সমঝোতার নির্বাচন, চেনা মুখ, পুরনো খেলা : প্রতিশোধ নাকি বিচার, ফারাকটা বিএনপি বোঝে কি?

জাতীয় দৈনিকসমূহ লিখছে, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। এক এগারোর কুশীলব হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিএনপি ভাঙার উসকানি দিয়েছেন, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর তত্ত্বাবধান করেছেন। সম্প্রতি লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আর লে. জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাখাওয়াত হোসেনও এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে।

এই খবরে অনেকে বলছেন তারেক রহমান প্রতিশোধ নিচ্ছেন। কথাটা মিথ্যা নয়। সতেরো বছর আগের কষ্ট বুকে নিয়ে বসে থাকা মানুষ ক্ষমতায় এসে হিসাব চুকাবেন, এটাই স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই হিসাব চুকানোর কাজটা কোথায় গিয়ে থামবে? সাখাওয়াত হোসেনকে ধরা সহজ কারণ তার পুত্রের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রভাব বিস্তার, কমিশন বাণিজ্য আর বিদেশি অপারেটরের হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এই সুতো ধরে তাকে টানা যাবে। কিন্তু যাদের খুঁটি দেশের বাইরে পোঁতা, তাদের কে ধরবে?

ড. ইউনূস এক এগারোর আরেক কুশীলব। প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার সেবারও মিডিয়া পার্টনার ছিল, এবারও ছিল। সেই একই চেহারা, একই কায়দা, একই মঞ্চ। অথচ তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি সরকার কিছুই করবে না, করার সাহস নেই, করার ইচ্ছাও নেই। কারণ তাদের আসল মালিক দেশে থাকেন না।

১২ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন হলো সেটা নিয়ে সারা দেশ জানে আসলে কী হয়েছে। প্রধান প্রধান দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বয়কটের মুখে একটা আসন ভাগাভাগির সমঝোতা হয়েছে। হান্নান মাসুদের মতো মানুষ, যাকে মানুষ চেনে মংলা বন্দর খেয়ে ফেলার জন্য, তাকে এমপি বানিয়ে আনা হয়েছে সেই সমঝোতার নির্বাচনে। এখন তার বিচার কে করবে? যে ব্যবস্থায় তাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, সেই ব্যবস্থাই কি তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে?

এই যে অশুভ চক্র, এর শুরুটা কোথায় সেটা একটু পেছনে গিয়ে দেখা দরকার। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতায় এসে যা করেছিল সেটা বাংলাদেশকে পাকিস্তানি রাজনীতির কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। দশ ট্রাক অস্ত্রের মামলা, ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গিদের সহায়তা, আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক, এগুলো কোনো গল্প নয়।

এরপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, পুরো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে একবারে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে শত্রুতার রাজনীতি তখনই শুরু। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাটাকে কবর দিয়েছিল সেই সরকার, বিচারপতি হাসানকে কয়েক ধাপ টপকিয়ে প্রধান বিচারপতি বানিয়ে। সেই পথ ধরেই এক এগারো। কাজেই এক এগারোর জন্য শুধু মইন বা মাসুদকে দায়ী করলে ইতিহাস লেখা ঠিক হয় না।

এখন বিএনপি সেই একই পথে হাঁটছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিল পাশ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে যা ঘটবে, তার জন্য বিএনপি প্রস্তুত নয়। আওয়ামী লীগকে মাঠের বাইরে পাঠানো গেছে, কিন্তু এখন বাকি থাকে বিএনপি নিজে। উগ্রবাদী শক্তির হিসাবে প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পথে দুটো বাধা, একটা আওয়ামী লীগ, আরেকটা বিএনপি। একটাকে সরানো গেছে। বাকিটা সময়ের ব্যাপার।

আওয়ামী লীগের ভেতরে যেমন গুপ্তরা ঢুকে দলটাকে ফ্রাংকেনস্টাইনে পরিণত করেছিল, বিএনপিতেও একই প্রক্রিয়া চলছে।

জামাত আর এনসিপি বিএনপির মিত্র নয়, এরা বিএনপির আসল শত্রু। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করলে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক ফায়দা নেই। এতে শুধু সেই শক্তির সুবিধা হবে যারা এই দেশকে চেনা বাংলাদেশ থেকে আলাদা একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে – একমুহূর্তে বিএনপি এটা না বুঝলে কিছু করার নাই আসলে আর!

জাতীয় দৈনিকসমূহ লিখছে, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। এক এগারোর কুশীলব হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিএনপি ভাঙার উসকানি দিয়েছেন, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যোগাযোগ রক্ষা করেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর তত্ত্বাবধান করেছেন। সম্প্রতি লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আর লে. জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাখাওয়াত হোসেনও এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে।

এই খবরে অনেকে বলছেন তারেক রহমান প্রতিশোধ নিচ্ছেন। কথাটা মিথ্যা নয়। সতেরো বছর আগের কষ্ট বুকে নিয়ে বসে থাকা মানুষ ক্ষমতায় এসে হিসাব চুকাবেন, এটাই স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই হিসাব চুকানোর কাজটা কোথায় গিয়ে থামবে? সাখাওয়াত হোসেনকে ধরা সহজ কারণ তার পুত্রের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রভাব বিস্তার, কমিশন বাণিজ্য আর বিদেশি অপারেটরের হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এই সুতো ধরে তাকে টানা যাবে। কিন্তু যাদের খুঁটি দেশের বাইরে পোঁতা, তাদের কে ধরবে?

ড. ইউনূস এক এগারোর আরেক কুশীলব। প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার সেবারও মিডিয়া পার্টনার ছিল, এবারও ছিল। সেই একই চেহারা, একই কায়দা, একই মঞ্চ। অথচ তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি সরকার কিছুই করবে না, করার সাহস নেই, করার ইচ্ছাও নেই। কারণ তাদের আসল মালিক দেশে থাকেন না।

১২ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন হলো সেটা নিয়ে সারা দেশ জানে আসলে কী হয়েছে। প্রধান প্রধান দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বয়কটের মুখে একটা আসন ভাগাভাগির সমঝোতা হয়েছে। হান্নান মাসুদের মতো মানুষ, যাকে মানুষ চেনে মংলা বন্দর খেয়ে ফেলার জন্য, তাকে এমপি বানিয়ে আনা হয়েছে সেই সমঝোতার নির্বাচনে। এখন তার বিচার কে করবে? যে ব্যবস্থায় তাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, সেই ব্যবস্থাই কি তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে?

এই যে অশুভ চক্র, এর শুরুটা কোথায় সেটা একটু পেছনে গিয়ে দেখা দরকার। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতায় এসে যা করেছিল সেটা বাংলাদেশকে পাকিস্তানি রাজনীতির কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। দশ ট্রাক অস্ত্রের মামলা, ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গিদের সহায়তা, আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক, এগুলো কোনো গল্প নয়।

এরপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, পুরো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে একবারে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে শত্রুতার রাজনীতি তখনই শুরু। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাটাকে কবর দিয়েছিল সেই সরকার, বিচারপতি হাসানকে কয়েক ধাপ টপকিয়ে প্রধান বিচারপতি বানিয়ে। সেই পথ ধরেই এক এগারো। কাজেই এক এগারোর জন্য শুধু মইন বা মাসুদকে দায়ী করলে ইতিহাস লেখা ঠিক হয় না।

এখন বিএনপি সেই একই পথে হাঁটছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিল পাশ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে যা ঘটবে, তার জন্য বিএনপি প্রস্তুত নয়। আওয়ামী লীগকে মাঠের বাইরে পাঠানো গেছে, কিন্তু এখন বাকি থাকে বিএনপি নিজে। উগ্রবাদী শক্তির হিসাবে প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পথে দুটো বাধা, একটা আওয়ামী লীগ, আরেকটা বিএনপি। একটাকে সরানো গেছে। বাকিটা সময়ের ব্যাপার।

আওয়ামী লীগের ভেতরে যেমন গুপ্তরা ঢুকে দলটাকে ফ্রাংকেনস্টাইনে পরিণত করেছিল, বিএনপিতেও একই প্রক্রিয়া চলছে।

জামাত আর এনসিপি বিএনপির মিত্র নয়, এরা বিএনপির আসল শত্রু। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করলে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক ফায়দা নেই। এতে শুধু সেই শক্তির সুবিধা হবে যারা এই দেশকে চেনা বাংলাদেশ থেকে আলাদা একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে – একমুহূর্তে বিএনপি এটা না বুঝলে কিছু করার নাই আসলে আর!

আরো পড়ুন

সর্বশেষ