রানা শহীদ কল্লোলের গোল্ড সিন্ডিকেট, আর বিএনপির আশীর্বাদে যেভাবে চলছে এই কারবার

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একটা কথা বারবার শোনা যাচ্ছে যে দলটা নাকি “নতুন বাংলাদেশ” গড়বে। কিন্তু যশোরের বেনাপোল সীমান্তে গিয়ে দেখুন, সেই নতুন বাংলাদেশের চেহারাটা আসলে কেমন। সোনার বার পাচার হচ্ছে, একজন মৃত মানুষের স্ত্রীকে ফোন করে বলা হচ্ছে সোনা ফেরত দাও নইলে ছেলেকে মেরে ফেলব, আর এই কাজগুলো করছে বিএনপির যুবদলের পদধারী নেতারা। এটা কোনো অভিযোগ না, এটা রেকর্ড করা অডিওতে আছে, গোয়েন্দাদের কাছে আছে, এবং এখন সংবাদমাধ্যমেও এসে গেছে।

যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে গোল্ড শহীদ, আর মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল। এই তিনজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা কেবল একটা ছিনতাইয়ের গল্প না। অভিযোগ হলো এরা একটা সংগঠিত সোনা পাচার চক্রের সক্রিয় অংশ। আর সেই চক্র চলছে বিএনপির রাজনৈতিক ছায়ার নিচে বসে।

হিরা খাতুন নামের একজন নারীর কথা ভাবুন। তার স্বামী আলী আহমেদ মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে গোল্ড শহীদ আর তার লোকজনের ধারাবাহিক হুমকি আর মানসিক চাপে স্ট্রোক করেছিলেন বলে পরিবারের দাবি। স্বামী মরে যাওয়ার পরেও থামেনি। এরপরেও ফোন আসছে, হুমকি আসছে, সোনার বার ফেরত দেওয়ার দাবি আসছে। একজন বিধবা নারীকে তার সন্তানকে হত্যার ভয় দেখানো হচ্ছে। আর এই কাজটা করছে যুবদলের নেতারা। এর পরেও কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন বিএনপি আর তার অঙ্গসংগঠনের চরিত্র কী, তাহলে এই একটা ঘটনাই যথেষ্ট জবাব।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে যুবদল নেতা কল্লোলের কণ্ঠে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নাম ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে চাপ দেওয়া হচ্ছে পাচার হওয়া সোনা মেটানোর জন্য। প্রতিমন্ত্রী সরাসরি জড়িত কি না সেটা তদন্তের বিষয়। কিন্তু তার নাম যে এভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষজন যে এই কারবারে আছে, এটা তো আর অজানা না। একাধিকবার ফোন করা হয়েছে তাকে, এসএমএস করা হয়েছে, কোনো জবাব নেই। একজন মন্ত্রী যদি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব না দেন, তাহলে সেই নীরবতার অর্থ মানুষ নিজেই বুঝে নেয়।

বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে একটা বিশেষ পথে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, সেই নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না। মানুষ ভোট দিতে যায়নি। যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নেই, প্রতিযোগিতাই নেই, জনগণের অংশগ্রহণই নেই, সেই নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় বসা একটা সরকারের মন্ত্রীসভার নাম উঠছে সোনা পাচারের অডিওতে। এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই একটা বাক্যে পুরো বিএনপির চরিত্র বোঝা যায়। “প্রমাণ হলে।” অডিও আছে, গোয়েন্দা তথ্য আছে, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ আছে, গাড়ি উদ্ধার হয়েছে, সংবাদমাধ্যম রিপোর্ট করেছে। এর পরেও “প্রমাণের” অপেক্ষা? এই “প্রমাণের অপেক্ষা” আসলে কোনো আইনি অবস্থান না, এটা সময়ক্ষেপণের কৌশল। এটা নিজের লোককে আড়াল করার পুরনো ভাষা।

এই দলটার জন্ম হয়েছিল সেনানিবাসে। জিয়াউর রহমান বন্দুকের জোরে ক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক বৈধতার জন্য একটা দল বানিয়েছিলেন। সেই দলের ডিএনএতে গণতন্ত্র কোনোদিন ছিল না, এখনো নেই। ক্ষমতায় থাকলে লুট, ক্ষমতার বাইরে থাকলে সীমান্তে সোনার কারবার। রাজনীতিটা এদের কাছে আসলে ব্যবসার লাইসেন্স।

যশোরের মানুষ এখন ভয়ে আছে। স্থানীয় সূত্র বলছে একটা নীরব আতঙ্ক চলছে এলাকায়। কারণ যারা হুমকি দিচ্ছে তারা দলীয় পরিচয়ের আড়ালে আছে, প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব আছে, এবং তারা জানে এই দেশে জবাবদিহিতার ব্যবস্থাটা কতটা ঠুনকো। একজন নারী তার মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া গাড়ি ফেরত পেতে আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছেন। এই একটা তথ্যই বলে দেয় সাধারণ মানুষ এই মুহূর্তে কতটা একা।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একটা কথা বারবার শোনা যাচ্ছে যে দলটা নাকি “নতুন বাংলাদেশ” গড়বে। কিন্তু যশোরের বেনাপোল সীমান্তে গিয়ে দেখুন, সেই নতুন বাংলাদেশের চেহারাটা আসলে কেমন। সোনার বার পাচার হচ্ছে, একজন মৃত মানুষের স্ত্রীকে ফোন করে বলা হচ্ছে সোনা ফেরত দাও নইলে ছেলেকে মেরে ফেলব, আর এই কাজগুলো করছে বিএনপির যুবদলের পদধারী নেতারা। এটা কোনো অভিযোগ না, এটা রেকর্ড করা অডিওতে আছে, গোয়েন্দাদের কাছে আছে, এবং এখন সংবাদমাধ্যমেও এসে গেছে।

যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে গোল্ড শহীদ, আর মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল। এই তিনজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা কেবল একটা ছিনতাইয়ের গল্প না। অভিযোগ হলো এরা একটা সংগঠিত সোনা পাচার চক্রের সক্রিয় অংশ। আর সেই চক্র চলছে বিএনপির রাজনৈতিক ছায়ার নিচে বসে।

হিরা খাতুন নামের একজন নারীর কথা ভাবুন। তার স্বামী আলী আহমেদ মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে গোল্ড শহীদ আর তার লোকজনের ধারাবাহিক হুমকি আর মানসিক চাপে স্ট্রোক করেছিলেন বলে পরিবারের দাবি। স্বামী মরে যাওয়ার পরেও থামেনি। এরপরেও ফোন আসছে, হুমকি আসছে, সোনার বার ফেরত দেওয়ার দাবি আসছে। একজন বিধবা নারীকে তার সন্তানকে হত্যার ভয় দেখানো হচ্ছে। আর এই কাজটা করছে যুবদলের নেতারা। এর পরেও কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন বিএনপি আর তার অঙ্গসংগঠনের চরিত্র কী, তাহলে এই একটা ঘটনাই যথেষ্ট জবাব।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে যুবদল নেতা কল্লোলের কণ্ঠে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নাম ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে চাপ দেওয়া হচ্ছে পাচার হওয়া সোনা মেটানোর জন্য। প্রতিমন্ত্রী সরাসরি জড়িত কি না সেটা তদন্তের বিষয়। কিন্তু তার নাম যে এভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষজন যে এই কারবারে আছে, এটা তো আর অজানা না। একাধিকবার ফোন করা হয়েছে তাকে, এসএমএস করা হয়েছে, কোনো জবাব নেই। একজন মন্ত্রী যদি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব না দেন, তাহলে সেই নীরবতার অর্থ মানুষ নিজেই বুঝে নেয়।

বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে একটা বিশেষ পথে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, সেই নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ছিল না। মানুষ ভোট দিতে যায়নি। যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নেই, প্রতিযোগিতাই নেই, জনগণের অংশগ্রহণই নেই, সেই নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় বসা একটা সরকারের মন্ত্রীসভার নাম উঠছে সোনা পাচারের অডিওতে। এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণ হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই একটা বাক্যে পুরো বিএনপির চরিত্র বোঝা যায়। “প্রমাণ হলে।” অডিও আছে, গোয়েন্দা তথ্য আছে, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ আছে, গাড়ি উদ্ধার হয়েছে, সংবাদমাধ্যম রিপোর্ট করেছে। এর পরেও “প্রমাণের” অপেক্ষা? এই “প্রমাণের অপেক্ষা” আসলে কোনো আইনি অবস্থান না, এটা সময়ক্ষেপণের কৌশল। এটা নিজের লোককে আড়াল করার পুরনো ভাষা।

এই দলটার জন্ম হয়েছিল সেনানিবাসে। জিয়াউর রহমান বন্দুকের জোরে ক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক বৈধতার জন্য একটা দল বানিয়েছিলেন। সেই দলের ডিএনএতে গণতন্ত্র কোনোদিন ছিল না, এখনো নেই। ক্ষমতায় থাকলে লুট, ক্ষমতার বাইরে থাকলে সীমান্তে সোনার কারবার। রাজনীতিটা এদের কাছে আসলে ব্যবসার লাইসেন্স।

যশোরের মানুষ এখন ভয়ে আছে। স্থানীয় সূত্র বলছে একটা নীরব আতঙ্ক চলছে এলাকায়। কারণ যারা হুমকি দিচ্ছে তারা দলীয় পরিচয়ের আড়ালে আছে, প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব আছে, এবং তারা জানে এই দেশে জবাবদিহিতার ব্যবস্থাটা কতটা ঠুনকো। একজন নারী তার মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া গাড়ি ফেরত পেতে আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছেন। এই একটা তথ্যই বলে দেয় সাধারণ মানুষ এই মুহূর্তে কতটা একা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ