়া হয়নি বলে ইউএনও অন্যায় করেছেন। কিন্তু প্রশ্নটা হলো, কোন আইনে, কোন সংবিধানের কোন ধারায় একজন সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতার নাম নেবেন? এই প্রশ্নের জবাব বিএনপির কাছে নেই, কারণ উত্তরটা তাদের জন্য সুবিধাজনক না।

বিএনপির বর্তমান সরকারের তথাকথিত আইনমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল নিজেই জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন। যে সংবিধান তারা এখনো পরিবর্তন করেননি, যে সংবিধান এখনো বহাল আছে, সেই সংবিধান অনুযায়ী এটা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন। একজন মন্ত্রী যদি সংবিধান না মানেন, তাহলে তিনি সেই পদে থাকার যোগ্যতা রাখেন কিনা সেটা নিয়ে কথা হওয়া দরকার। কিন্তু সেদিকে কারো নজর নেই। বরং সংবিধান মেনে কথা বলা ইউএনওকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

এখানে একটা দারুণ হাস্যকর দ্বন্দ্ব আছে। বিএনপি বারবার বলে তারা সংবিধান মানে, আইনের শাসন চায়। অথচ যখনই সংবিধান তাদের রাজনৈতিক আখ্যানের বিরুদ্ধে যায়, তখন সংবিধান তাদের কাছে গৌণ হয়ে যায়। সংবিধান পরিবর্তন না করে জিয়াউর রহমানকে ঘোষক বলা যাবে না, এই সহজ কথাটা তারা মানতে রাজি না। তাহলে সংবিধান পরিবর্তন করুক। কিন্তু সেটা করবে না, কারণ সংবিধান পরিবর্তনের জন্য সংসদ লাগে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লাগে। আর সেই প্রক্রিয়া তারা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখেই পুড়িয়ে দিয়েছে।

ওই নির্বাচনের কথা না বললে এই পুরো ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভোটে ছিল না। সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। নিজেদের সাজানো একটা নির্বাচনে জিতে বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে তারা এখন সংবিধান শেখাচ্ছে, ইতিহাস শেখাচ্ছে, আর যে সরকারি কর্মকর্তা সংবিধানের কথা বলেন তাকে বদলি করছে।

খাদিজা আক্তারের বক্তব্যে কোনো রাজনীতি ছিল না। তিনি বলেছেন, সংবিধানে যা আছে তাই মানি। এটাই তার চাকরির শর্ত। এটাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর দায়িত্ব। কিন্তু বিএনপি চায় সরকারি কর্মকর্তারা দলের ভাষায় কথা বলুক, দলের ইতিহাস পড়ুক, দলের নামে জয়ধ্বনি দিক। এটা সরকার চালানো না, এটা দলীয় লেজুড়বৃত্তি রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই বদলির আদেশ একটা বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তাকে। বার্তাটা হলো, সংবিধান মানলে চলবে না, দল মানতে হবে। যে দেশে এই বার্তাটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, সেখানে আর রাষ্ট্র থাকে না, থাকে শুধু একটা দলের বিশাল অফিস।

মহেশপুরের ইউএনও খাদিজা আক্তার একটাই ভুল করেছেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সত্যি কথা বলে ফেলেছেন। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে ১৫০(২) অনুচ্ছেদে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম লেখা আছে। এটা তিনি বলেছেন। এই একটা সত্যি কথার খেসারত দিতে হলো বদলির আদেশে।

বিএনপির দাবি হলো, তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতার নাম নেওয়া হয়নি বলে ইউএনও অন্যায় করেছেন। কিন্তু প্রশ্নটা হলো, কোন আইনে, কোন সংবিধানের কোন ধারায় একজন সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতার নাম নেবেন? এই প্রশ্নের জবাব বিএনপির কাছে নেই, কারণ উত্তরটা তাদের জন্য সুবিধাজনক না।

বিএনপির বর্তমান সরকারের তথাকথিত আইনমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল নিজেই জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন। যে সংবিধান তারা এখনো পরিবর্তন করেননি, যে সংবিধান এখনো বহাল আছে, সেই সংবিধান অনুযায়ী এটা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন। একজন মন্ত্রী যদি সংবিধান না মানেন, তাহলে তিনি সেই পদে থাকার যোগ্যতা রাখেন কিনা সেটা নিয়ে কথা হওয়া দরকার। কিন্তু সেদিকে কারো নজর নেই। বরং সংবিধান মেনে কথা বলা ইউএনওকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

এখানে একটা দারুণ হাস্যকর দ্বন্দ্ব আছে। বিএনপি বারবার বলে তারা সংবিধান মানে, আইনের শাসন চায়। অথচ যখনই সংবিধান তাদের রাজনৈতিক আখ্যানের বিরুদ্ধে যায়, তখন সংবিধান তাদের কাছে গৌণ হয়ে যায়। সংবিধান পরিবর্তন না করে জিয়াউর রহমানকে ঘোষক বলা যাবে না, এই সহজ কথাটা তারা মানতে রাজি না। তাহলে সংবিধান পরিবর্তন করুক। কিন্তু সেটা করবে না, কারণ সংবিধান পরিবর্তনের জন্য সংসদ লাগে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লাগে। আর সেই প্রক্রিয়া তারা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখেই পুড়িয়ে দিয়েছে।

ওই নির্বাচনের কথা না বললে এই পুরো ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই ভোটে ছিল না। সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। নিজেদের সাজানো একটা নির্বাচনে জিতে বিএনপি এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে তারা এখন সংবিধান শেখাচ্ছে, ইতিহাস শেখাচ্ছে, আর যে সরকারি কর্মকর্তা সংবিধানের কথা বলেন তাকে বদলি করছে।

খাদিজা আক্তারের বক্তব্যে কোনো রাজনীতি ছিল না। তিনি বলেছেন, সংবিধানে যা আছে তাই মানি। এটাই তার চাকরির শর্ত। এটাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর দায়িত্ব। কিন্তু বিএনপি চায় সরকারি কর্মকর্তারা দলের ভাষায় কথা বলুক, দলের ইতিহাস পড়ুক, দলের নামে জয়ধ্বনি দিক। এটা সরকার চালানো না, এটা দলীয় লেজুড়বৃত্তি রাষ্ট্রের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এই বদলির আদেশ একটা বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তাকে। বার্তাটা হলো, সংবিধান মানলে চলবে না, দল মানতে হবে। যে দেশে এই বার্তাটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, সেখানে আর রাষ্ট্র থাকে না, থাকে শুধু একটা দলের বিশাল অফিস।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ