তারেক সিন্ডিকেটে বোবাকান্না, প্রাণহানির শঙ্কায় দেশ ছাড়লেন ব্যবসায়ী

ন্যায্যমূল্যে উন্নতমানের পণ্য বিক্রি করাই কাল হলো এক উদ্যোক্তার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‘তারেক রহমানের সিন্ডিকেট’ ও প্রশাসনের অশুভ আঁতাতের চাপে প্রাণহানির শঙ্কায় অবশেষে ব্যবসা গুটিয়ে সপরিবারে দেশ ছেড়েছেন ‘নবীন ফ্যাশন’-এর মালিক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন। বর্তমানে ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রিকশাচালক—সবাই যখন চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ, তখন রাজধানীর একটি শপিংমলে এই ঘটনা উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বোবাকান্নার সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত রাজধানীর বিশাল সেন্টারে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে নবীন ফ্যাশনের মালিক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন অভিযোগ করেন, কম দামে উন্নতমানের পাঞ্জাবি বিক্রি করার কারণে পাশের অন্যান্য দোকানের মালিকরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। বিশেষ করে ‘প্রিন্স’ শোরুমের মালিক মাইকেল সাহেব পুলিশ নিয়ে এসে জোরপূর্বক তার দোকান বন্ধ করে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নবীন বলেন, “পাশের ব্যবসায়ীরা পুলিশ নিয়ে এসে যখন দোকান বন্ধ করে দেন, তখন আমাকে হুমকি দেওয়া হয়—‘উনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু, তার সঙ্গে পেরে উঠবেন না।’ এমনকি থানার ওসিও আমাকে একই কথা বলেছেন যে ওনার ক্ষমতার কাছে টিকতে পারব না।”

এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি ফেসবুকে লিখেছেন, নবীন পাঞ্জাবীর মালিকের অপরাধ সে কমমূল্যে পাঞ্জাবি বিক্রি করতো! এই অপরাধে বাজার সিন্ডিকেট তার দোকান বন্ধ করে দেয়! অসহায় মালিক ঈদের আগে পাগলের মতো দ্বারে দ্বারে ঘুরেন সাহায্যের জন্য। সব মহল থেকে ভয় দেখানো হয় সিন্ডিকেট বাহিনীর প্রধান তারেক রহমানের ঘনিষ্ট বন্ধু।

তিনি লিখেন, থানার মোটা তাজা পুলিশের ওসিও বলেন একই কথা। ফলে ভদ্রলোক ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে বিদেশে চলে যান। তার ভয় দেশে থাকলে তাকে মেরে ফেলা হবে। কয়দিন আগে গুলশানে একটি গাড়ির কাগজ পত্র দেখতে চাওয়া পুলিশের ডিসিকে সাথে সাথে বদলি করা হয় !

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তারেক রহমানকে প্রশ্ন করে তিনি লেখেন, তারেক রহমানের কথিত বন্ধুরা গত ১৭ বছর কই ছিল! তারা এতো অল্প সময়ে কিভাবে এতো শক্তিশালী সিন্ডিকেট বানিয়ে ফেললো?

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ ব্যবসায়ী। ফেসবুকে দেশত্যাগের ছবি পোস্ট করে নবীন লিখেছেন- “সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না… তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি।”

আলোচনায় পুরোনো ‘হাওয়া ভবন ও তারেক সিন্ডিকেট’

এই ঘটনাটি সামনে আসতেই সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ২০০১-২০০৬ সালের ‘হাওয়া ভবন’ আমলের নানা স্মৃতি ও শঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বনানীর ‘হাওয়া ভবন’কে অঘোষিত বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র বলা হতো, যা সরকারি নিয়োগ, বদলি ও বড় বড় প্রকল্প অনুমোদনের নিয়ন্ত্রণ করত।

তারেক রহমানের বাল্যবন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে বড় বড় প্রকল্পে ১০% কমিশন (ঘুষ) নেওয়া, ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছিল।

ব্যবসায়ী মহল ও বিশ্লেষকরা বলছেন, নবীনের দেশত্যাগের ঘটনা দেশের বাজারে স্বাধীন প্রতিযোগিতা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার অভাবকে নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রশাসন ও পুলিশের একাংশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কোণঠাসা করার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ন্যায্যমূল্যে উন্নতমানের পণ্য বিক্রি করাই কাল হলো এক উদ্যোক্তার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‘তারেক রহমানের সিন্ডিকেট’ ও প্রশাসনের অশুভ আঁতাতের চাপে প্রাণহানির শঙ্কায় অবশেষে ব্যবসা গুটিয়ে সপরিবারে দেশ ছেড়েছেন ‘নবীন ফ্যাশন’-এর মালিক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন। বর্তমানে ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রিকশাচালক—সবাই যখন চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ, তখন রাজধানীর একটি শপিংমলে এই ঘটনা উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বোবাকান্নার সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত রাজধানীর বিশাল সেন্টারে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে নবীন ফ্যাশনের মালিক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন অভিযোগ করেন, কম দামে উন্নতমানের পাঞ্জাবি বিক্রি করার কারণে পাশের অন্যান্য দোকানের মালিকরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। বিশেষ করে ‘প্রিন্স’ শোরুমের মালিক মাইকেল সাহেব পুলিশ নিয়ে এসে জোরপূর্বক তার দোকান বন্ধ করে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নবীন বলেন, “পাশের ব্যবসায়ীরা পুলিশ নিয়ে এসে যখন দোকান বন্ধ করে দেন, তখন আমাকে হুমকি দেওয়া হয়—‘উনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু, তার সঙ্গে পেরে উঠবেন না।’ এমনকি থানার ওসিও আমাকে একই কথা বলেছেন যে ওনার ক্ষমতার কাছে টিকতে পারব না।”

এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি ফেসবুকে লিখেছেন, নবীন পাঞ্জাবীর মালিকের অপরাধ সে কমমূল্যে পাঞ্জাবি বিক্রি করতো! এই অপরাধে বাজার সিন্ডিকেট তার দোকান বন্ধ করে দেয়! অসহায় মালিক ঈদের আগে পাগলের মতো দ্বারে দ্বারে ঘুরেন সাহায্যের জন্য। সব মহল থেকে ভয় দেখানো হয় সিন্ডিকেট বাহিনীর প্রধান তারেক রহমানের ঘনিষ্ট বন্ধু।

তিনি লিখেন, থানার মোটা তাজা পুলিশের ওসিও বলেন একই কথা। ফলে ভদ্রলোক ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে বিদেশে চলে যান। তার ভয় দেশে থাকলে তাকে মেরে ফেলা হবে। কয়দিন আগে গুলশানে একটি গাড়ির কাগজ পত্র দেখতে চাওয়া পুলিশের ডিসিকে সাথে সাথে বদলি করা হয় !

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তারেক রহমানকে প্রশ্ন করে তিনি লেখেন, তারেক রহমানের কথিত বন্ধুরা গত ১৭ বছর কই ছিল! তারা এতো অল্প সময়ে কিভাবে এতো শক্তিশালী সিন্ডিকেট বানিয়ে ফেললো?

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এই তরুণ ব্যবসায়ী। ফেসবুকে দেশত্যাগের ছবি পোস্ট করে নবীন লিখেছেন- “সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না… তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি।”

আলোচনায় পুরোনো ‘হাওয়া ভবন ও তারেক সিন্ডিকেট’

এই ঘটনাটি সামনে আসতেই সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ২০০১-২০০৬ সালের ‘হাওয়া ভবন’ আমলের নানা স্মৃতি ও শঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বনানীর ‘হাওয়া ভবন’কে অঘোষিত বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র বলা হতো, যা সরকারি নিয়োগ, বদলি ও বড় বড় প্রকল্প অনুমোদনের নিয়ন্ত্রণ করত।

তারেক রহমানের বাল্যবন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে বড় বড় প্রকল্পে ১০% কমিশন (ঘুষ) নেওয়া, ব্যাংক ঋণ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছিল।

ব্যবসায়ী মহল ও বিশ্লেষকরা বলছেন, নবীনের দেশত্যাগের ঘটনা দেশের বাজারে স্বাধীন প্রতিযোগিতা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার অভাবকে নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রশাসন ও পুলিশের একাংশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কোণঠাসা করার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ