১৯৭২ সালের সংবিধান শুধু একটি আইনগত দলিল নয়, বরং একটি স্বাধীন জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। এই সংবিধানের মূল নীতিমালা প্রণয়নে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান যিনি ছিলেন এ দেশের গণতন্ত্রের স্থপতি। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেই আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি, যেখানে লাল-সবুজের পতাকা আমাদের গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ ৫৪ বছর পর আজ আমরা সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে নানা মতাদর্শিক বিতর্কের মুখোমুখি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সংবিধান সংশোধন ও নানা জটিলতার কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি জাতির সংবিধান শুধু আইনের কাঠামো নয় এটি সেই জাতির ইতিহাস, সংগ্রাম ও চেতনার প্রতিফলন। এই সংবিধানের প্রতিটি ধারা বহন করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার।
মানুষ এই পৃথিবীতে একবারই জন্মগ্রহণ করে এবং একবারই মৃত্যুবরণ করে। তেমনি একটি জাতির স্বাধীনতার ইতিহাসও একবারই সৃষ্টি হয়। যিনি এই দেশকে স্বাধীনতার পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁর অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান না থাকলে আজকের বাংলাদেশ কল্পনাও করা যেত না।
এই দেশের মাটি ও মানুষ যতদিন থাকবে, ততদিন ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল চেতনা অটুট থাকবে এটাই আমাদের বিশ্বাস। সংবিধান পরিবর্তনের যে কোনো উদ্যোগ গ্রহণের আগে জাতির ইতিহাস, মূল্যবোধ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায়, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
একই সঙ্গে জনগণ আজ সচেতন এবং তারা স্বাধীনতা বিরোধী যেকোনো আশফালন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংবিধান বাতিল বা এর মৌলিক ভিত্তিতে আঘাত হানার মতো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে, তা জনগণ কখনোই সহজভাবে মেনে নেবে না। কারণ এই সংবিধানই তাদের অধিকার, স্বাধীনতা ও জাতীয় অস্তিত্বের প্রতীক।
সংবিধান লঙ্ঘনের যেকোনো অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে ইতিহাস তার সাক্ষী। যারা আইন ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, তাদের পরিণতি কখনোই শুভ হয় না। তাই আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

