থার্টি পার্সেন্টের সরকার!

ভিজিএফের চাল। মানে গরিবের চাল। দুর্যোগে, সংকটে যে চাল রাষ্ট্র বরাদ্দ করে সেই মানুষগুলোর জন্য যাদের পেটে ভাত নেই। সেই চালের ৩০ শতাংশ চাই। এমপি সাহেবের পাওনা। ফোনে কথা হচ্ছে, রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে, ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। আর বিএনপি নেতা বলছেন, “আমি দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছি।”

হ্যাঁ, লড়াই করেছেন। গরিবের মুখের ভাতের ভাগ নেওয়ার লড়াই।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে যা ঘটেছে সেটা এমন একটা সিস্টেমের নমুনা, যে সিস্টেম বিএনপি বাংলাদেশে চালু করেছিল ২০০১ সালে, আবার ফিরিয়ে এনেছে ২০২৬ সালে। মাঝখানে ১৭ বছর “অধিকার আদায়ের” নাটক করে এখন ক্ষমতায় বসেই পুরনো ধান্দায় নেমে পড়েছে। এত দ্রুত! ক্ষমতায় আসতে না আসতেই ত্রাণের চাল ভাগ-বাটোয়ারার ফোনালাপ ভাইরাল। রেকর্ড গতি বলতেই হবে!

অডিওতে যেটা শোনা গেছে সেটা শুধু টাকাপয়সার দুর্নীতির গল্প না, ওটা একটা মানসিকতার গল্প। গরিবের ত্রাণের চাল নিয়ে ফোনে দরকষাকষি হচ্ছে, আর সেই কথোপকথনে একটুও জড়তা নেই, লজ্জা নেই, থামাথামি নেই। একদম স্বাভাবিক গলায়, যেন ব্যবসায়িক লেনদেনের হিসাব মেলানো হচ্ছে। এই স্বাভাবিকতাটাই সবচেয়ে ভয়ের। মানে এটা এই লোকের কাছে অস্বাভাবিক কিছু না, এটা তার কাছে নিয়মের মধ্যে পড়ে। ক্ষমতায় এসেছি, ভাগ পাব, এটাই স্বাভাবিক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই না, দুর্নীতিকে নিজের প্রাপ্য মনে করার লড়াই। এটাই বিএনপির “পরিবর্তন”।

এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল ফোন ধরলেন, বললেন “বাইরে আছি, সবুজের সঙ্গে কথা বলেন” বলে কেটে দিলেন। চমৎকার দায়িত্ববোধ। নিজের নামে ৩০ শতাংশ কাটা যাচ্ছে, সেটা নিয়ে কথা বলার সময় নেই। ব্যস্ত মানুষ বলে কথা!

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ভোটের কথা মনে আছে তো। কোন বড় দল ছিল না, জনগণের বড় অংশ ভোট দেয়নি, যা হয়েছে সেটাকে নির্বাচন বলা আর বিরিয়ানিকে পান্তাভাত বলা একই কথা। সেই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসা সরকারের এমপিদের নামে ত্রাণের চাল ভাগ হচ্ছে সরকার গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। বাংলাদেশের মানুষ এই দৃশ্য আগেও দেখেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬, হাওয়া ভবন ও তার রাজপুত্রদ্বয়ের উৎপাত, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দলীয়করণ, গরিবের ত্রাণ থেকে চাঁদাবাজি। সেই অধ্যায় আবার খুলছে, শুধু চরিত্রগুলোর বয়স একটু বেশি হয়েছে।

বিএনপি তখনও বলত “আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়ছি।” এখনও বলছে। সেই লড়াইয়ের ফল হলো গরিবের মুখের ভাত সাহেবদের থার্টি পার্সেন্ট হয়ে যাওয়া।

শামসুজ্জামান সবুজ অস্বীকার করেছেন। ভালো কথা। কিন্তু অডিও তো অস্বীকার করে না। ফোনের ওপাশের গলা অস্বীকার করে না। “১০০৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন, সবুজকে চেনা লাগবে না” এই কথাগুলো বাতাসে মিলিয়ে যায় না, রেকর্ড হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা চিরন্তন ট্র্যাজেডি হলো এই যে, যারা ক্ষমতার বাইরে থাকে তারা নিজেদের মহান ভাবে, ক্ষমতায় গেলেই ভুলে যায় মহানত্বের কথা। বিএনপি বছরের পর বছর বলেছে দেশে দুর্নীতি হচ্ছে, লুট হচ্ছে, জনগণের অধিকার নেই। কিন্তু সেই কথা বলতে বলতে মুখে যত ফেনা উঠেছে, ক্ষমতায় বসার পর সেই ফেনা মুছতেও সময় লাগেনি। সরকার গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গরিবের ত্রাণের ভাগ চাই। এত বছরের “আন্দোলন-সংগ্রাম” এই জায়গায় এসে ঠেকল।

বিএনপি আসলে হচ্ছে সেই চোর, যে না নিজে কখনো বদলায়, না বদলায় তার চুরির কায়দা!

ভিজিএফের চাল। মানে গরিবের চাল। দুর্যোগে, সংকটে যে চাল রাষ্ট্র বরাদ্দ করে সেই মানুষগুলোর জন্য যাদের পেটে ভাত নেই। সেই চালের ৩০ শতাংশ চাই। এমপি সাহেবের পাওনা। ফোনে কথা হচ্ছে, রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে, ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। আর বিএনপি নেতা বলছেন, “আমি দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছি।”

হ্যাঁ, লড়াই করেছেন। গরিবের মুখের ভাতের ভাগ নেওয়ার লড়াই।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে যা ঘটেছে সেটা এমন একটা সিস্টেমের নমুনা, যে সিস্টেম বিএনপি বাংলাদেশে চালু করেছিল ২০০১ সালে, আবার ফিরিয়ে এনেছে ২০২৬ সালে। মাঝখানে ১৭ বছর “অধিকার আদায়ের” নাটক করে এখন ক্ষমতায় বসেই পুরনো ধান্দায় নেমে পড়েছে। এত দ্রুত! ক্ষমতায় আসতে না আসতেই ত্রাণের চাল ভাগ-বাটোয়ারার ফোনালাপ ভাইরাল। রেকর্ড গতি বলতেই হবে!

অডিওতে যেটা শোনা গেছে সেটা শুধু টাকাপয়সার দুর্নীতির গল্প না, ওটা একটা মানসিকতার গল্প। গরিবের ত্রাণের চাল নিয়ে ফোনে দরকষাকষি হচ্ছে, আর সেই কথোপকথনে একটুও জড়তা নেই, লজ্জা নেই, থামাথামি নেই। একদম স্বাভাবিক গলায়, যেন ব্যবসায়িক লেনদেনের হিসাব মেলানো হচ্ছে। এই স্বাভাবিকতাটাই সবচেয়ে ভয়ের। মানে এটা এই লোকের কাছে অস্বাভাবিক কিছু না, এটা তার কাছে নিয়মের মধ্যে পড়ে। ক্ষমতায় এসেছি, ভাগ পাব, এটাই স্বাভাবিক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই না, দুর্নীতিকে নিজের প্রাপ্য মনে করার লড়াই। এটাই বিএনপির “পরিবর্তন”।

এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল ফোন ধরলেন, বললেন “বাইরে আছি, সবুজের সঙ্গে কথা বলেন” বলে কেটে দিলেন। চমৎকার দায়িত্ববোধ। নিজের নামে ৩০ শতাংশ কাটা যাচ্ছে, সেটা নিয়ে কথা বলার সময় নেই। ব্যস্ত মানুষ বলে কথা!

ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ভোটের কথা মনে আছে তো। কোন বড় দল ছিল না, জনগণের বড় অংশ ভোট দেয়নি, যা হয়েছে সেটাকে নির্বাচন বলা আর বিরিয়ানিকে পান্তাভাত বলা একই কথা। সেই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসা সরকারের এমপিদের নামে ত্রাণের চাল ভাগ হচ্ছে সরকার গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। বাংলাদেশের মানুষ এই দৃশ্য আগেও দেখেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬, হাওয়া ভবন ও তার রাজপুত্রদ্বয়ের উৎপাত, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দলীয়করণ, গরিবের ত্রাণ থেকে চাঁদাবাজি। সেই অধ্যায় আবার খুলছে, শুধু চরিত্রগুলোর বয়স একটু বেশি হয়েছে।

বিএনপি তখনও বলত “আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়ছি।” এখনও বলছে। সেই লড়াইয়ের ফল হলো গরিবের মুখের ভাত সাহেবদের থার্টি পার্সেন্ট হয়ে যাওয়া।

শামসুজ্জামান সবুজ অস্বীকার করেছেন। ভালো কথা। কিন্তু অডিও তো অস্বীকার করে না। ফোনের ওপাশের গলা অস্বীকার করে না। “১০০৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন, সবুজকে চেনা লাগবে না” এই কথাগুলো বাতাসে মিলিয়ে যায় না, রেকর্ড হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা চিরন্তন ট্র্যাজেডি হলো এই যে, যারা ক্ষমতার বাইরে থাকে তারা নিজেদের মহান ভাবে, ক্ষমতায় গেলেই ভুলে যায় মহানত্বের কথা। বিএনপি বছরের পর বছর বলেছে দেশে দুর্নীতি হচ্ছে, লুট হচ্ছে, জনগণের অধিকার নেই। কিন্তু সেই কথা বলতে বলতে মুখে যত ফেনা উঠেছে, ক্ষমতায় বসার পর সেই ফেনা মুছতেও সময় লাগেনি। সরকার গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গরিবের ত্রাণের ভাগ চাই। এত বছরের “আন্দোলন-সংগ্রাম” এই জায়গায় এসে ঠেকল।

বিএনপি আসলে হচ্ছে সেই চোর, যে না নিজে কখনো বদলায়, না বদলায় তার চুরির কায়দা!

আরো পড়ুন

সর্বশেষ